
‘পাগল’ ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামান
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা শিক্ষক অধ্যাপক জেফ্রি ডি স্যাকশ মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের কাছে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।
বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার আখতার হুসেন, প্রিয় আখতার ভাই আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন। প্রায় ৬০ বছর ধরে তিনি শিশুতোষ ছড়ার যে ভুবন তৈরি করছিলেন, তার সমাপ্তি হলো। ছড়া লিখে সবার মন অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে দেওয়ার মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে অনন্তের পথে চলে গেলেন।
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
আখতার হুসেন ছড়ার পাশাপাশি গল্প–কবিতা ও গানও লিখেছেন। তার কয়েকটি গান ছিল উদ্দীপনা জাগানো। আর কোনো দিন তিনি ছড়া, গল্প বা গান লিখবেন না। তার মৃত্যুতে দেশের শিশুসাহিত্যে সৃষ্টি হলো বিরাট এক শূন্যতা।
শুধু এক প্রজন্ম নয়, বহু প্রজন্মের শিশুর শৈশবের সঙ্গে মিশে আছে আখতার হুসেনের ছড়া। তার ছড়া পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার সময় শব্দের সঙ্গে খেলতে খেলতে এগিয়ে যেতে পারে, তার ছড়ায় ছিল সেই স্বাভাবিক ছন্দ। ছড়ার ভাষা ছিল খুব সহজ ও স্বাভাবিক। অসংখ্য শিক্ষার্থীর মনের মধ্যে তার ছড়া জায়গা করে নিয়েছে। ছড়া, গল্প ও গানে তিনি শিশুদের জগৎকে সুন্দর ও সাহসী করে তুলেছেন।
তার লেখা একটি কালজয়ী গান বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তার ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা/ আজ রুখবে তাদের কারা’ গানটি স্বাধীনতাকামী মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছে। শিল্পী তিমির নন্দীর গাওয়া এই গানটির সুর দিয়েছিলেন সুরকার অজিত রায়।
আখতার ভাই স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর পর কাজের সন্ধানে জার্মানি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সম্ভবত ১৯৮৩–৮৪ সালে ফিরে আসেন। আমি তখন সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানীতে কাজ করি। একদিন সেখানে আসেন আখতার ভাই। তার ছড়ার সঙ্গে পরিচিত ছিলাম আগেই। সেদিন তার সঙ্গে আমার সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়। সেই পরিচয় ক্রমে আরও গভীর হয়। তিনি বয়সে আমার অনেক বড় ছিলেন। কিন্তু মিশতেন বন্ধুর মতো। পরবর্তীতে অনেক বছর আমরা সহকর্মী ছিলাম। তিনি আমার প্রিয় মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আমাকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। সে হিসেবে তিনি আমার গুরুর মতো। অনেক মজার স্মৃতি আমার তার সঙ্গে। তার ভালোবাসা ও মানবিক রূপ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।
আখতার হুসেন অনেক দিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সর্বশেষ তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। শরীরে রক্তচাপও কমে গিয়েছিল। শারীরিক জটিলতার কারণে প্রথমে তাকে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে বারডেম হাসপাতালে আনা হয়। এরপর তাকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে আবার নেওয়া হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত শুক্রবার থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে আখতার হেসেন আর আমাদের মাঝে নেই। দুপুর ১টা নাগাদ তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
মৃত্যুসংবাদটি শুনে আমি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছিলাম। যেকোনো মৃত্যুর খবরই ভারী, কিন্তু যে মানুষটির স্নেহের সঙ্গে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আত্মিক টান তৈরি হয়েছিল, তার চিরবিদায়ের সংবাদটি বুকের মধ্যে অন্য রকম এক হাহাকার তৈরি করেছিল।
আখতার হুসেন, আমাদের আখতার ভাই অত্যন্ত সাদাসিধে, আন্তরিক ও সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ ছিলেন। শিশুতোষ লেখা লিখতেন, তাই হয়তো তার স্বভাবও ছিল শিশুসুলভ। খুব সহজে অন্যের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। খ্যাতির মোহে তিনি পড়েননি। আপন মনে নিজের কাজ করে গেছেন।
তিনি নিয়মিত বই কিনতেন, পড়তেন। কারও কাছে দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সন্ধান পেলে ফটোকপি করে সংগ্রহ করতেন। তার আয়ের একটা অংশ তিনি ব্যয় করতেন বই কিনতে। আমাকেও অনেক বই তিনি সংগ্রহ করে দিয়েছেন।
আখতার হুসেন ছাত্রজীবনে বাম চিন্তাধারায় যুক্ত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। জড়িত ছিলেন শিশুসংগঠন খেলাঘর ও উদীচীর সঙ্গে। খেলাঘরের সঙ্গে জড়িত থাকাকালে সংগঠক হিসেবে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। সংগঠনটির প্রথম দিকের বহু নাটক রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন তিনি।
ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের জনপ্রিয় সংগঠন সংগীত ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’ তারই লেখা।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ তিনি সর্বাধিকসংখ্যক লেখা (ভুক্তি) লিখে বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছেন।
আখতার হুসেন পৈতৃক নিবাস নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা টি আই এম সিকান্দার ও মা আয়শা খাতুন। বাবার রেলওয়ের চাকরিসূত্রে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে খুলনা, গফরগাঁও, কুলাউড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
৮১ বছর বয়সে তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এই জীবনে তিনি আমাদের অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। ছড়া ও শিশুতোষ মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী, অনুবাদ, সম্পাদিত গ্রন্থসহ তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—‘আমার দুটো ডানা’, ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘কর্ণকুসুম ও কালোপাখার প্রজাপতি’, ‘খেলাঘরের পুতুলগুলো’ ও ‘ছোটদের চারণ কবি মুকুন্দদাস’।
তার ছড়ার ভাষা ছিল সহজ, প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিক। তার অনেক ছড়া বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে স্থান পেয়েছে।
এসব গ্রন্থের মধ্য দিয়েই তিনি অমর হয়ে থাকবেন। থেকে যাবেন শিশুদের নির্মল চিত্তে। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
লেখক: সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক

‘পাগল’ ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামান
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা শিক্ষক অধ্যাপক জেফ্রি ডি স্যাকশ মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের কাছে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

বোয়িং দিয়ে কি সাধারণ মানুষের পেট ভরবে?
কেনাকাটা মানেই হচ্ছে প্রয়োজন মেটানো। অন্তত এই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে কেনাকাটা মানে সেটাই। কথা হলো, প্রয়োজনটা কোন ঘরানার আসলে। বিত্তভেদে এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ অতীব বা আবশ্যিক প্রয়োজন মেটাতেই বাজারে যায়। যদিও বিত্তবানদের হিসাব আলাদা। বিত্তবানদের যেটা প্রয়োজন, সেটা এই দেশের সিংহভাগ মানুষের

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: যে বীরকন্যাকে আমরা ভুলে গেছি
১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণের নেতৃত্ব দেন এক তরুণী–প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ১৯১১ সালে চট্টগ্রামে জন্ম হওয়া এই তরুণী বেথুন কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলেছিলেন তিনি। সফল আক্রমণের পর ধরা পড়ার অপমান এড়াতে পটাশিয়াম সা

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই এগিয়ে যেতে চায় তার মিত্ররা?
১৯১৭ সাল। উত্তর ফ্রান্সের ভিমি রিজে কানাডার সেনারা তখন যুদ্ধ করছিল। সেই সময়ে লেফটেন্যান্ট লেসলি মিলার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কিছু ওক গাছের বীজ সংগ্রহ করে কানাডার অন্টারিওতে নিয়ে যান। আর এর প্রায় এক শতাব্দী পর সেই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া ওক গাছের চারা আবার ফ্রান্সে পাঠানো হয়।