Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

তারেক রহমান কি ‘আধুনিক বাংলাদেশ’ গড়ার পথে হাঁটবেন?

ড. এন এন তরুণ চক্রবর্ত্তী

ড. এন এন তরুণ চক্রবর্ত্তী

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ০৪
তারেক রহমান কি ‘আধুনিক বাংলাদেশ’ গড়ার পথে হাঁটবেন?

সতেরো বছর আগে যখন তারেক রহমান দেশত্যাগ করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যখন তিনি ফিরে এলেন, এই দুই সময়ের মানুষটি কি একই? আমার জানামতে, প্রায় সবার উত্তরই হবে ‘না’। তিনি বাস করেছেন বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত দেশে, যে দেশে শিল্প বিপ্লবের শুরু হয়েছিল, যেখানে প্রথম রাষ্ট্রের ওপর থেকে চার্চের কর্তৃত্ব তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং জন্ম নিয়েছিল ম্যাগনা কার্টা। ইতালিতে শুরু হওয়া রেনেসাঁও দ্রুতই পৌঁছেছিল এই দেশে।

Advertisement

তিনি ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক সংস্কৃতি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানকার নেতাদের যুক্তি দিয়ে বিতর্ক করা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং বাকস্বাধীনতার চর্চার প্রতিফলন তারেক রহমানের মধ্যেও দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, বিমানবন্দরে তিনি নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করেছেন, এমনকি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও নিজের কোট তিনি অন্য কারও হাতে তুলে দেননি।

ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে তার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যেও আধুনিকতার স্পষ্ট ছাপ ছিল। যেমন তিনি বলেছিলেন, “আমাকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সম্বোধন করবেন না”, “আমার জন্মদিনে কেক কাটবেন না”, “আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, একজন প্রধানমন্ত্রীও যেন স্বৈরাচারী হতে না পারেন”, “ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে না”, “একই ব্যক্তি একইসাথে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান হতে পারবেন না”, এবং “কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।”

হাসিনা সরকারের পতনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা, ধর্ম যার যার কিন্তু নিরাপত্তা সবার–এই ঘোষণা, প্রতিহিংসা পরিহারের ডাক এবং মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গীকার তার পরিপক্কতা ও বিচক্ষণতারই প্রমাণ দেয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, পারবে তারেক সরকার?tarique rahman

এক বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে। রাষ্ট্রকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য গান শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, অভিনয় এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি যখন ঘোষণা করেন, “অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে,” তখন তার বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির এক বিস্ময়কর উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এবং তার পূর্বসূরিদের অনেককেই ছাড়িয়ে গেছেন।

তবে পরিবর্তনের জন্য শুধু এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাই যথেষ্ট নয়। একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যকে দলের আদর্শিক ভিত্তির অংশ হতে হবে, স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে এবং প্রতিটি কর্মীর মনে একে স্বপ্ন হিসেবে গেঁথে দিতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে, আধুনিক রাষ্ট্র বলতে আসলে কী বোঝায় তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সংক্ষেপে, একটি রাষ্ট্রকে তখনই আধুনিক বলা যেতে পারে যদি সেটি ফরাসি বিপ্লবের মূলনীতি ও মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করে। এর প্রধান শর্ত হলো রাষ্ট্র পরিচালিত হবে মানুষের তৈরি আইন দ্বারা, কোনো সম্রাটের আদেশ বা ঐশ্বরিক বিধানের মাধ্যমে নয়। ‘ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স’ আমাদের শেখায়, মহাবিশ্বের সবকিছুই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়, এমনকি প্রাণিজ ও উদ্ভিদ জগতের জিনও বিবর্তিত হয়। সুতরাং, কোনো আইনই অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈধ থাকতে পারে না। নতুন যুগের জন্য প্রয়োজন নতুন আইন। পরিবর্তনের এই ধারাকে গ্রহণ করে নেওয়াই হলো আধুনিকতার মূল কথা।

সতেরো ও আঠারো শতকের ইউরোপীয় এনলাইটেনমেন্ট পশ্চিমা বিশ্বে এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছিল। যার মূল বার্তা ছিল বিশ্বাসের পরিবর্তে যুক্তির ওপর নির্ভরতা, বিমূর্ত আবেগের চেয়ে বস্তুগত বাস্তবতার প্রাধান্য এবং জাগতিক মানবিক বিষয়াবলির ওপর গুরুত্বারোপ।

‘এনলাইটেনমেন্টই’ ফরাসি বিপ্লবের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি করেছিল। তাই এর কিছু মূল ধারণা পর্যালোচনা করলে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের স্বরূপ বোঝা সহজ হয়। এনলাইটেনমেন্টের প্রধান নীতিগুলোর মধ্যে ছিল যুক্তির উদযাপন ও প্রয়োগ, বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে মুক্তি, সেই বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার জাগরণ, যার মাধ্যমে মানুষ মহাবিশ্বকে বুঝতে পারে এবং সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে। জ্ঞান, স্বাধীনতা ও সুখের অন্বেষণকে যুক্তিবাদী মানবজাতির লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করাও এর নীতি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তারেক রহমান, সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: ফেসবুক
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তারেক রহমান, সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: ফেসবুক

বাংলাদেশের সমাজে যখন জ্ঞানচর্চা, বিজ্ঞান এবং দর্শনের চরম খরা চলছে, তখন ফরাসি বিপ্লবের আগের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়টি স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি। আঠারো শতকের ফ্রান্সে ভলতেয়ার এবং জঁ-জ্যাক রুশোর মতো দূরদর্শী চিন্তাবিদ ও লেখকরা বিপুল পরিমাণ সাহিত্য রচনা শুরু করেন। এসব কাজে রাষ্ট্র, রাজনীতি, সমাজ, মহাবিশ্ব, মানবতা এবং ঈশ্বর সম্পর্কিত দার্শনিক প্রশ্নগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। তাদের এসব লেখাজোকায় তারা মানুষের যুক্তিবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ এই ধারণাগুলো ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছিল। আর এতে তারা আসন্ন বিপ্লবের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে পেরেছিল। এই বিপ্লবের ফলেই সেখানে গভীর পরিবর্তন এসেছিল।

ফরাসি বিপ্লবের শিকড় চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর ইউরোপীয় রেনেসাঁর গভীরে প্রোথিত। রেনেসাঁ ছিল ইউরোপের সাংস্কৃতিক, শৈল্পিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পুনর্জন্মের প্রতীক। এটি ধ্রুপদী দর্শন, সাহিত্য এবং শিল্পের পুনরাবিষ্কারের কাল হিসেবে চিহ্নিত। ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের পতন এবং ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত স্থায়ী তথাকথিত ‘অন্ধকার যুগে’র দীর্ঘ সময় পর এই পুনরাবিষ্কারের জোয়ার আসে। কিন্তু আসলে কী পুনরাবিষ্কৃত হয়েছিল? তা ছিল এই ধারণা যে, মানুষই মহাবিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু, তাই মানুষের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রেও মানুষেরই থাকা উচিত। জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্যের সকল অর্জন জগতের সকল মানুষের প্রাপ্য, যা এই ইহজাগতিক জীবনকে উন্নত করতে ব্যবহৃত হবে।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষার আসল পরীক্ষা কেবল শুরুtariqueed

একই সময়ে ইংল্যান্ডেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন হচ্ছিল। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সেখানে শিল্প বিপ্লবের সূচনা করে। এই বিপ্লব ইউরোপ জুড়ে এবং পরবর্তীতে আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দ্রুত নগরায়ন ঘটে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি আসে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ধারাবাহিকতায় সেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার প্রসার, রাজতন্ত্রের ওপর সংসদীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ১৬৮৯ সালের ‘বিল অফ রাইটস; পাস হওয়া দেখা যায়, যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ধর্ম থেকে পৃথক করে। এর পাশাপাশি ঘটে ‘গ্লোরিয়াস রেভল্যুশন (১৬৮৮–১৬৮৯)’। ইংরেজ ‘বিল অফ রাইটস’ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৭৮৯ সালে নিজস্ব ‘বিল অফ রাইটস’ গ্রহণ করে, যা মানুষের মৌলিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকার এবং ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতা, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া এবং অস্ত্র বহনের অধিকার, এবং ফেডারেল সরকারকে দেওয়া হয়নি এমন সকল ক্ষমতা রাজ্য এবং জনগণের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

ফরাসি বিপ্লবের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি এবং একটি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, যার পাশাপাশি একটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন এবং রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলি থেকে ধর্মকে পৃথক করা। এটি বিপ্লবের তিনটি মূল আদর্শ- সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করে এবং বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ফরাসি বিপ্লব দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মানুষ তাদের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হয় এবং চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে সমাজের ভাগ্য পরিবর্তন করে।

আওয়ামী লীগকে কীভাবে সামলাবে বিএনপি?tarique-rahman-press-confe

এ পর্যন্ত আলোচিত বিপ্লব এবং মানবাধিকারের লড়াইগুলো আমাদের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিপ্লব অর্থাৎ রুশ বিপ্লবের চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন। আগের বিপ্লবগুলো মানুষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের অধিকার সেখানে গুরুত্ব পেলেও রুশ বিপ্লব ছাড়া অন্য কোনো বিপ্লব শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির অধিকার বা তাদের ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক দাবিগুলো প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে, নারী, শ্রমিকসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুক্তি ছাড়া মানুষের মুক্তি অপূর্ণ থেকে যায়। যুক্তি দেওয়া হয় যে, সমাজতান্ত্রিক আদর্শের বাস্তবায়ন ছাড়া এই ধরনের মুক্তি অসম্ভব, কারণ একমাত্র সমাজতান্ত্রিক নীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত রাষ্ট্রই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শ্রমজীবী মানুষকে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রে স্থাপন করে। এই প্রসঙ্গে প্রায়শই প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক উদাহরণটি টেনে আনা হয়।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হার্ভে ম্যানসফিল্ড তার ‘রাইজ অ্যান্ড ফল অফ র‍্যাশনাল কন্ট্রোল’ গ্রন্থে আধুনিক সমাজের একটি সমসাময়িক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, একটি আধুনিক সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জীবনকে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রথার পরিবর্তে যুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত করা। কুসংস্কার এবং সেকেলে সামাজিক রীতিনীতি মানুষকে সংকীর্ণ বস্তুগত লালসার দিকে ধাবিত করে। পক্ষান্তরে যুক্তি মানুষের মধ্যে বিচক্ষণতা ও আত্মসংযম তৈরি করে। সমাজ স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যের সাথে মানিয়ে চলতে প্ররোচিত করে, কিন্তু আধুনিকতায় ব্যক্তির প্রয়োজন যুক্তির মাধ্যমে নিজের জীবনকে গুছিয়ে নেওয়া।

উন্নয়নশীল দেশের মানুষ প্রায়ই উন্নত দেশগুলোতে অভিবাসনের স্বপ্ন দেখে, অথবা অন্তত এই আশা পোষণ করে যে তাদের নিজের দেশও একদিন সেগুলোর মতো উন্নত হবে। কিন্তু প্রতিটি উন্নত দেশকেই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে দীর্ঘ ঐতিহাসিক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। সেই যাত্রার জন্য দুই ধরণের প্রস্তুতির প্রয়োজন- অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতির অগ্রগতি। শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই বিকাশ মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক এবং মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়নেরই বহিঃপ্রকাশ। যদি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এই ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি ব্যাপক সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে, তবে সেই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা অথবা অন্ততপক্ষে তাকে সমর্থন জানানো আমাদের সবার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।

(ইউরেশিয়া রিভিউ থেকে অনূদীত)

বিষয়: প্রধানমন্ত্রীবিএনপিশেখ হাসিনাতারেক রহমানআওয়ামী লীগত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনরাজনীতি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন

  • ২

    উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে উত্তাল চুয়েট, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

  • ৩

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

  • ৪

    বিসিএসের সাফল্য ছাপিয়ে নায়লার স্বপ্ন শিশুদের গড়া

  • ৫

    নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

সম্পর্কিত
  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রতি শব্দের অদ্যাক্ষর নিয়ে মজা করে সংক্ষেপ করতে চাইলে হয়ে যায়, ‘স–স্বা’। এখন এটিকে উচ্চারণের কিঞ্চিৎ সমতার হিসাবে যদি ‘শসা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান, তাতেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে লবণের বিজ্ঞাপনে অবলীলায় শসা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়

  • ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    গত কয়েক মাসে যন্তর মন্তর এলাকায় বেশ জোরদার আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখা গেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের জেরে নতুন করে বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে।

  • পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা অধরা। পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পিটিআই ও সরকারের মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

  • গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনেক মাধ্যম চোখে পড়ে। এখন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, গাইড বই, রেফারেন্স বই ও শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেট, জার্নাল, মাল্টিমিডিয়া, ইউটিউবসহ নানা পরিসর। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য মাধ্যম হয়ে আছে গাইড বই