Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের অর্থনীতি

সৈয়দ ইজাজ আহসান

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ২৮
বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের অর্থনীতি

বিশ্ব আজ এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর পেছনের কারণ সবারই কমবেশি জানা—ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরানের অনুমতি সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে তেল পরিবহন চললেও এর প্রভাব ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ইউএস ডলার ছাড়িয়েছে। এমনকি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। তেলের দামের সঙ্গে অন্য পণ্যের মূল্য সরাসরি সম্পর্কিত। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, আর সেই ব্যয় পণ্যের দামে যুক্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ প্রায় সব খাতেই জ্বালানির ওপর নির্ভরতা রয়েছে। জ্বালানি ছাড়া আধুনিক বিশ্ব একদিনও চলতে পারে না।

যদিও বিকল্প জ্বালানি নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে এখনো তা জীবাশ্ম জ্বালানির কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠেনি। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও এটি স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

এবার বাংলাদেশের প্রসঙ্গে আসা যাক। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমাদের স্পষ্ট করে দেখিয়েছে, জ্বালানির ওপর আমাদের নির্ভরতা কতটা গভীর। বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন—সবই জ্বালানিনির্ভর। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। আমরা যেন ‘সমস্যা হলে দেখা যাবে’—এই মানসিকতায় চলছি। কিন্তু সমস্যা যখন আসে, তখন তা সামাল দেওয়ার মতো অবস্থা থাকে না।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বর্তমান সংকটে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও দোকানপাটের সময় কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদনমুখী খাতে সময় কমালে উৎপাদন হ্রাস পাবে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এটি কোনো টেকসই সমাধান নয়।

সমাধান কী? বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প উৎস হিসেবে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ ও কয়লার কথা বলা হলেও এগুলো এখনো খনিজ তেলের কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা গৃহস্থালি, শিল্প ও পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এর মজুদ দ্রুত কমে আসছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে আমদানিনির্ভরতা বাড়বে।

ধারণা করা হয়, বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে আরও সক্রিয় ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা যেতে পারে।

অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি—যেমন সৌর, বায়ু ও বায়োগ্যাস—খাতে গবেষণা ও বিনিয়োগ এখনো অপর্যাপ্ত। অথচ উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যেগুলোর জন্য বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে। উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে এই অসামঞ্জস্য ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমাদের শিখিয়েছে—জ্বালানির সংকট অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে। যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা অনুমান করা কঠিন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে প্রধানত দুটি খাতের ওপর নির্ভরশীল—গার্মেন্টস শিল্প ও প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ওপর। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি হলে কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে আবাসন, পর্যটন ও বিমান পরিবহন খাতে মন্দার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

এই বাস্তবতায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। প্রথমত, দেশীয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিকল্প জ্বালানির উন্নয়নে গবেষণা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, জ্বালানি সাশ্রয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি—সংকটকালেই নয়, সব সময়ই সাশ্রয়ী হতে হবে।

বাংলাদেশে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল মেধাবী গবেষক রয়েছেন। তাদের সম্পৃক্ত করে জ্বালানি সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

বর্তমান বিশ্বে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তা। এই দুই ক্ষেত্রে সফলতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মরুপ্রধান দেশ হয়েও সৌদি আরব ও ওমান যথাযথ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে। বাংলাদেশেও এই সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু তা পুরোপুরি কাজে লাগানো হচ্ছে না।

খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগতি সত্ত্বেও ভোজ্য তেল ও গমের মতো পণ্যে আমদানিনির্ভরতা রয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও টিকে থাকতে পেরেছে তার জ্বালানি সম্পদ ও কৃষি উৎপাদনের ওপর ভর করে।

বর্তমান সরকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা জনকল্যাণে সহায়ক। তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া সরাসরি আর্থিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান নয়। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি, খাদ্য ও কর্মসংস্থান খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

সময়ের দাবি—পরিকল্পিত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

ড. ইজাজ আহসান: ইমেইল: [email protected]

ফেসবুক: Syed Ahsan

বিষয়: যুদ্ধযুক্তরাষ্ট্রআমেরিকাজ্বালানিমধ্যপ্রাচ্যইরান-ইসরায়েল সংঘাতবিদ্যুৎ ও জ্বালানিবাংলাদেশ
সর্বশেষ
  • ১

    ময়মনসিংহে পেট্রোল ঢেলে যুবককে পুড়িয়ে হত্যা

  • ২

    খুলনায় আওয়ামী লীগের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

  • ৩

    বিদ্যুৎ খাতে নেই সুসংবাদ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

  • ৪

    বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলে নিল হুতিরা

  • ৫

    বরিশালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।