Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

প্রযুক্তি যখন হাতের মুঠোয়, তখন ভাষাগত বিভ্রান্তি কেন?

রহমান মৃধা

রহমান মৃধা

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ১৪
প্রযুক্তি যখন হাতের মুঠোয়, তখন ভাষাগত বিভ্রান্তি কেন?

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ নতুন কিছু নয়। নির্বাচন মানেই বিদেশি পর্যবেক্ষক, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সক্রিয় উপস্থিতি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিদেশি সাংবাদিকদের কথোপকথন হওয়া স্বাভাবিক—বরং একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটি প্রত্যাশিতও। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ভাষাগত দুর্বলতা, ভুল অনুবাদ কিংবা অসম্পূর্ণ বোঝাপড়ার কারণে প্রকৃত বক্তব্য বিকৃত হয়ে যায়।

Advertisement

বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইংরেজি ভাষায় সীমাবদ্ধতার কারণে থমকে যান। কখনো তারা নিজেদের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারেন না, আবার কখনো ভুল শব্দচয়নে বক্তব্যের অর্থই বদলে যায়। এর ফল শুধু ব্যক্তিগত বিব্রতকর পরিস্থিতি নয়; এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা কীভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, তার ওপর।

এই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি ঢাকা-৮ আসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন কভারেজের সময়। সেখানে দেখা গেছে, ৩টি পক্ষই নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সাংবাদিক প্রশ্ন করছেন, কিন্তু প্রশ্নের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক নেতা উত্তর দিতে গিয়ে ভাষাগত জটিলতায় পড়ছেন, ফলে বক্তব্য অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। আর যিনি অনুবাদ করছেন, তিনি না বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য ধরতে পারছেন, না সাংবাদিকের প্রশ্নের সূক্ষ্মতা বোঝাতে পারছেন। ফলে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের বিশৃঙ্খল যোগাযোগ—যেখানে কেউ কাউকে ঠিকভাবে বুঝতে পারছে না, অথচ সেই কথোপকথন থেকেই পরবর্তীতে প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, সমস্যাটি শুধু ভাষা জানা না-জানার নয়; এটি প্রস্তুতি, পেশাগত দক্ষতা এবং দায়িত্ববোধের সম্মিলিত ব্যর্থতা।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—প্রযুক্তি যখন হাতের মুঠোয়, তখন এই ভাষাগত বিভ্রান্তি কেন কাটছে না?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আজকের দিনে ভাষান্তরের জন্য কার্যকর ও সহজলভ্য ডিজিটাল টুলের কোনো অভাব নেই। গুগল ট্রান্সলেট, ডিপএল, মাইক্রোসফট ট্রান্সলেট, গ্রামারলি কিংবা চ্যাটজিপিটির মতো অ্যাপ কয়েক সেকেন্ডেই বক্তব্য অনুবাদ করে দিতে পারে। এগুলো শুধু শব্দান্তর করে না; বরং বাক্যের প্রেক্ষাপট, অর্থ ও ভঙ্গিও ধরে রাখার চেষ্টা করে। চাইলে সাক্ষাৎকারের আগে নিজের বক্তব্য লিখে অনুবাদ করা যায়, যাচাই করা যায়, এমনকি সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা সম্ভব।

তারপরও যদি একজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী বিদেশি সাংবাদিকের সামনে গিয়ে ভাষাগত সমস্যার কারণে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে না পারেন, তাহলে সেটিকে নিছক ভাষার সমস্যা বলা যাবে না। এটি প্রস্তুতির ঘাটতি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং কখনো কখনো বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন না করারই প্রতিফলন।

এই সংকটের আরেকটি দিক আরও উদ্বেগজনক। শুধু বাংলাদেশি পক্ষই নয়, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি সাংবাদিকদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যখন বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদন করেন, তখন তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত প্রস্তুতি প্রত্যাশিত। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, অনেক সাংবাদিক স্থানীয় ভাষা বোঝার জন্য দক্ষ অনুবাদক ব্যবহার করেন না, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেন না, কিংবা সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়াই প্রশ্ন করেন।

ফলে যা ঘটে, তা হলো দ্বিমুখী ব্যর্থতা। একদিকে রাজনৈতিক নেতাকর্মী তাদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হন; অন্যদিকে সাংবাদিক সেই অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই প্রক্রিয়ায় সত্যের চেয়ে ভুল ধারণা, অর্ধসত্য কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনাই বেশি ছড়িয়ে পড়ে।

সমাধানের পথ অবশ্যই আছে এবং সেটি দুই পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকেই ভাবতে হবে।

রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জন্য প্রথম ও প্রধান বিষয় হলো প্রস্তুতি। বিদেশি সাংবাদিকের সামনে দাঁড়ানো মানে ব্যক্তিগত মতামত দেওয়া নয়; বরং দেশের রাজনৈতিক অবস্থান, দাবি ও বাস্তবতাকে প্রতিনিধিত্ব করা। সে ক্ষেত্রে ভাষাগত দুর্বলতা কোনো অজুহাত হতে পারে না।

অনুবাদ টুল ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া, সাক্ষাৎকারের আগে বক্তব্য লিখে নেওয়া, দলের পক্ষ থেকে মিডিয়া ব্রিফিং টিম গঠন করা এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত দোভাষী ব্যবহার করা এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদেরও আত্মসমালোচনা জরুরি। প্রযুক্তির এই যুগে ভাষা না বোঝাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। স্থানীয় ভাষা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেওয়া, নির্ভরযোগ্য অনুবাদক ব্যবহার করা এবং বক্তব্য যাচাই না করে সিদ্ধান্ত টানা থেকে বিরত থাকা—এসবই পেশাগত সততার অংশ হওয়া উচিত।

সবশেষে বলা যায়, ভাষা এখানে মূল সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হলো দায়িত্বহীনতা এবং প্রস্তুতির অভাব। প্রযুক্তি আমাদের হাতে সমাধান তুলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—আমরা কি সত্যিই সঠিক তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে চাই, নাকি বিভ্রান্তির আড়ালেই আমাদের স্বস্তি?

এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কীভাবে মূল্যায়িত হবে, এবং সেই মূল্যায়ন কতটা ন্যায্য হবে।

রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ যখন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, তখন সেই নির্বাচন কীভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপিত হচ্ছে—তার দায় শুধু রাজনীতিকদের নয়, সাংবাদিকতার প্রতিটি স্তরের ওপরও সমানভাবে বর্তায়।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

রহমান মৃধা: গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

ইমেইল: [email protected]

বিষয়: বিদেশিনির্বাচনরাজনীতিরাজনৈতিক দলমুক্ত মতরাজনীতিকপ্রযুক্তিমুক্ত আলোচনাসাংবাদিকভাষাশিক্ষা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    মহাকাশে অস্ত্রের বিস্তার, জিপিএস থেকে ব্যাংকিং—ঝুঁকিতে যে সেবাগুলো

  • ২

    ‘৫ আগস্টের পর মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা পাহারা দিয়েছে দাড়ি-টুপিঅলা লোকগুলো’

  • ৩

    ‘অনুঘটক না থাকলে আমি অভিনয় করতে চাই না’

  • ৪

    ‘আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে বলা হয়- আরে ওরা তো দাওয়াত খাইয়া বেড়াবে’

  • ৫

    ব্রাজিলেও সরকার বদলাতে চায় আমেরিকা?

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।