Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> মতামত

নীরব শক্তি থেকে নির্বাচনী ময়দানের আলোচিত এক নাম সিমি কিবরিয়া

শাহাবুদ্দিন শুভ

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ০০
নীরব শক্তি থেকে নির্বাচনী ময়দানের আলোচিত এক নাম সিমি কিবরিয়া

একজন সাধারণ গৃহবধূ কীভাবে ধীরে ধীরে উদ্যোক্তা, তারপর জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় আলোচিত মুখ হয়ে উঠতে পারেন—সিমি কিবরিয়ার পথচলা তারই এক অনন্য উদাহরণ। তিনি কেবল একজন প্রার্থীর স্ত্রী নন; তিনি হয়ে উঠেছেন সাহস, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। স্বামীর সহযোগী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমে তিনি যে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা শুধু রাজনৈতিক পরিসরেই নয়, সাধারণ মানুষের হৃদয়েও আলোড়ন তুলেছে।

Advertisement

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যখন ড. রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেন, তখন সিমি কিবরিয়া সরাসরি প্রচারণার ময়দানে না থাকলেও পেছন থেকে দৃঢ় মেন্টরের ভূমিকা পালন করেছিলেন। রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার ঘটনাটি আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। একটি ব্যাংকিং জটিলতার কারণে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, কারণ বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে ছিলাম আমি। তখনই তিনি পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন—“এখানে তোমার কোনো দোষ নেই।” তাঁর সেই দৃঢ় উচ্চারণ শুধু সান্ত্বনা ছিল না, ছিল আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম। পরবর্তীতে যাচাই করে দেখা যায়, সামান্য এসএমএস এলার্ট চার্জের ভুল হিসাব থেকেই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিষয়টি সমাধান হয়। সেই সময়টিতে তাঁর স্থিরতা ও মানসিক শক্তি আমাদের জন্য ছিল প্রেরণার উৎস।

Simi Kibria 2

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এবারের নির্বাচনে ধারণা ছিল, তিনি আগের মতো পেছন থেকেই কাজ করবেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি সরাসরি মাঠে নেমে গেলেন। মানুষের সঙ্গে কথা বললেন, তাঁদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেলেন। যা ঘটল, তা ছিল অভাবনীয়। গ্রামের নারী থেকে বৃদ্ধা, কিশোর থেকে শিশু—সবাই যেন তাঁকে আপন করে নিল। ভিডিওতে দেখেছি, ছোট শিশুরা মায়ের কোল ছেড়ে তাঁর কোলে এসে বসছে। এক বছরের কম বয়সী শিশুরাও যেন তার সান্নিধ্যে নিরাপত্তা খুঁজে পাচ্ছে। এই গ্রহণযোগ্যতা কোনো অভিনয় বা কৌশল দিয়ে অর্জন করা যায় না; এটি আসে আন্তরিকতা ও মানবিকতার গভীরতা থেকে।

তিনি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক নেতার সহধর্মিণীর এমন সক্রিয় ও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার নজির খুব কমই দেখা যায়। তিনি শুধু মঞ্চে ভাষণ দেননি; তিনি মানুষের পাশে বসেছেন, তাদের কথা শুনেছেন। চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে মাটিতে বসে কথা বলেছেন। শতবর্ষী বৃদ্ধার মাথায় হাত রেখেছেন, গ্রামের বাজারে দাঁড়িয়ে চাচাদের সঙ্গে গল্প করেছেন। শিশুদের জন্য খেলনা, কাপড় কিনে তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই সহজ-সরল আচরণ মানুষকে ছুঁয়ে গেছে।

Simi Kibria 3

গ্রামের ভাই-ভাতিজারা তার সঙ্গে ছিল ভ্যানগার্ডের মতো। এতে বোঝা যায়, তিনি শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি; আত্মীয়তা ও দায়িত্ববোধের বন্ধনও দৃঢ় করেছেন। “মা, মাটি ও মানুষের কাছাকাছি যাও”—এই রাজনৈতিক স্লোগানকে তিনি বাস্তব রূপ দিয়েছেন। ভালোবাসা কৃত্রিমভাবে অর্জন করা যায় না; এটি অর্জন করতে হয় হৃদয় দিয়ে। তিনি তা পেরেছেন।

এই ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা গেছে ১২ তারিখের নির্বাচনে, যখন জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে রেজা কিবরিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনগুলো তার প্রচারণা কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। দূরদেশে বসে সেই খবরগুলো দেখেছি, কিন্তু সরাসরি পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপ রয়ে গেছে।

আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুই রাজনৈতিক নয়, পারিবারিকও বটে। তার স্বামীর বাড়ি ও আমার বাড়ি একই পাড়ায়। ২০১১ সালের এক বিকেলে ডাচ বাংলা ব্যাংকের গুলশান অফিস থেকে বের হয়ে রেজা কিবরিয়ার বাসায় গেলে প্রথমবার তার সঙ্গে দেখা। তিনি আমাকে বলেছিলেন, “কেমন আছো বাবা?” সেই সম্বোধন আজও কানে বাজে। প্রথম দেখাতেই তার আন্তরিকতা আমাকে আপন করে নিয়েছিল।

আমি তার শ্বশুর, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার প্রকাশিত পত্রিকা ‘মৃদুভাষণ’-এ লেখালেখি করতাম। সেই সূত্রেই আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একদিন তিনি প্রস্তাব দিলেন—চলুন অনলাইনে পত্রিকা বের করি। সেখান থেকেই নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে আমার নতুন যাত্রা শুরু। পরে তার উৎসাহেই ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি এই কাজে যুক্ত হই।

Simi Kibria 4

ব্যক্তিগত জীবনেও তার স্নেহ পেয়েছি। আমার বড় মেয়ে যখন মায়ের গর্ভে, তিনি বাসায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সন্তানের জন্মের সময় হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন। বিদেশ থেকে ফিরলে সবার আগে আমার পরিবারের খোঁজ নিতেন। শ্রীলঙ্কা সফর থেকে প্রায়ই আমার পছন্দের ‘Dilmah Tea’ নিয়ে আসতেন। এই ছোট ছোট আচরণই মানুষকে বড় করে তোলে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনে যখন আমরা হতাশ হয়ে পড়তাম, তিনি বলতেন—“আল্লাহর উপর ভরসা রাখ, সব ঠিক হয়ে যাবে।” যুক্তি দিয়ে সাহস জোগাতেন। একজন মানুষ কীভাবে এত দৃঢ়তার সঙ্গে অন্যদের মনোবল চাঙা করতে পারেন, তা ভাবলে আজও বিস্মিত হই।

মিডিয়ার সামনে তিনি আগে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনাগ্রহ ছিল। কিন্তু একবার ঈদের পোশাক নিয়ে একটি টেলিভিশন বক্তব্য মিলিয়ন ভিউ পেলে বুঝেছিলাম—তিনি চাইলে মিডিয়া দারুণভাবে সামলাতে পারেন। এবারের নির্বাচনে সংবাদ সম্মেলনে তার সাবলীল উপস্থাপনা আমাকে নতুন করে বিস্মিত করেছে। প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেও তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

সিমি কিবরিয়ার গল্প তাই কেবল একজন প্রার্থীর সহধর্মিণীর গল্প নয়। এটি একজন নারীর আত্মপ্রকাশের গল্প—যিনি গৃহবধূ থেকে উদ্যোক্তা, উদ্যোক্তা থেকে জননেতৃত্বের সহযাত্রী হয়েছেন। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন হৃদয়ের টানে। আমার প্রত্যাশা, তিনি এভাবেই মানুষের কাছাকাছি থাকবেন। যেভাবে তিনি আমাকে “বাবা” বলে ডাকতেন, সেই স্নেহের ডাক যেন আজীবন শুনে যেতে পারি।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

শাহাবুদ্দিন শুভ: সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক

বিষয়: মুক্ত আলোচনানির্বাচনমুক্ত মত
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    র‍্যাগিং-মারধরের অভিযোগে খুবির ৩০ শিক্ষার্থীকে সাজা

  • ২

    এসআরবির অভিযানে শ্রমিকের মৃত্যু: গুলি করা ‘দুর্বৃত্ত’ আসলে কারা?

  • ৩

    খুলনায় তাঁতীদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

  • ৪

    ব্র্যাক ব্যাংকের ‘ওমনিচ্যানেল’ সেবা চালু

  • ৫

    মহড়ায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস ওয়ারিয়র

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।