Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

গণতন্ত্রের অপমৃত্যু এবং জনগণের নবজাগরণের অনিবার্য ডাক

রহমান মৃধা

রহমান মৃধা

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১৮: ২১
গণতন্ত্রের অপমৃত্যু এবং জনগণের নবজাগরণের অনিবার্য ডাক

বিশ্বে গণতন্ত্রের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে একদিন জাগরণ ঘটেছিল, সেই স্বপ্ন আজও পূর্ণ হয়নি। ২০২৪ সালে যে গভীর উদ্বেগ আমাকে গ্রাস করেছিল, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তুলেছে। পৃথিবী আজ প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতিতে রূপান্তরিত—ডিজিটালাইশনের ছোঁয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা বদলে গেছে, তথ্যপ্রবাহের গতি অভাবনীয়। কিন্তু গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি—স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ শাসন, মানুষের অধিকার—এসব ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি নেই।

Advertisement

আজও বহু দেশে স্বৈরাচারী শাসন টিকে আছে; পরিবারতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র আরও গাঢ় হয়েছে। শাসন আর শোষণ যেন একই স্রোতে মিশে গেছে। বক্তব্যের স্বাধীনতা প্রতিনিয়ত আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে, ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার পরিণত হয়েছে নিছক প্রহসনে।

এর মধ্যেই রয়েছে জাতিসংঘের মতো অচল ও নিষ্ক্রিয় একটি সংগঠন—যার নীরবতা আজ বিশ্বের সামনে এক অবিশ্বাস্য লজ্জা। কোথাও কোনো সাড়া নেই; নেই দায়বদ্ধতা, নেই জবাবদিহি। যেন মানবজাতির দুর্দশা, যুদ্ধ, অস্থিরতা কিছুই তাদের বিবেকে আঘাত করে না।

আজ সাধারণ দিনমজুর মানুষ নিজের সবকিছু দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রাণ দিচ্ছে। অথচ যাদের আমরা এলিট শ্রেণি বলি—তারা বিশ্বের আরামদায়ক দেশে নিরাপদ জীবন কাটাচ্ছে, পরিবারকে পাঠিয়ে দিচ্ছে শান্তিপূর্ণ দেশে। ওদিকে ক্ষুধার্ত মানুষ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে মাতৃভূমির জন্য। এ কি সেই গণতন্ত্র, যার স্বপ্নে একদিন মানবজাতি আলোড়িত হয়েছিল? এই লজ্জা, এই ঘৃণা কোথায় রাখি?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গাজা, ইউক্রেনসহ বহু দেশে চলছে যুদ্ধ। অথচ কিছুদিন আগে মিসরে গিয়ে দেখলাম—সেখানে অনেক দেশের এলিট শ্রেণি নিশ্চিন্তে ছুটি কাটাচ্ছে। তাদের দেশের মানুষ যখন মরছে, তারা তখন সমুদ্রের নীল জলে আনন্দে ডুবে আছে। আমরা খবর দেখি, সাহায্য পাঠাই, অর্থ দিই—কিন্তু সেই অর্থ কতটা সত্যিকারের অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছায়? আর কতটা দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের পরিবারে জমা হয়, যারা দূর দেশে বিলাসী জীবন যাপন করে? একসময় ভাবতাম এ জঘন্যতা শুধু বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখন দেখি—এ ভণ্ডামি ছড়িয়ে গেছে সারা পৃথিবীতে। কিন্তু কেন? জাতিসংঘ কোথায়? তারা কী করছে—বা আদৌ কিছু করতে পারছে কি?

বাংলাদেশে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটেছে। কিন্তু সেই স্বৈরাচার পরিবারের কেউ দেশে নেই; তারা বিপুল অর্থে বিদেশে নাগরিকত্ব কিনে সুরক্ষিত। অথচ দেশের মানুষের পেটে ভাত নেই, দেখার কেউ নেই। দেশে যখন আইনের স্বচ্ছতা ফিরে এলো, বিচারব্যবস্থা সক্রিয় হলো—তখনই তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করছে। কী আশ্চর্য অভিনয়! আর সবকিছুর ওপরে জাতিসংঘের নীরবতা।

যে দেশে নব্বই শতাংশ মানুষ দিনমজুর, সেখানে এলিট শ্রেণি কীভাবে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়? তারা কি কখনো ভেবেছে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা কঠিন? ভাববে কেন? বুঝতে চেষ্টা করলে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা যায় না! তবে এবারের এনসিপির মনোনয়ন ফর্ম বিক্রির দৃশ্য দেখে মনে হলো—তারা অবশেষে এক সত্য উপলব্ধি করেছে: বাংলাদেশের পরিচয় শুধু দুর্নীতি, স্বৈরাচার বা পরিবারতন্ত্র নয়। এ দেশের ১৭ কোটি মানুষের ভেতর আছে এক বিশাল শক্তি—যারা জীবনের বিনিময়ে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়। এ দেশ রিকশাওয়ালার দেশ; অতএব রিকশাচালকের ভোট, তার কণ্ঠস্বর, তার প্রতিনিধিত্বই হওয়া উচিত সরকারের ভিত্তি।

বাংলাদেশ ৫৪ বছর পেরিয়েছে। কিন্তু শাসিত হয়েছে এলিট শ্রেণির হাতে। এটা চলতে পারে না।

যে রিকশাওয়ালা তরুণদের আন্দোলন দেখে রাস্তায় ছুটে আসে—যে সাধারণ মানুষ দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে দ্বিধা করে না—সেই মানুষই প্রকৃত নায়ক। তাই এবারের জাতীয় নির্বাচন তারই প্রাপ্য। কারণ সেই মানুষই পারে স্বৈরাচার, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির দুষ্টচক্র ভেঙে ১৭ কোটি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে।

আমি দেখতে চাই—বাংলাদেশ হোক বিশ্বের প্রথম দেশ, যেখানে জনগণ নতুন বিপ্লবের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে। আর সেই উদাহরণ থেকে বিশ্ব শিখবে—কীভাবে শত বছরের প্রতিজ্ঞা, যার নাম গণতন্ত্র, পুনরুদ্ধার করা যায়।

জাগো বাংলাদেশ, জাগো।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

*লেখক গবেষক ও সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। ইমেইল: [email protected]

বিষয়: নির্বাচনগণতন্ত্রইউক্রেনজাতিসংঘমিসরমুক্ত মতমুক্ত আলোচনাগাজাবাংলাদেশ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার তাসনীম সিরাজ

  • ২

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

  • ৩

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

  • ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

  • ৫

    ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।