সরবরাহ কমায় সিলেটে তেল বিক্রি সীমিত

সরবরাহ কমায় সিলেটে তেল বিক্রি সীমিত
সিলেটের ফিলিং স্টেশন। ছবি: চরচা

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নতার কারণে অদূর ভবিষ্যতে তেল সংকটের আশঙ্কা বাংলাদেশে। এই ধারাবাহিকতায় সিলেটের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

আজ রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, কোনো কোনো স্টেশন থেকে সীমিত পরিমাণে পেট্রল পাচ্ছেন বাইকারেরা। আবার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। যেসব ফিলিং স্টেশনে রাইডাররা তেল পাচ্ছে সেখানেও রাইডারদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নেই।

এ বিষয়ে সিলেট বন্দরবাজার সংলগ্ন জালালাবাদ ট্রেডার্স পাম্পের মালিক জানান, সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাম্পের তেল বিক্রি বন্ধ আছে। তবে সন্ধ্যার মধ্যে তেল এলে রাতে সার্ভিস খোলা হতে পারে। এর মধ্যে চার পাঁচজন রাইডার এসে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে আসা একজন রাইডার মিলন বিকাশের মার্চেন্টে চাকরি করেন। মিলন বলেন, “কাল রাত থেকে তেল পেলাম না, ডিউটি করব কীভাবে, আর যাতায়াত করব কীভাবে!”

সন্ধ্যায় নগরের পাঠানটুলার নর্থ ইস্ট পেট্রল পাম্পে অনেক মোটরসাইকেল এসে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। নগরের আম্বখানার জালালাবাদ পেট্রল পাম্পে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে কোনোটিতে ২০০ কোনোটিতে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে অকটেন নিতে চাইলেও অকটেন নেই বলে জানায় পাম্পে কর্মরত কর্মচারীরা। এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে জালালাবাদ পাম্পের ম্যানেজার বা মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

সিলেটের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এ অবস্থা গত শুক্রবার থেকেই। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিকভাবেই বিক্রির চাপ বাড়ে। তবে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে গত শুক্রবার আচমকা গ্রাহকদের তেল কেনার চাপ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই টেংকি ফুল করে তেল কেনায় সরবরাহকৃত তেলে ঘাটতি দেখা দেয়।

এর আগে, গত শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনায় জ্বালানি তেল সরবরাহে সাময়িক সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল দেওয়া হবে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পিকআপ বা স্থানীয় বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় আজ সিলেট জেলা প্রশাসক দুপুর তিনটার দিকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ পেতে আলোচনায় বসেন ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। আলোচনা বৈঠক শেষে ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বিপিসির নতুন নিয়মের নির্দেশনায় সিলেটের অনেক স্টেশন তেল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা ডিসি মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। আাশা করি আগামীকালের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। বৈঠক শেষে সুষ্ঠু বিপনন, বন্টন পাওয়ার দাবি জানিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

এসময় সিলেট জেলা প্রশাসক বলেন, “তেলের ঘাটতি এখনো শুরু হয়নি দেশে। যথেষ্ট মজুত রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঘাটতির কথা বিবেচনায় রেখে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে প্রশাসন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে। সিলেটের এই সংকট আশা করছি দুয়েক দিনের মধ্যে সমাধান হবে।”

ফিলিং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দেদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন।

এমদাদ হোসেন বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরকার এডভান্স থিংকিং করেছে। যার কারণে একটু ক্রাইসিস হয়েছে। মানুষ সম্ভাব্য সংকটের কথা শুনেই ২ লিটারের জায়গায় ১০ লিটার কিনে নিচ্ছে বলে এ কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সিলেটের ডিপোগুলোতে যেভাবে সাপ্লাই দেওয়ার কথা তার চার ভাগের এক ভাগে চলে এসেছে। এটি মারাত্মক একটি বির্পযয়।”

সম্পর্কিত