চরচা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মঙ্গলবার নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, তেহরান জাতিসংঘের পরিদর্শকদের তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে কি না। বার্তা সংস্থা এপি/ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
একদিকে দুই দেশ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন একটি পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে আলোচনা অব্যাহত রাখে।
এদিকে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ ও হাজার হাজার নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান বন্ধ করে দিয়েছিল।
পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়ে মতবিরোধ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি তেহরানে সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য জাতিসংঘের কোনো দলকে এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এর মাধ্যমে তিনি একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান পরিদর্শনে সম্মতি না দিয়ে থাকে, তবে তিনি অবিলম্বে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেবেন। তবে তিনি এটাও বলেন যে, পরিদর্শন শুরু করার বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর সংস্থাটি বিভিন্ন সময়ে ইরানে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে এখনো প্রবেশাধিকার পায়নি।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আইএইএ বলছে, দেশটির কাছে এমন মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে যা চাইলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, যেখানে ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস করতে সম্মত হয়। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি দুই দেশকে বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা নাবিকদের সরানোর পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানান, প্রায় ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ইরান, ওমান, উপকূলীয় অন্য রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র এবং সামুদ্রিক শিল্পের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আমরা পেয়েছি এবং পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে যাচাই করেছি।”
সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরানো হবে।
পাকিস্তান সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফর করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে দেশটি লুটপাট ও ধ্বংস হয়ে যেত। আমরা কখনোই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আপস করব না বা আলোচনায় বসব না।”
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি যুদ্ধে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দেবেন।
লেবাননে উত্তেজনা অব্যাহত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রবেশ করে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তার বাহিনীর ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ রয়েছে। নেতানিয়াহুর এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি দেখব। পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যাবে।”
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা মঙ্গলবার শুরু হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। আলোচনায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই স্থান পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মঙ্গলবার নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, তেহরান জাতিসংঘের পরিদর্শকদের তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে কি না। বার্তা সংস্থা এপি/ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
একদিকে দুই দেশ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন একটি পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে আলোচনা অব্যাহত রাখে।
এদিকে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ ও হাজার হাজার নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান বন্ধ করে দিয়েছিল।
পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়ে মতবিরোধ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি তেহরানে সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য জাতিসংঘের কোনো দলকে এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এর মাধ্যমে তিনি একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান পরিদর্শনে সম্মতি না দিয়ে থাকে, তবে তিনি অবিলম্বে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেবেন। তবে তিনি এটাও বলেন যে, পরিদর্শন শুরু করার বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর সংস্থাটি বিভিন্ন সময়ে ইরানে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে এখনো প্রবেশাধিকার পায়নি।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আইএইএ বলছে, দেশটির কাছে এমন মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে যা চাইলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, যেখানে ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস করতে সম্মত হয়। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি দুই দেশকে বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা নাবিকদের সরানোর পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানান, প্রায় ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ইরান, ওমান, উপকূলীয় অন্য রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র এবং সামুদ্রিক শিল্পের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আমরা পেয়েছি এবং পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে যাচাই করেছি।”
সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরানো হবে।
পাকিস্তান সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফর করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে দেশটি লুটপাট ও ধ্বংস হয়ে যেত। আমরা কখনোই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আপস করব না বা আলোচনায় বসব না।”
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি যুদ্ধে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দেবেন।
লেবাননে উত্তেজনা অব্যাহত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রবেশ করে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তার বাহিনীর ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ রয়েছে। নেতানিয়াহুর এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি দেখব। পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যাবে।”
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা মঙ্গলবার শুরু হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। আলোচনায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই স্থান পেয়েছে।