Advertisement Banner

মমতার সাম্রাজ্য যে ৫ কারণে ‘ভেঙে খান খান’

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মমতার সাম্রাজ্য যে ৫ কারণে ‘ভেঙে খান খান’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব জয়ের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রায় ১৯৩টি আসনে এগিয়ে থেকে ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার করেছে গেরুয়া শিবির। দলীয় অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যমাত্রা ১৮৫-এর গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেছে তারা। ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) সরিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ কী?

এখনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসেনি। তবে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভরাডুবির পেছনে ৫টি মূল কারণ উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

দীর্ঘদিনের ডিএ বকেয়া এবং সপ্তম পে-কমিশন কার্যকর না হওয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে-কমিশন চালু করা হবে।

নারী ভোটারদের সমর্থন

বিজেপির দাবি, এই জয়ে অনুঘটকের কাজ করেছে ‘নারী’ শক্তি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বিধানসভায় নারীদের জন্য যে সংরক্ষিত ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছিল, তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে জনমানসে।

বিজেপি শিবিরের দাবি, বিরোধী দলগুলো নারীদের সুবিধা দেওয়া এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল, যা বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সফলভাবে কাজ করেছে। গত ২০২১ সালের তুলনায় এবার নারী ভোট প্রায় ৫% বেশি বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে প্রাথমিক অনুমান।

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: ফেসবুক
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: ফেসবুক

সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ ও প্রতিশ্রুতি

দিল্লির মতোই পশ্চিমবঙ্গও প্রচুর সংখ্যক সরকারি কর্মচারীর আবাসস্থল। দীর্ঘদিনের ডিএ বকেয়া এবং সপ্তম পে-কমিশন কার্যকর না হওয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে-কমিশন চালু করা হবে।

এ ছাড়া লক্ষাধিক শূন্যপদ পূরণের আশ্বাস তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের ভোট বিজেপির ঝুলিতে টানতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

আরজি কর-কাণ্ডের মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সাধারণ মানুষের অনাস্থা তৈরি করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের প্রতিকূলে গেছে।

কেন্দ্রীয় উন্নয়ন বনাম রাজ্যের প্রকল্প

নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে ‘উন্নয়ন বনাম অনুন্নয়ন’ হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা জনগণের কাছে না পৌঁছানো এবং শিল্প পরিকাঠামোর অভাবকে হাতিয়ার করা হয়েছিল।

বিশেষ করে ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ১.৩১ কোটি তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে যে প্রচার চালানো হয়েছিল, তার সুফল মিলেছে ইভিএমে। সবার মধ্যে এই ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, মমতা ক্ষমতায় থাকলে কেন্দ্র থেকে কোনো সুবিধা পাবে না পশ্চিমবঙ্গ।

নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা

নির্বাচনী সহিংসতার ইতিহাসের কথা মাথায় রেখে এবার রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিজেপি মনে করছে, আরএসএসের বুথ স্তরের সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মনে ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দেওয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এ ছাড়া

ভোটার তালিকা সংশোধন ও বহিরাগত বিতর্ক

বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লাখ ‘ভুয়া’ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে ‘স্বচ্ছতা’ বজায় রাখা ছিল বিজেপির অন্যতম বড় কৌশল। বিজেপির দাবি, এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার ফলে শুধুমাত্র ‘আসল’ ভোটাররাই ভোট দিতে পেরেছেন। তথাকথিত ‘বহিরাগত’ বা অনুপ্রবেশকারীদের প্রভাব কাটিয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়ায় তাদের এই জয় সহজ হয়েছে বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।

সম্পর্কিত