ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। সবার নজর এখন, কে হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনের আগে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বলেছিলেন, কোনো বাঙালিই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথাটি মূলত তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য এক ধরনের পাল্টা কৌশল।
এ তালিকায় কারা রয়েছেন? এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
শুভেন্দু অধিকারী
সব দিক থেকে বিচার করা হলে তিনিই এই দৌঁড়ে সবার আগে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের এই রাজনীতিবিদ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিজেপিতে যোগ দেন, যা তৃণমূল নেত্রীর জন্য ছিল বড় ধাক্কা। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে পরাজিত করে শুভেন্দু চমক সৃষ্টি করেছিলেন। যদিও অইসময় দল ক্ষমতায় আসতে পারেনি। কিন্তু শুভেন্দু বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পান।
গত পাঁচ বছর বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করেন শুভেন্দু। ‘নন্দীগ্রাম আন্দোলনের’ সময় থেকেই তিনি মমতার ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২১-এর হারের পর যখন দলের সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে ছিল, তখন তিনিই কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে সারা রাজ্যের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২১ সালের পরাজয়ের পর সবাই ভেবেছিল বিজেপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু সেই সময়ে শুভেন্দু অধিকারী শক্ত হাতে হাল ধরেন। ভোট পরবর্তী সমস্যা মোকাবিলা করেন এবং দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ান।
তিনি স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে উঠে আসেন। কেবল পূর্ব মেদিনীপুর নয় বরং রাজ্যজুড়ে একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন শুভেন্দু। এ কারণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে তাকেই বেশি যোগ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: ফেসবুকশমীক ভট্টাচার্য
আরএসএস-এর পুরনো কর্মী এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতাদর্শের একজন মুখ হিসেবে পরিচিত। শমীক ভট্টাচার্য তখন থেকেই বিজেপিতে আছেন, যখন দলটি রাজ্যে একটি নগণ্য শক্তি ছিল। ২০১৪ সালের উপ-নির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণ থেকে জিতে তিনি রাজ্যের প্রথম বিজেপি বিধায়ক হয়েছিলেন। বিজেপি যদি কোনো বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ মুখ বেছে নিতে চায়, তবে শমীক ভট্টাচার্য বিকল্প হতে পারেন।
স্বপন দাশগুপ্ত
প্রাক্তন এই সাংবাদিক ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বাংলার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনিও বিজেপির একজন ‘ভদ্রলোক’ মুখ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তবে তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব একটি নেতিবাচক দিক হতে পারে।
দিলীপ ঘোষ
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে ২০১৬ সাল থেকে রাজ্যে বিজেপির উত্থান ঘটে। তার আমলেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮টি আসনে জিতে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিল। ২০২১ এবং ২০২৪-এর নির্বাচনের পর তিনি কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও, এ বছরের জানুয়ারিতে অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি আবার মূল ধারায় ফিরে আসেন। তিনি নিজের খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়ের পথে রয়েছেন।
সুকান্ত মজুমদার
বিজেপির আরেক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার ‘ইউনিয়ন মিনিস্টার’। বিজেপি যদি উত্তরবঙ্গ থেকে কোনো মুখ বেছে নিতে চায়, তবে সুকান্ত মজুমদার শীর্ষ পদের জন্য বড় দাবিদার হতে পারেন।