এনডিটিভির বিশ্লেষণ
চরচা ডেস্ক

কেরালা রাজ্যে টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর পিনারাই বিজয়ন প্রশাসন বিরোধী চাপে পিষ্ট হচ্ছিল। কংগ্রেসের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল কেবল বড় কোনো ভুল করা থেকে বিরত থাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় জয় কংগ্রেসকে ইঙ্গিত দিয়েছিল, এক দশকের বিরতি কাটিয়ে তারা ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে।
এই জয় দলের কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ জোগালেও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ছিল যে, ক্ষমতার খুব কাছে পৌঁছে নেতারা আবার নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বেন না তো? ঠিক পাঁচ বছর আগে কেরালায় এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলই রাহুল গান্ধীর সমস্ত পরিশ্রম ব্যর্থ করে দিয়েছিল।
এইবার কংগ্রেস হাইকমান্ড অত্যন্ত সতর্ক ছিল। দলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এবং চ্যালেঞ্জ ছিল একতা।
প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুরকে দিয়ে। বছরের শুরুতে থারুরকে নিয়ে নানা কাহিনি ছিল। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে থারুরের সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন এবং তাদের মধ্যে মান-অভিমান দূর করেন। পরবর্তীতে তাকে নির্বাচনী প্রচার কমিটির সহ-আহ্বায়ক নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালান।
টিকিট বণ্টনের জন্য হাইকমান্ড তাদের বিশ্বস্ত নেতা মধুসূদন মিস্ত্রিকে কেরালায় পাঠায়। মিস্ত্রি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রার্থী বাছাই করেন। কংগ্রেসের কাছে খবর ছিল, মানুষ সরকার পরিবর্তন চাইলেও বামফ্রন্টের বর্তমান বিধায়কদের বিরুদ্ধে খুব বেশি ক্ষোভ নেই। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কংগ্রেস কৌশলে তরুণ নেতাদের ওপর বিশ্বাস রাখে। কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, কোনো বর্তমান সাংসদকে বিধানসভায় টিকিট দেওয়া হবে না।
বিদ্রোহীদের শান্ত করা
সাংসদ পদ ছেড়ে নির্বাচনে লড়তে চেয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন কে. সুধাকরণ। তাকে শান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রবীণ নেতা এ.কে. অ্যান্টনিকে। খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে তার ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে দেন, দল তার পরিশ্রমের মূল্যায়ন করে। টিকিট বণ্টনের পর বিদ্রোহী নেতাদের সামলানোর ভার নেন কে. সি. বেণুগোপাল। তিনি জানতেন, কেরালার ফল তার নিজের রাজনৈতিক সম্মানের সঙ্গে যুক্ত। তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহীদের বাড়ি গিয়ে তাদের অভিযোগ শোনেন এবং ক্ষোভ কমানোর চেষ্টা করেন।
নির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেস নিজেকে একটি সুশৃঙ্খল দল হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। যেখানে বড় ভূমিকা রাখেন ইন-চার্জ দীপা দাশমুন্সি। এরপরই শুরু হয় পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচার। রাহুল গান্ধী স্বয়ং প্রচারে নেমে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমার প্রতিশ্রুতি ব্যাপকভাবে প্রচার করে।
মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট থাকায় কংগ্রেস এই ভোট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল। যার জন্য ইমরান প্রতাপগড়ীকে এই ভোট নিশ্চিত করতে প্রচারে নামানো হয়। অন্যদিকে খ্রিস্টান ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে সানি জোসেফকে প্রদেশ সভাপতি করা হয়। এছাড়া কেন্দ্রের এফসিআরএ বিল নিয়ে বিতর্ক খ্রিস্টান ভোটারদের কংগ্রেসের দিকে আরও সংহত করে।
কংগ্রেসের তিন সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী, কে.সি. বেণুগোপাল, ভি.ডি. সতীশন এবং রমেশ চেন্নিথালা নায়ার সম্প্রদায়ের। এই সমীকরণ বিজেপিকে রুখে দিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে বড় জয় নিশ্চিত করে।

কেরালা রাজ্যে টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর পিনারাই বিজয়ন প্রশাসন বিরোধী চাপে পিষ্ট হচ্ছিল। কংগ্রেসের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল কেবল বড় কোনো ভুল করা থেকে বিরত থাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় জয় কংগ্রেসকে ইঙ্গিত দিয়েছিল, এক দশকের বিরতি কাটিয়ে তারা ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে।
এই জয় দলের কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ জোগালেও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ছিল যে, ক্ষমতার খুব কাছে পৌঁছে নেতারা আবার নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বেন না তো? ঠিক পাঁচ বছর আগে কেরালায় এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলই রাহুল গান্ধীর সমস্ত পরিশ্রম ব্যর্থ করে দিয়েছিল।
এইবার কংগ্রেস হাইকমান্ড অত্যন্ত সতর্ক ছিল। দলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এবং চ্যালেঞ্জ ছিল একতা।
প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুরকে দিয়ে। বছরের শুরুতে থারুরকে নিয়ে নানা কাহিনি ছিল। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে থারুরের সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন এবং তাদের মধ্যে মান-অভিমান দূর করেন। পরবর্তীতে তাকে নির্বাচনী প্রচার কমিটির সহ-আহ্বায়ক নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালান।
টিকিট বণ্টনের জন্য হাইকমান্ড তাদের বিশ্বস্ত নেতা মধুসূদন মিস্ত্রিকে কেরালায় পাঠায়। মিস্ত্রি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রার্থী বাছাই করেন। কংগ্রেসের কাছে খবর ছিল, মানুষ সরকার পরিবর্তন চাইলেও বামফ্রন্টের বর্তমান বিধায়কদের বিরুদ্ধে খুব বেশি ক্ষোভ নেই। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কংগ্রেস কৌশলে তরুণ নেতাদের ওপর বিশ্বাস রাখে। কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, কোনো বর্তমান সাংসদকে বিধানসভায় টিকিট দেওয়া হবে না।
বিদ্রোহীদের শান্ত করা
সাংসদ পদ ছেড়ে নির্বাচনে লড়তে চেয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন কে. সুধাকরণ। তাকে শান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রবীণ নেতা এ.কে. অ্যান্টনিকে। খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে তার ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে দেন, দল তার পরিশ্রমের মূল্যায়ন করে। টিকিট বণ্টনের পর বিদ্রোহী নেতাদের সামলানোর ভার নেন কে. সি. বেণুগোপাল। তিনি জানতেন, কেরালার ফল তার নিজের রাজনৈতিক সম্মানের সঙ্গে যুক্ত। তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহীদের বাড়ি গিয়ে তাদের অভিযোগ শোনেন এবং ক্ষোভ কমানোর চেষ্টা করেন।
নির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেস নিজেকে একটি সুশৃঙ্খল দল হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। যেখানে বড় ভূমিকা রাখেন ইন-চার্জ দীপা দাশমুন্সি। এরপরই শুরু হয় পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচার। রাহুল গান্ধী স্বয়ং প্রচারে নেমে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমার প্রতিশ্রুতি ব্যাপকভাবে প্রচার করে।
মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট থাকায় কংগ্রেস এই ভোট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল। যার জন্য ইমরান প্রতাপগড়ীকে এই ভোট নিশ্চিত করতে প্রচারে নামানো হয়। অন্যদিকে খ্রিস্টান ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে সানি জোসেফকে প্রদেশ সভাপতি করা হয়। এছাড়া কেন্দ্রের এফসিআরএ বিল নিয়ে বিতর্ক খ্রিস্টান ভোটারদের কংগ্রেসের দিকে আরও সংহত করে।
কংগ্রেসের তিন সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী, কে.সি. বেণুগোপাল, ভি.ডি. সতীশন এবং রমেশ চেন্নিথালা নায়ার সম্প্রদায়ের। এই সমীকরণ বিজেপিকে রুখে দিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে বড় জয় নিশ্চিত করে।

নিকো ল্যাঞ্জের মতে, ইরান যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রাগার কমে যাওয়া ইউরোপের জন্য বড় দ্বিধা তৈরি করেছে। কারণ ইউরোপের পুনরস্ত্রীকরণ এখনও ধীর গতির এবং তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল।