চরচা প্রতিবেদক

এশিয়ান কাপের অভিষেক! ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। কিন্তু প্রতিপক্ষ চীনের শক্তিমত্তাটা ছিল আকাশছোঁয়াই। অন্তত বাংলাদেশ নারী দলের সঙ্গে তুলনায়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে যে ৯৫ ধাপ এগিয়ে এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এমন একটা দলের বিপক্ষে মাঠে নেমে এশিয়ান কাপের অভিষেক লগ্নটা রাঙানো এক ধরনের পরীক্ষাই। সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে সেই পরীক্ষায় খুব ভালোভাবেই উতরে গেছেন ঋতুপর্না, আফঈদা, মনিকা, মারিয়া মান্ডারা। হারলেও লড়াইটা খারাপ হয়নি। ২–০ স্কোরলাইনটাই বলে দেয় অসম লড়াইটাও কী দারুণভাবেই না করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
৪৪ মিনিট পর্যন্ত চীনকে ঠেকিয়ে রাখা সহজ কোনো বিষয় নয়। সে কাজটা বাংলাদেশের মেয়েদের করতে হয়েছে শারীরিক সামর্থ্যের দিক দিয়ে পিছিয়ে থেকেই। রক্ষণে আফঈদা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র কিংবা নবীরনরা চীনের ফরোয়ার্ডদের চোখে চোখ রেখেই লড়ে গেছেন। বুটের সঙ্গে বুটের বাড়িতে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন নিজেদের প্রত্যয়ের কথা।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে তো বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ারই কথা ছিল। বাঁম দিকের উইং ফাঁকা পেয়ে গিয়েছিলেন ঋতুপর্না চাকমা। শরীরের সঙ্গে লেপটে থাকা চীনা ডিফেন্ডারকে এড়াতে পারছিলেন। ওই অবস্থাতেই বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট নেন। ঋতুপর্না তো এমন দূরপাল্লার শটে আগেও গোল করেছেন। সিডনিতে চীনের বিপক্ষে তার শটের পর বলটা বাতাসে ভেসে গোলপোস্টে প্রায় ঢুঁকেই গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শূন্যে লাফিয়ে ফিস্ট করে বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। ওই শট থেকে গোল না হওয়া ছিল নিতান্তই দূর্ভাগ্য।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে চীন গোল করলেও ভিএআরে তা বাতিল হয়ে যায়। ভিএআর চালুর পর এই প্রথমবারের মতো ফুটবল মাঠে ভিএআরের দেখা পেল বাংলাদেশ। আর তাতেই সৌভাগ্য। সিদ্ধান্তটা আসে বাংলাদেশের পক্ষেই। বাঁ প্রান্ত থেকে জিন কুনের ক্রস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে হেডে গোল করেন ওয়াং সুয়াং। কিন্তু বাধ সেধেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। চার মিনিটেরও বেশি সময় নেন তারা। মাঠের রেফারি পানসা চাইসেইন্ট মাঠের পাশে ভিডিও মনিটরে রিপ্লে দেখে এসে গোল বাতিলের বাঁশি বাজান।

৪৪ মিনিটে বাংলাদেশের গোলকিপার মিলিকে পরাভূত করে চীনের ফরোয়ার্ড ওয়াং সুয়াং। দূরপাল্লার শটে বক্সের বাইরে থেকে বাতাসে ভাসানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। যেভাবে বাংলাদেশ গোলটি হজম করেছে, সেটি আরও একটু সতর্ক থাকলে এড়ানো যেতই।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময় দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। প্রথম গোলের চেয়েও দ্বিতীয় গোলচি ছিল দৃষ্টিকটূ। ৪৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চীনের মিডফিল্ডার ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে গোলকিপার মিলিকে বিভ্রান্ত করে।
প্রথমার্ধের শেষলগ্নে ছোটখাট এক ঝড়েই শেষপর্যন্ত সর্বনাশ বাংলাদেশের। দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইটা হয়েছে আরও জোরদার। যদিও প্রথমার্ধের মতোই দ্বিতীয়ার্ধেও চীনের আধিপত্য অক্ষুন্নই ছিল। তবুও বাংলাদেশ দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গেছে। দ্বিতীয়ার্ধে দুটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। মিডফিল্ডার উমহেলা মারমাকে তুলে নামানো হয় ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুনকে। পাশাপাশি শিউলি আজিমের বদলে নামেন ডিফেন্ডার হালিমা খাতুন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঋতুপর্নার আরেকটি দূরপাল্লার শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। নবীরনের বদলে স্বপ্না রানি মাঠে নামার পর আক্রমণের পরিমাণ বাড়ে বাংলাদেশের। চীনের রক্ষণকেও মাঝেমধ্যে পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে। স্বপ্না পায়ের কাজে ফাঁকা জায়গা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তবে স্বপ্নাকে সেভাবে কেউই সঙ্গ দিতে পারেননি।
৭৪ মিনিটে পেনাল্টি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।। কর্নার শটে বাংলাদেশের শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ফেলে দিয়েছিলেন চীনের ডিফেন্ডার লিউ ইয়াটং। এক মিনিট পর ভিএআর চেক করা হয় পেনাল্টি ছিল কি না তা নিশ্চিত হতে। কিন্তু রেফারি মাঠের বাইরে মনিটর দেখে জানান, পেনাল্টি দেওয়ার মতো অপরাধ করেননি ইয়াটং।
৮৬ মিনিটে হালিমাকে তুলে মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়াকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক ঘটে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সুইডেন প্রবাসী আনিকার।
বাকিটা সময় দাঁতে দাঁত চেপে ভালোভাবেই কাটিয়ে দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। যে ম্যাচে বড় ব্যবধানেই হারার কথা ছিল, সে ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৪৪ ও ৪৬ মিনিটের দুটি ভুলই পোড়াচ্ছে। নিজেদের ভুলে ওই দুই গোল হজম না করলে এশিয়ান কাপের শুরুর ইতিহাসটা হয়তো অন্যরকম করতে পারত।

এশিয়ান কাপের অভিষেক! ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। কিন্তু প্রতিপক্ষ চীনের শক্তিমত্তাটা ছিল আকাশছোঁয়াই। অন্তত বাংলাদেশ নারী দলের সঙ্গে তুলনায়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে যে ৯৫ ধাপ এগিয়ে এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এমন একটা দলের বিপক্ষে মাঠে নেমে এশিয়ান কাপের অভিষেক লগ্নটা রাঙানো এক ধরনের পরীক্ষাই। সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে সেই পরীক্ষায় খুব ভালোভাবেই উতরে গেছেন ঋতুপর্না, আফঈদা, মনিকা, মারিয়া মান্ডারা। হারলেও লড়াইটা খারাপ হয়নি। ২–০ স্কোরলাইনটাই বলে দেয় অসম লড়াইটাও কী দারুণভাবেই না করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
৪৪ মিনিট পর্যন্ত চীনকে ঠেকিয়ে রাখা সহজ কোনো বিষয় নয়। সে কাজটা বাংলাদেশের মেয়েদের করতে হয়েছে শারীরিক সামর্থ্যের দিক দিয়ে পিছিয়ে থেকেই। রক্ষণে আফঈদা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র কিংবা নবীরনরা চীনের ফরোয়ার্ডদের চোখে চোখ রেখেই লড়ে গেছেন। বুটের সঙ্গে বুটের বাড়িতে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন নিজেদের প্রত্যয়ের কথা।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে তো বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ারই কথা ছিল। বাঁম দিকের উইং ফাঁকা পেয়ে গিয়েছিলেন ঋতুপর্না চাকমা। শরীরের সঙ্গে লেপটে থাকা চীনা ডিফেন্ডারকে এড়াতে পারছিলেন। ওই অবস্থাতেই বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট নেন। ঋতুপর্না তো এমন দূরপাল্লার শটে আগেও গোল করেছেন। সিডনিতে চীনের বিপক্ষে তার শটের পর বলটা বাতাসে ভেসে গোলপোস্টে প্রায় ঢুঁকেই গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শূন্যে লাফিয়ে ফিস্ট করে বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। ওই শট থেকে গোল না হওয়া ছিল নিতান্তই দূর্ভাগ্য।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে চীন গোল করলেও ভিএআরে তা বাতিল হয়ে যায়। ভিএআর চালুর পর এই প্রথমবারের মতো ফুটবল মাঠে ভিএআরের দেখা পেল বাংলাদেশ। আর তাতেই সৌভাগ্য। সিদ্ধান্তটা আসে বাংলাদেশের পক্ষেই। বাঁ প্রান্ত থেকে জিন কুনের ক্রস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে হেডে গোল করেন ওয়াং সুয়াং। কিন্তু বাধ সেধেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। চার মিনিটেরও বেশি সময় নেন তারা। মাঠের রেফারি পানসা চাইসেইন্ট মাঠের পাশে ভিডিও মনিটরে রিপ্লে দেখে এসে গোল বাতিলের বাঁশি বাজান।

৪৪ মিনিটে বাংলাদেশের গোলকিপার মিলিকে পরাভূত করে চীনের ফরোয়ার্ড ওয়াং সুয়াং। দূরপাল্লার শটে বক্সের বাইরে থেকে বাতাসে ভাসানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। যেভাবে বাংলাদেশ গোলটি হজম করেছে, সেটি আরও একটু সতর্ক থাকলে এড়ানো যেতই।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময় দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। প্রথম গোলের চেয়েও দ্বিতীয় গোলচি ছিল দৃষ্টিকটূ। ৪৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চীনের মিডফিল্ডার ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে গোলকিপার মিলিকে বিভ্রান্ত করে।
প্রথমার্ধের শেষলগ্নে ছোটখাট এক ঝড়েই শেষপর্যন্ত সর্বনাশ বাংলাদেশের। দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইটা হয়েছে আরও জোরদার। যদিও প্রথমার্ধের মতোই দ্বিতীয়ার্ধেও চীনের আধিপত্য অক্ষুন্নই ছিল। তবুও বাংলাদেশ দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গেছে। দ্বিতীয়ার্ধে দুটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। মিডফিল্ডার উমহেলা মারমাকে তুলে নামানো হয় ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুনকে। পাশাপাশি শিউলি আজিমের বদলে নামেন ডিফেন্ডার হালিমা খাতুন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঋতুপর্নার আরেকটি দূরপাল্লার শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। নবীরনের বদলে স্বপ্না রানি মাঠে নামার পর আক্রমণের পরিমাণ বাড়ে বাংলাদেশের। চীনের রক্ষণকেও মাঝেমধ্যে পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে। স্বপ্না পায়ের কাজে ফাঁকা জায়গা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তবে স্বপ্নাকে সেভাবে কেউই সঙ্গ দিতে পারেননি।
৭৪ মিনিটে পেনাল্টি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।। কর্নার শটে বাংলাদেশের শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ফেলে দিয়েছিলেন চীনের ডিফেন্ডার লিউ ইয়াটং। এক মিনিট পর ভিএআর চেক করা হয় পেনাল্টি ছিল কি না তা নিশ্চিত হতে। কিন্তু রেফারি মাঠের বাইরে মনিটর দেখে জানান, পেনাল্টি দেওয়ার মতো অপরাধ করেননি ইয়াটং।
৮৬ মিনিটে হালিমাকে তুলে মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়াকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক ঘটে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সুইডেন প্রবাসী আনিকার।
বাকিটা সময় দাঁতে দাঁত চেপে ভালোভাবেই কাটিয়ে দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। যে ম্যাচে বড় ব্যবধানেই হারার কথা ছিল, সে ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৪৪ ও ৪৬ মিনিটের দুটি ভুলই পোড়াচ্ছে। নিজেদের ভুলে ওই দুই গোল হজম না করলে এশিয়ান কাপের শুরুর ইতিহাসটা হয়তো অন্যরকম করতে পারত।