সিলেট প্রতিনিধি

“আমি বরং আপনাদের অনুরোধ করব আপাতত এগুলো নিয়ে রিপোর্ট না করার জন্য। এমনিতেই পাবলিক আমাদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা পোষণ করে।" কথাটি সিলেট জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ জেড এস আনোয়ারুজ্জামানের। সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এতটাই বাজে রূপ নিয়েছে যে, এ অনেকটা অসহায়ের মতোই তিনি এ অনুরোধ করেন।
বেশ কয়েকদিন ধরে লাগাতার লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সিলেটবাসী। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতিতে প্রায়ই লোডশেডিং হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সিলেট নগরবাসী ও আশপাশের গ্রাম পর্যায়েও। পরিস্থিতি এতটাই ক্ষোভ তৈরি করছে যে, সিলেট পিডিবির কর্মকর্তা এ নিয়ে এমনকি প্রতিবেদন না করারও অনুরোধ জানান।
আজ সোমবার পর্যন্ত বেশ কয়েকজন দিনে ও রাতে এই দুর্ভোগে জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ প্রকাশ করেছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। লোডশেডিংয়ের সঙ্গে গরমেও অতিষ্ঠ জনজীবন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, গত সাপ্তাহ থেকেই লাগাতার লোডশেডিংশুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাতভর বিদ্যুৎ থাকছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লোডশেডিং আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সিলেট অঞ্চলের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, আজ সোমবার বিকেল ৩টায় চাহিদা ছিল ২৩৬ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ ছিল ১৭০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং ছিল ৬৬ মেগাওয়াট। তবে এটি অন্যদিনের তুলনায় কম।
সিলেট জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ জেড এস আনোয়ারুজ্জামান বলেন, “সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা অনুপাতে আমরা (সরবরাহ) দিতে পারছি না। এই কয়কদিনে সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে সরবরাহ না পেলে আমাদের করার কিছু থাকে না।"
চাহিদা ও সরবরাহের আনুপাতিক পরিমাণ জানতে চাইলে এ জেড এস আনোয়ারুজ্জামান বলেন, “গণমাধ্যমে এ বিষয় জানানোর আমার কোনো এখতিয়ার নেই। আমি বরং আপনাদের অনুরোধ করব আপাতত এগুলো নিয়ে রিপোর্ট না করার জন্য। এমনিতেই পাবলিক আমাদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা পোষণ করে।"
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ–দুই প্রতিষ্ঠানের গড়ে অনুমানিক ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতির ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ করে অতিমাত্রায় লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরাও। তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭-৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা আগেই সীমিত হয়ে গেছে। তার ওপর দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এতে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
সিলেটের মির্জা জাঙ্গাল এলাকার তপশিল ছাত্রাবাসের ছাত্ররা জানায়, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে পড়াশোনা একদমই হচ্ছে না।
এদিকে সন্ধ্যা ৭টার ভেতরে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে, তারপর দিনভর লোডশেডিং। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে বলে জানিয়েছেন জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ীরা।
খাসদগীর এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার বলেন, "আধঘন্টা পরপর বিদ্যুবিভ্রাট হচ্ছে। কখনো কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ আসে না। বাসা-বাড়িতে শিশু, বৃদ্ধদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটাতে হচ্ছে।"
সিলেট নগরীর চেয়ে গ্রামীণ পর্যায়ে অবস্থা আরও ভয়াবহ। কোনো কোনো এলাকায় দিনে রাতের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী। আবার এখন বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে। অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
পল্লী বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল আলম বলেন, "সিলেটে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের প্রতিদিনের চাহিদা আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। বড় অংশ ঘাটতির কারণে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে।"
সিলেট বিমানবন্দর এলাকা-সংলগ্ন কাকুয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা আজমল বলেন, "টিলাটক্করের বন জঙ্গল এলাকা আমদের এমনিতেই অন্ধকার থাকে, এর ওপরে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন চরচাকে বলেন, “চাহিদার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন না বাড়লে এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।”

“আমি বরং আপনাদের অনুরোধ করব আপাতত এগুলো নিয়ে রিপোর্ট না করার জন্য। এমনিতেই পাবলিক আমাদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা পোষণ করে।" কথাটি সিলেট জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ জেড এস আনোয়ারুজ্জামানের। সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এতটাই বাজে রূপ নিয়েছে যে, এ অনেকটা অসহায়ের মতোই তিনি এ অনুরোধ করেন।
বেশ কয়েকদিন ধরে লাগাতার লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সিলেটবাসী। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতিতে প্রায়ই লোডশেডিং হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সিলেট নগরবাসী ও আশপাশের গ্রাম পর্যায়েও। পরিস্থিতি এতটাই ক্ষোভ তৈরি করছে যে, সিলেট পিডিবির কর্মকর্তা এ নিয়ে এমনকি প্রতিবেদন না করারও অনুরোধ জানান।
আজ সোমবার পর্যন্ত বেশ কয়েকজন দিনে ও রাতে এই দুর্ভোগে জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ প্রকাশ করেছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। লোডশেডিংয়ের সঙ্গে গরমেও অতিষ্ঠ জনজীবন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, গত সাপ্তাহ থেকেই লাগাতার লোডশেডিংশুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাতভর বিদ্যুৎ থাকছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লোডশেডিং আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সিলেট অঞ্চলের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, আজ সোমবার বিকেল ৩টায় চাহিদা ছিল ২৩৬ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ ছিল ১৭০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং ছিল ৬৬ মেগাওয়াট। তবে এটি অন্যদিনের তুলনায় কম।
সিলেট জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ জেড এস আনোয়ারুজ্জামান বলেন, “সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা অনুপাতে আমরা (সরবরাহ) দিতে পারছি না। এই কয়কদিনে সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে সরবরাহ না পেলে আমাদের করার কিছু থাকে না।"
চাহিদা ও সরবরাহের আনুপাতিক পরিমাণ জানতে চাইলে এ জেড এস আনোয়ারুজ্জামান বলেন, “গণমাধ্যমে এ বিষয় জানানোর আমার কোনো এখতিয়ার নেই। আমি বরং আপনাদের অনুরোধ করব আপাতত এগুলো নিয়ে রিপোর্ট না করার জন্য। এমনিতেই পাবলিক আমাদের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা পোষণ করে।"
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ–দুই প্রতিষ্ঠানের গড়ে অনুমানিক ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতির ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ করে অতিমাত্রায় লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরাও। তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭-৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা আগেই সীমিত হয়ে গেছে। তার ওপর দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এতে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
সিলেটের মির্জা জাঙ্গাল এলাকার তপশিল ছাত্রাবাসের ছাত্ররা জানায়, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে পড়াশোনা একদমই হচ্ছে না।
এদিকে সন্ধ্যা ৭টার ভেতরে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে, তারপর দিনভর লোডশেডিং। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে বলে জানিয়েছেন জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ীরা।
খাসদগীর এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার বলেন, "আধঘন্টা পরপর বিদ্যুবিভ্রাট হচ্ছে। কখনো কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ আসে না। বাসা-বাড়িতে শিশু, বৃদ্ধদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটাতে হচ্ছে।"
সিলেট নগরীর চেয়ে গ্রামীণ পর্যায়ে অবস্থা আরও ভয়াবহ। কোনো কোনো এলাকায় দিনে রাতের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী। আবার এখন বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে। অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
পল্লী বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল আলম বলেন, "সিলেটে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের প্রতিদিনের চাহিদা আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। বড় অংশ ঘাটতির কারণে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে।"
সিলেট বিমানবন্দর এলাকা-সংলগ্ন কাকুয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা আজমল বলেন, "টিলাটক্করের বন জঙ্গল এলাকা আমদের এমনিতেই অন্ধকার থাকে, এর ওপরে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন চরচাকে বলেন, “চাহিদার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন না বাড়লে এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।”