চরচা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডে ফের আলোচনার টেবিলে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। স্থানীয় সময় আজ সোমবার প্রথম দফার বৈঠক শেষ হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে।
কাতার জানিয়েছে, সপ্তাহের বাকি সময় সুইজারল্যান্ডের কাতার-মালিকানাধীন বুর্গেনস্টক পর্বত রিসোর্টে কৌশলগত আলোচনা চলবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই কৌশলগত আলোচনা ‘অত্যন্ত কঠিন’ হবে এবং অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পৌঁছাতে ৬০ দিনের বেশি সময় লাগতে পারে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো থমাস ওয়ারিক আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও সমাধান না হলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে না। উভয় পক্ষকেই একে অপরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে ছাড় দিতে হবে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

ওয়ারিক আরও বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্ক্রিয় করা। এ কাজের জন্য কয়েক হাজার বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র চায় তাদের লোকজনও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করে এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিক। তবে ইরান এ প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হবে বলে এই বিশ্লেষক মনে করেন না।
এই বিশ্লেষক বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াও সহজ হবে না। কারণ এসব নিষেধাজ্ঞার কিছু মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনে কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে কংগ্রেস এই চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় এবং তারা ইরানের প্রত্যাশিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ওয়ারিকের মতে, কৌশলগত আলোচনা কঠিনই শুধু নয় বরং অত্যন্ত জটিল। ফলে কিছু বিষয়ে সমাধান পেতে ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমারও বেশি সময় লাগতে পারে।
এদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের বিবৃতির পর বৈঠকের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে এবং সমঝোতা স্মারকের সব ধারা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেন, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ছাড়, কিছু জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করার অনুমোদন এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালুর বিষয়ে সমর্থন নিশ্চিত করেছে তেহরান।
এদিকে, রোববার আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর ঠিক আগে ফক্স নিউজ জানায়, ট্রাম্প ইরানি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেছেন, তারা যদি আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করে, তাহলে ‘তাদের আর কোনো দেশই থাকবে না’। একই সঙ্গে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ও টোল আরোপের কথাও জানান ট্রাম্প।
তিউনিসিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জোয়ি হুড বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলার হুমকি দিয়ে সম্ভবত সমঝোতা স্মারকে অনেক ছাড় দেওয়ার পরও কিছুটা প্রভাব বা চাপ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুড বলেন, তার মতে এই সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি আশাবাদী ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে এই কূটনীতিক বলেন, আলোচনায় লেবানন বা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে কেউ অংশ নেননি। অথচ ওই দুই দেশকেই হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দায়িত্ব নিতে বলা হচ্ছে।
হুডের মতে, এই সমঝোতা স্মারক থেকে মনে হচ্ছে যে লেবাননের বিষয়ে ইরানের অনেক বেশি প্রভাব বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু ইরান বহু বছর ধরে সেখানে অস্থিরতা তৈরির একটি কারণ ছিল, তাই এমন ক্ষমতা পাওয়ার কথা নয়।
তার মতে, এই সমঝোতা স্মারক এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঞ্চলিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর তাদের প্রভাবকে মেনে নিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলছেন, তিনি আসলে ইরানের এমন ভূমিকা মেনে নিচ্ছেন না।
তাই হুড মনে করেন, এই সমঝোতা মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে করা হয়েছে, তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বা প্রভাব বজায় রাখারও চেষ্টা করছেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডে ফের আলোচনার টেবিলে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। স্থানীয় সময় আজ সোমবার প্রথম দফার বৈঠক শেষ হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে।
কাতার জানিয়েছে, সপ্তাহের বাকি সময় সুইজারল্যান্ডের কাতার-মালিকানাধীন বুর্গেনস্টক পর্বত রিসোর্টে কৌশলগত আলোচনা চলবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই কৌশলগত আলোচনা ‘অত্যন্ত কঠিন’ হবে এবং অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পৌঁছাতে ৬০ দিনের বেশি সময় লাগতে পারে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো থমাস ওয়ারিক আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও সমাধান না হলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে না। উভয় পক্ষকেই একে অপরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে ছাড় দিতে হবে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

ওয়ারিক আরও বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্ক্রিয় করা। এ কাজের জন্য কয়েক হাজার বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র চায় তাদের লোকজনও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করে এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিক। তবে ইরান এ প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হবে বলে এই বিশ্লেষক মনে করেন না।
এই বিশ্লেষক বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াও সহজ হবে না। কারণ এসব নিষেধাজ্ঞার কিছু মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনে কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে কংগ্রেস এই চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় এবং তারা ইরানের প্রত্যাশিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ওয়ারিকের মতে, কৌশলগত আলোচনা কঠিনই শুধু নয় বরং অত্যন্ত জটিল। ফলে কিছু বিষয়ে সমাধান পেতে ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমারও বেশি সময় লাগতে পারে।
এদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের বিবৃতির পর বৈঠকের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে এবং সমঝোতা স্মারকের সব ধারা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেন, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ছাড়, কিছু জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করার অনুমোদন এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালুর বিষয়ে সমর্থন নিশ্চিত করেছে তেহরান।
এদিকে, রোববার আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর ঠিক আগে ফক্স নিউজ জানায়, ট্রাম্প ইরানি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেছেন, তারা যদি আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করে, তাহলে ‘তাদের আর কোনো দেশই থাকবে না’। একই সঙ্গে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ও টোল আরোপের কথাও জানান ট্রাম্প।
তিউনিসিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জোয়ি হুড বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলার হুমকি দিয়ে সম্ভবত সমঝোতা স্মারকে অনেক ছাড় দেওয়ার পরও কিছুটা প্রভাব বা চাপ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুড বলেন, তার মতে এই সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি আশাবাদী ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে এই কূটনীতিক বলেন, আলোচনায় লেবানন বা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে কেউ অংশ নেননি। অথচ ওই দুই দেশকেই হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দায়িত্ব নিতে বলা হচ্ছে।
হুডের মতে, এই সমঝোতা স্মারক থেকে মনে হচ্ছে যে লেবাননের বিষয়ে ইরানের অনেক বেশি প্রভাব বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু ইরান বহু বছর ধরে সেখানে অস্থিরতা তৈরির একটি কারণ ছিল, তাই এমন ক্ষমতা পাওয়ার কথা নয়।
তার মতে, এই সমঝোতা স্মারক এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঞ্চলিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর তাদের প্রভাবকে মেনে নিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলছেন, তিনি আসলে ইরানের এমন ভূমিকা মেনে নিচ্ছেন না।
তাই হুড মনে করেন, এই সমঝোতা মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে করা হয়েছে, তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বা প্রভাব বজায় রাখারও চেষ্টা করছেন।