তাসীন মল্লিক

২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়ে ‘মেইল-ইন-ভোটিং’ পদ্ধতির ওপর ক্ষুব্ধ হন আরেমিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৪ সালের ভোটে জিতলেও সেই আগের ক্ষোভ এতটুকুও কমেনি তার। এদিকে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে পোস্টাল ব্যালটের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
ক্ষুব্ধ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেইল-ইন-ভোটিং’ নামের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ দাবি করে তা বন্ধের নির্বাহী আদেশ তৈরি করেছেন। আর ভারতের ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থা ইটিপিবিএসকে (ইলেকট্রনিক্যালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম) ‘ভোট চুরির’ ব্যবস্থা বলে ক্ষোভ ঝেড়েছেন রাহুল।
ডাকযোগে ভোট দেওয়া নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশে চলমান, তখন ‘পোস্টাল ব্যালট বিডি’ নামের হাইব্রিড ব্যবস্থায় ভোট হতে যাচ্ছে বাংলাদেশেও। আগেও ডাকযোগে এই ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার ব্যাপক আকারে হতে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় তুলনায় নতুন এই উদ্যোগ শুরুতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের পোস্টাল ভোট কি তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পথেই হাঁটছে?
নানা অনিয়ম এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে পোস্টাল ভোটিং। পোস্টাল ব্যালটের ভোটে কারচুপির চেষ্টার অভিযোগে রাজনৈতিক দলগুলো এক অপরের দিকে তীর ছুড়ছেন। এমনকি ব্যালটের নকশা ও প্রতীক বিন্যাস নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যত অভিযোগ
বাহারাইন প্রবাসী এক জামায়াত নেতার বাসায় কয়েক শ পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, বিএনপি এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। একই ধরনের আরও ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায় সৌদি আরবের জেদ্দা ও কুয়েত থেকে। এ ছাড়া প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিভিন্ন মার্কায় ভোট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করছেন প্রবাসীরা।
বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার কর্মব্যস্ত ছিল ইসি। সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নের দাবি–আপত্তির আপিল শুনানির ফাঁকে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
প্রতীক বরাদ্দের আগেই অনিয়ম ও কারচুপি-চেষ্টার ঘটনায় বিএনপি ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসির ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি।
আর বিকেলে জামায়াতের প্রতিনিধি দলকে প্রশ্ন করলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রবাসী জামায়াত নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। তিনি এ ঘটনাকে বিএনপি ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর’ চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন।
পরে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, অনিয়মে কোনো দল জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। যদিও তিনটি ভিডিও নিয়ে তিনি বলেছেন, ইসি অনিয়মের কোনো প্রমাণ পায়নি।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কতগুলো ভিডিও ক্লিপ আমাদের সামনে এসেছে। যেগুলো নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সিরিয়াসলি দেখেছে। আপনারা হয়তো দেখেছেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দলও ইতিমধ্যে এটার ব্যাপারে কিছু প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আমরা এই ব্যাপারটার স্বরূপ জানার জন্য সকল অ্যাম্বেসির সাথে আজকে কথা বলেছি। এ রকম আমরা তিনটা জায়গার ভিডিও ক্লিপের এভিডেন্স পেয়েছি। কিন্তু এই এভিডেন্সে কোথাও কোনো ব্যত্যয় হয়েছে মর্মে এখন পর্যন্ত প্রমাণ পাওয়া যায় নাই।”
বিএনপির অভিযোগের লিখিত ব্যাখ্যাও দিয়েছে ইসি। বাহরাইনে প্রবাসীর বাসায় পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “১৬০টি ব্যালট ছিল, কোনো খাম খোলা হয়নি। রাষ্ট্রদূত বিষয়টি দেখছেন, বাহরাইন পোস্ট এটি তদন্ত করবে। ব্যালট হাতে পাওয়ার আনন্দে ভিডিও করা উচিত হয়নি।”
বিএনপি পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের ক্রমবিন্যাস নিয়েও অভিযোগ তুলেছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পেপারের ভাঁজে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক থাকায় সেটি ‘অস্পষ্ট’ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপরীতে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং এনসিপির প্রতীক রয়েছে ব্যালটের উপরের দিকে।
এটিকে ইচ্ছাকৃত দাবি করে বিএনপি বলছে, ইসি অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। দায়ীদের খোঁজের দাবি জানিয়েছে দলটি। ইসির দাবি, প্রতীক বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো। তবে এর জবাবে ইসি সচিব বলেছেন, ‘‘আমি যতটুকু জানি, তা হলো–প্রতীকের যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের ক্রম সাজানো হয়েছে।’’
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি চরচাকে বলেন, ‘‘পোস্টাল ব্যালট যদি ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা না করা হয়, তাহলে পুরো নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। ব্যালট তো শুধু সরাসরি ভোটারের হাতেই যেতে হবে।”
জয়-পরাজয়ের নিয়ামক?
গত ৫ জানুয়ারি নিবন্ধনের সময়সীমা শেষে পোস্টাল ভোটের জন্য অনুমোদন পেয়েছেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটার। এর মধ্যে সাড়ে ৭ লাখের বেশি প্রবাসী, বাকিরা দেশে নিবন্ধিত সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনী কর্মকর্তা, আনসার-ভিডিপি সদস্য ও কারাবন্দী।
দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পোস্টাল ভোটে ১০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে ১৮টি আসনে, প্রায় সবই চট্টগ্রাম বিভাগে। সর্বাধিক ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার। ৯৭টি আসনে ৫ থেকে ১০ হাজার, আর সর্বনিম্ন বাগেরহাট-৩ আসনে ১৫৪৪ জন নিবন্ধন করেছেন।
ইসির পোস্টাল ব্যালট বিডি অ্যাপের তথ্য বিবরণী থেকে জানা গেছে, সাড়ে ১২ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন–এমন আসন রয়েছে পাঁচটি। ১০ হাজারের বেশি ও সাড়ে ১২ হাজারের কম ভোটার নিবন্ধন করেছেন, এমন আসন রয়েছে ১২টি। ফলে কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়–এমন আসনগুলোতে পোস্টাল ভোট প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
যে পোস্টাল ব্যালট ভোটের জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি প্রথম থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ায় নানা আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়ে ‘মেইল-ইন-ভোটিং’ পদ্ধতির ওপর ক্ষুব্ধ হন আরেমিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৪ সালের ভোটে জিতলেও সেই আগের ক্ষোভ এতটুকুও কমেনি তার। এদিকে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে পোস্টাল ব্যালটের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
ক্ষুব্ধ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেইল-ইন-ভোটিং’ নামের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ দাবি করে তা বন্ধের নির্বাহী আদেশ তৈরি করেছেন। আর ভারতের ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থা ইটিপিবিএসকে (ইলেকট্রনিক্যালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম) ‘ভোট চুরির’ ব্যবস্থা বলে ক্ষোভ ঝেড়েছেন রাহুল।
ডাকযোগে ভোট দেওয়া নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশে চলমান, তখন ‘পোস্টাল ব্যালট বিডি’ নামের হাইব্রিড ব্যবস্থায় ভোট হতে যাচ্ছে বাংলাদেশেও। আগেও ডাকযোগে এই ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার ব্যাপক আকারে হতে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় তুলনায় নতুন এই উদ্যোগ শুরুতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের পোস্টাল ভোট কি তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পথেই হাঁটছে?
নানা অনিয়ম এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে পোস্টাল ভোটিং। পোস্টাল ব্যালটের ভোটে কারচুপির চেষ্টার অভিযোগে রাজনৈতিক দলগুলো এক অপরের দিকে তীর ছুড়ছেন। এমনকি ব্যালটের নকশা ও প্রতীক বিন্যাস নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যত অভিযোগ
বাহারাইন প্রবাসী এক জামায়াত নেতার বাসায় কয়েক শ পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, বিএনপি এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। একই ধরনের আরও ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায় সৌদি আরবের জেদ্দা ও কুয়েত থেকে। এ ছাড়া প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিভিন্ন মার্কায় ভোট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করছেন প্রবাসীরা।
বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার কর্মব্যস্ত ছিল ইসি। সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নের দাবি–আপত্তির আপিল শুনানির ফাঁকে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
প্রতীক বরাদ্দের আগেই অনিয়ম ও কারচুপি-চেষ্টার ঘটনায় বিএনপি ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসির ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি।
আর বিকেলে জামায়াতের প্রতিনিধি দলকে প্রশ্ন করলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রবাসী জামায়াত নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। তিনি এ ঘটনাকে বিএনপি ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর’ চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন।
পরে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, অনিয়মে কোনো দল জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। যদিও তিনটি ভিডিও নিয়ে তিনি বলেছেন, ইসি অনিয়মের কোনো প্রমাণ পায়নি।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কতগুলো ভিডিও ক্লিপ আমাদের সামনে এসেছে। যেগুলো নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সিরিয়াসলি দেখেছে। আপনারা হয়তো দেখেছেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দলও ইতিমধ্যে এটার ব্যাপারে কিছু প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আমরা এই ব্যাপারটার স্বরূপ জানার জন্য সকল অ্যাম্বেসির সাথে আজকে কথা বলেছি। এ রকম আমরা তিনটা জায়গার ভিডিও ক্লিপের এভিডেন্স পেয়েছি। কিন্তু এই এভিডেন্সে কোথাও কোনো ব্যত্যয় হয়েছে মর্মে এখন পর্যন্ত প্রমাণ পাওয়া যায় নাই।”
বিএনপির অভিযোগের লিখিত ব্যাখ্যাও দিয়েছে ইসি। বাহরাইনে প্রবাসীর বাসায় পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “১৬০টি ব্যালট ছিল, কোনো খাম খোলা হয়নি। রাষ্ট্রদূত বিষয়টি দেখছেন, বাহরাইন পোস্ট এটি তদন্ত করবে। ব্যালট হাতে পাওয়ার আনন্দে ভিডিও করা উচিত হয়নি।”
বিএনপি পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের ক্রমবিন্যাস নিয়েও অভিযোগ তুলেছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পেপারের ভাঁজে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক থাকায় সেটি ‘অস্পষ্ট’ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপরীতে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং এনসিপির প্রতীক রয়েছে ব্যালটের উপরের দিকে।
এটিকে ইচ্ছাকৃত দাবি করে বিএনপি বলছে, ইসি অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। দায়ীদের খোঁজের দাবি জানিয়েছে দলটি। ইসির দাবি, প্রতীক বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো। তবে এর জবাবে ইসি সচিব বলেছেন, ‘‘আমি যতটুকু জানি, তা হলো–প্রতীকের যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের ক্রম সাজানো হয়েছে।’’
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি চরচাকে বলেন, ‘‘পোস্টাল ব্যালট যদি ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা না করা হয়, তাহলে পুরো নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। ব্যালট তো শুধু সরাসরি ভোটারের হাতেই যেতে হবে।”
জয়-পরাজয়ের নিয়ামক?
গত ৫ জানুয়ারি নিবন্ধনের সময়সীমা শেষে পোস্টাল ভোটের জন্য অনুমোদন পেয়েছেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটার। এর মধ্যে সাড়ে ৭ লাখের বেশি প্রবাসী, বাকিরা দেশে নিবন্ধিত সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনী কর্মকর্তা, আনসার-ভিডিপি সদস্য ও কারাবন্দী।
দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পোস্টাল ভোটে ১০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে ১৮টি আসনে, প্রায় সবই চট্টগ্রাম বিভাগে। সর্বাধিক ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার। ৯৭টি আসনে ৫ থেকে ১০ হাজার, আর সর্বনিম্ন বাগেরহাট-৩ আসনে ১৫৪৪ জন নিবন্ধন করেছেন।
ইসির পোস্টাল ব্যালট বিডি অ্যাপের তথ্য বিবরণী থেকে জানা গেছে, সাড়ে ১২ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন–এমন আসন রয়েছে পাঁচটি। ১০ হাজারের বেশি ও সাড়ে ১২ হাজারের কম ভোটার নিবন্ধন করেছেন, এমন আসন রয়েছে ১২টি। ফলে কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়–এমন আসনগুলোতে পোস্টাল ভোট প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
যে পোস্টাল ব্যালট ভোটের জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি প্রথম থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ায় নানা আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।