চরচা ডেস্ক

গত ১০ এপ্রিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল যখন সাপ্তাহিক ছুটির আগে কাজ শেষ করে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিনি অফিসের অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার সিস্টেমে লগ-ইন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তিনি দ্রুত নিশ্চিত হয়ে যান যে তাকে সিস্টেম থেকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এতে কাশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তার এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত নয়জন ব্যক্তির মতে, কাশ প্যাটেল দ্রুত তার সহযোগী এবং মিত্রদের ফোন করতে শুরু করেন। ঘোষণা দেন যে, হোয়াইট হাউস তাকে বরখাস্ত করেছে। তাদের মধ্যে দুইজন ব্যক্তি তার এই আচরণকে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্যাটেল এমন একটি সংস্থার প্রধান যেখানে প্রায় ৩৮ হাজার কর্মী কাজ করেন, যাদের মধ্যে অনেকেই আদালতে শপথ নিয়ে তথ্য তদন্ত ও যাচাই করার কাজে প্রশিক্ষিত। তার এই আবেগপ্রবণ হওয়ার খবর পুরো ব্যুরোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এফবিআই অফিসে কিছু অংশে স্বস্তির ভাবও দেখা যায়। হোয়াইট হাউসে ব্যুরো এবং কংগ্রেস সদস্যদের কাছ থেকে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। সবার একটাই প্রশ্ন, এখন এফবিআই-এর দায়িত্বে কে আছেন?
অবশেষে দেখা গেল, তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত দুইজন জানিয়েছেন যে, অ্যাক্সেসের সমস্যাটি সম্ভবত একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল এবং তা দ্রুত সমাধান করা হয়। এফবিআইর কর্মকর্তারা জানান, পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত একেবারেই ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।
কিন্তু বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, কাশ প্যাটেল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে তার চাকরি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তার এমন ভাবার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী তার অতিরিক্ত মদ্যপানের সমস্যা।
see you and your entire entourage of false reporting in court... But do keep at it with the fake news, actual malice standard is now what some would call a legal lay up. https://t.co/MfbHH8OtLv pic.twitter.com/kw5U3LrfMM
— FBI Director Kash Patel (@FBIDirectorKash) April 18, 2026
তবে মদ্যপ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘‘আদালতে আপনার এবং আপনার মিথ্যা প্রতিবেদনের পুরো দলবলের সাথে দেখা হবে।’’
দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির অপসরণের পর প্যাটেলও বরখাস্ত হতে পারেন এমন তালিকায় ছিলেন। এই সপ্তাহে এফবিআই-এর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আমরা সবাই কেবল আনুষ্ঠানিক খবরের অপেক্ষায় আছি যে, কাশ প্যাটেল তার শীর্ষ পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন।’’

এছাড়া এফবিআইয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তা জানান, প্যাটেল যৌক্তিকভাবেই আতঙ্কগ্রস্ত । প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এবং হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ দুইজন ব্যক্তির মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এরইমধ্যে তার জায়গায় কে আসতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
দ্য আটলান্টিকের দেওয়া ১৯টি বিস্তারিত প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কাশ প্যাটেলের অধীনে সারা দেশে অপরাধের হার গত ১০০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। অনেক হাই-প্রোফাইল অপরাধীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিরেক্টর প্যাটেল প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বহাল আছেন।’’
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে জানান, পূর্ববর্তী প্রশাসন চার বছরে যা করেছে, প্যাটেল ১৪ মাসে তার চেয়ে বেশি অর্জন করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ভিত্তিতে করা মানহানিকর লেখা সাংবাদিকতার পর্যায়ে পড়ে না।
আইটি সংক্রান্ত এই ঘটনাটি এফবিআইপ্রধান হিসেবে কাশ প্যাটেলের বিশৃঙ্খল মেয়াদের একটি প্রতীকী চিত্র মাত্র। প্যাটেলের আচরণ সম্পর্কে দ্য আটলান্টিক দুই ডজনেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। যাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী, আতিথেয়তা খাতের কর্মী, কংগ্রেস সদস্য, রাজনৈতিক কুশলী, লবিস্ট এবং সাবেক উপদেষ্টারা রয়েছেন।
তাদের মতে, কাশ প্যাটেলের খামখেয়ালি স্বভাব, অন্যদের প্রতি সন্দিহান ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়ার আগেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার প্রবণতা তার মধ্যে প্রবল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, প্যাটেলের ব্যক্তিগত আচরণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি।
ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তার আচরণগত সমস্যাগুলো আগে যা জানা গিয়েছিল তার চেয়েও অনেক বেশি গভীর। এর মধ্যে রয়েছে জনসমক্ষে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান এবং কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা। তার এই আচরণ প্রায়ই এফবিআই এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের আতঙ্কিত করেছে। যদিও প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় তিনি সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তবুও তিনি হোয়াইট হাউসের সমর্থন লাভ করেছেন।
বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন, কাশ প্যাটেলের মদ্যপানের বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের একটি পুনরাবৃত্তিমূলক উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, তিনি প্রায়শই জনসমক্ষে মাতাল হওয়ার পর্যায় পর্যন্ত মদ্যপান করেন। অনেক ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ডিসির প্রাইভেট ক্লাব নেডস-এ হোয়াইট হাউস ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতিতেই তিনি এমনটা করেন। এছাড়া লাস ভেগাসের পুডল রুম-এও তিনি মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি প্রায়ই তার সাপ্তাহিক ছুটির কিছু সময় কাটান। কাশ প্যাটেলের কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত ছয়জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার মেয়াদের শুরুর দিকে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে পরদিন সকালের অনেক সভা ও ব্রিফিং পিছিয়ে দিতে হয়েছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে একাধিকবার কাশ প্যাটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে ঘুম থেকে জাগাতে বেগ পেয়েছেন, কারণ তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত একাধিক ব্যক্তির মতে, গত বছর প্যাটেল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখায় সোয়াটকে ব্রিচিং ইকুইপমেন্ট (যা সাধারণত সোয়াট বা জিম্মি উদ্ধারকারী দল দ্রুত কোনো ভবনে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করে) ব্যবহারের অনুরোধও জানানো হয়েছিল।
এফবিআইতে কাশ প্যাটেলের কিছু সহকর্মী আশঙ্কা করছেন যে, তার ব্যক্তিগত আচরণ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন এফবিআই পরিচালকের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয় যে তিনি সবসময় কাজের জন্য প্রস্তুত এবং মনোযোগী থাকবেন বিশেষ করে যখন দেশ সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক একটি রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা দ্য আটলান্টিককে জানিয়েছেন, কাশ প্যাটেল দায়িত্বে থাকাকালীন দেশে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে কী ঘটবে, তা নিয়ে তারা অনেক দিন ধরে উদ্বিগ্ন। তারা আরও জানান, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর গত কয়েক সপ্তাহে তাদের এই আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এই চিন্তাটাই রাতে আমার ঘুম কেড়ে নেয়।’’

কাশ প্যাটেল ২০২৫ সালের শুরুতে যখন এফবিআইতে আসেন, তখন থেকেই তিনি একজন অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি মিয়ামির একজন পাবলিক ডিফেন্ডার থেকে কংগ্রেসের সহকারী এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এফবিআই পরিচালক হিসেবে প্যাটেলের নিয়োগ সংক্রান্ত শুনানির সময় সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, ট্রাম্পের এই মনোনীত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করবেন। তিনি বলেছিলেন, এফবিআই-এর পরিবর্তনের জন্য তিনিই সঠিক কারিগর।
সন্দিহান ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্নের জবাবে কাশ প্যাটেল শপথ করে বলেছিলেন যে, কোনো প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে অংশ নেওয়া এফবিআই কর্মীদের শাস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনার কথা তার জানা নেই।
শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, অনেকেই কাশ প্যাটেলের ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন, কারণ তার অতীতে অদ্ভুত সব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিশ্বাস করার রেকর্ড ছিল, যার মধ্যে একটি ছিল যে, এফবিআই এবং তাদের সোর্সরা মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলায় উসকানি দিয়েছিল। বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান তাকে সমর্থন দেবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এবং তাদের মিত্রদের প্রবল চাপের মুখে প্যাটেল ৫১-৪৯ ভোটে জয়ী হয়ে নিশ্চিত হন।
বেশ কিছু কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত এফবিআই-এর ভেতরে অনেকেই আশা করেছিলেন যে, কাশ প্যাটেল হয়তো ব্যুরোকে একটি নতুন সূচনা দেবেন। কিন্তু যারা তার আগমনে উৎসাহিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও অনেকে এখন হতাশ।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এফবিআই সদর দপ্তর এবং স্থানীয় অফিসগুলোতে প্যাটেলের উপস্থিতি ছিল অনিয়মিত, যা সংস্থার বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন, প্যাটেল প্রায়ই অনুপস্থিত বা নাগালের বাইরে থাকেন, যার ফলে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার জন্য জরুরি সিদ্ধান্তগুলো নিতে দেরি হয়ে যায়। একজন কর্মকর্তা জানান, প্যাটেলের এই বিলম্বের কারণে বেশ কয়েকবার ধৈর্যশীল এজেন্টরাও তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।
প্যাটেল উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত চলাকালীন আবেগতাড়িত বা হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও পরিচিতি পেয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, গত ডিসেম্বরে ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে গুলির ঘটনার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ দম্ভের সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন যে, এফবিআই একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। কিন্তু এর কিছু দিন পরই সেই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ আসল খুনিকে ধরতে এজেন্টদের তখনও তল্লাশি চালিয়ে যেতে হচ্ছিল।
তা সত্ত্বেও, প্যাটেলের ভক্তের সংখ্যা কম নয়। ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল হামলা এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্যান্য তদন্তে কাজ করা এজেন্টদের সংস্থা থেকে ছাঁটাই করার ক্ষেত্রে প্যাটেলের প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট বেশ সন্তুষ্ট। হোয়াইট হাউস এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, এফবিআই-এর ভেতর থেকে প্যাটেল সম্পর্কে যে গুঞ্জন বা অসন্তোষ শোনা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট খুব একটা বিচলিত নন। ট্রাম্পের বিরোধিতা করা এফবিআইয়ের অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ট্রাম্প-বিরোধী ডিপ স্টেট এজেন্ট হিসেবে মনে করেন প্যাটেল। তবে মাঝে মাঝে প্যাটেল খোদ প্রেসিডেন্টের রোষানলেও পড়েছেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, এফবিআই পরিচালককে টিভি সাক্ষাৎকারের জন্য অপ্রস্তুত মনে হয় এবং তিনি প্যাটেলকে যেসব হাই-প্রোফাইল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন সেগুলো যথেষ্ট দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে না। এর মধ্যে বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অফিসে প্যাটেলের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং পদের সুযোগ-সুবিধা ও ভ্রমণের প্রতি তার অতি উৎসাহও হোয়াইট হাউসের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট উইংয়ের কেউ কেউ ব্যক্তিগত কাজে প্যাটেলের এফবিআই জেট ব্যবহার সংক্রান্ত সংবাদ শিরোনাম এবং তার আমোদপ্রিয় জীবনযাপন নিয়ে চলা কানাঘুষাগুলো নজরে রাখছেন। তারা আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প যদি এই বিষয়গুলোর দিকে নজর দেন, তবে তিনি বেশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের নৈতিকতা নির্দেশিকা বা এথিক্স হ্যান্ডবুকে উল্লেখ আছে যে, কোনো কর্মীর জন্য অভ্যাসগতভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।
বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল সতর্ক করেছেন যে, ডিউটির বাইরে মদ্যপান কেবল কর্মীদের বিচারবুদ্ধিই নষ্ট করে না, বরং এটি তাদের বিদেশি শত্রুদের শোষণ বা জবরদস্তির মুখে পড়ার ক্ষেত্রেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
কাশ প্যাটেলের মদ্যপানের বিষয়টি কোনো গোপন রহস্য নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালিতে এক সরকারি সফরের সময় মার্কিন পুরুষ অলিম্পিক হকি দলের স্বর্ণপদক জয়ের পর তাদের সাথে বিয়ার পানের একটি ভিডিওতে তাকে দেখা যায়। ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হন কারণ তিনি নিজে মদ্যপান করেন না । তার বড় ভাই ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়র অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে সৃষ্ট শারীরিক জটিলতায় মাত্র ৪২ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে মারা যান। তবে কর্মকর্তারা দ্য আটলান্টিককে জানিয়েছেন, কাশ প্যাটেলের অ্যালকোহল ব্যবহারের মাত্রা মাঝেমধ্যে বিয়ার পানের চেয়ে অনেক বেশি। এফবিআই কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের অন্যান্যরা ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন তুলেছেন যে, চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর সক্রিয় তদন্ত সম্পর্কে তিনি যে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন, তার পেছনে অ্যালকোহলের কোনো ভূমিকা ছিল কি না।

প্যাটেল সম্পর্কে অবগত অনেক ব্যক্তি দ্য আটলান্টিককে জানিয়েছেন, তারা প্যাটেল সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ জনসমক্ষে বা প্রথাগত হুইসেলব্লোয়ার চ্যানেলের মাধ্যমে প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ যারা তার প্রতি যথেষ্ট অনুগত নয়, তাদের দমনে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। প্যাটেলের নির্দেশে তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করতে এফবিআই কর্মীদের পলিগ্রাফ (মিথ্যা ধরার যন্ত্র) টেস্ট করা হয়।
এফবিআইইয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন যে, এই টেস্টে কর্মীদের প্যাটেলের শত্রু হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তারা কখনও ডিরেক্টর বা প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন কি না তাও জিজ্ঞেস করা হয়।
দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ প্যাটেলের পদে টিকে থাকার অন্যতম কারণ হলো প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুদের টার্গেট করার জন্য ফেডারেল সরকারকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুতি। তার ২০২৩ সালের বই গভর্নমেন্ট গ্যাংস্টারস- প্যাটেল বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন যাদের তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত করেন। সেই বছর স্টিভ ব্যাননের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যাটেল বলেছিলেন যে, ২০২০ সালের নির্বাচনের সংবাদ প্রচারের দায়ে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি এফবিআই-এর ভেতর থেকে ট্রাম্পবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী বা শত্রু হিসেবে মনে করা ব্যক্তিদের ছাঁটাই করার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি বরখাস্ত করা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা এবং প্যাটেলের কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জানালে বা নির্দেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা।
এফবিআই-এর কিছু কর্মকর্তা বলছেন, কাশ প্যাটেলের এই আচরণ দেশকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন যে, এফবিআই সদর দপ্তরে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগ ও প্যাটেলের নির্দেশে ছাঁটাইয়ের কারণে স্থানীয় অফিসগুলোতে কর্মী পরিবর্তনের হার অনেক বেশি। এর ফলে এফবিআই কর্মীদের সীমিত সম্পদ এবং শীর্ষ পর্যায় থেকে সঠিক নির্দেশনার অভাব থাকা সত্ত্বেও অনেক বেশি কাজ করতে হচ্ছে। সেই সাবেক কর্মকর্তা বলেন, সন্ত্রাসবাদী হামলা শনাক্ত করতে এবং তা মোকাবিলা করতে যে সহজাত দক্ষতা বা বিচক্ষণতা প্রয়োজন, তা এখন অনুপস্থিত। বর্তমানে কর্মরত একজন কর্মকর্তা ব্যুরোর ভেতরের মানুষের অনুভূতিকে অবরুদ্ধ, মোহমুক্ত এবং ক্রুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে প্যাটেল কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডের কিছু সদস্যকে বরখাস্ত করেছিলেন যারা ইরানের বিষয়ে কাজ করছিল। কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় প্যাটেল বলেছিলেন যে, ওই এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ ট্রাম্পের ক্লাসিফাইড ডকুমেন্ট বা গোপন নথিপত্র নাড়াচাড়ার বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে তারা ব্যুরোর নৈতিকতা বিধি লঙ্ঘন করেছেন। তবে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা চিন্তিত ছিলেন যে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমেরিকার জনবল কমিয়ে দেবে।
কাশ প্যাটেল জনসমক্ষে ঘোষণা করেছেন যে এফবিআই-কে ভয়ংকর হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবেও তিনি এই ইমেজ বা ভাবমূর্তি নিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে থাকেন। সম্প্রতি তিনি এফবিআই-এর মার্চেন্ডাইজ বা পণ্যসামগ্রীর ডিজাইন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, এগুলো যথেষ্ট ভীতিকর নয়। কর্মকর্তারা তার এমন আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন এবং তা নিয়ে আড়ালে উপহাসও করেন। তবে তারা বলেন যে, এই হাস্যকর আচরণের আড়ালে গভীর উদ্বেগ লুকিয়ে আছে বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠান যেটির ওপর দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নির্ভর করে, প্যাটেলের নেতৃত্ব সেখানে কী প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আমার একদিক থেকে ভালোই লাগে যে তিনি সে এই সব আজেবাজে বিষয়ে সময় নষ্ট করছেন, কারণ এটি আইনের শাসন ও আমেরিকান জনগণের জন্য কম বিপজ্জনক। তবে এর অর্থ এইও যে, আমাদের কোনো কার্যকর এফবিআই পরিচালক নেই।’’

গত ১০ এপ্রিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল যখন সাপ্তাহিক ছুটির আগে কাজ শেষ করে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিনি অফিসের অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার সিস্টেমে লগ-ইন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তিনি দ্রুত নিশ্চিত হয়ে যান যে তাকে সিস্টেম থেকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এতে কাশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তার এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত নয়জন ব্যক্তির মতে, কাশ প্যাটেল দ্রুত তার সহযোগী এবং মিত্রদের ফোন করতে শুরু করেন। ঘোষণা দেন যে, হোয়াইট হাউস তাকে বরখাস্ত করেছে। তাদের মধ্যে দুইজন ব্যক্তি তার এই আচরণকে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্যাটেল এমন একটি সংস্থার প্রধান যেখানে প্রায় ৩৮ হাজার কর্মী কাজ করেন, যাদের মধ্যে অনেকেই আদালতে শপথ নিয়ে তথ্য তদন্ত ও যাচাই করার কাজে প্রশিক্ষিত। তার এই আবেগপ্রবণ হওয়ার খবর পুরো ব্যুরোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এফবিআই অফিসে কিছু অংশে স্বস্তির ভাবও দেখা যায়। হোয়াইট হাউসে ব্যুরো এবং কংগ্রেস সদস্যদের কাছ থেকে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। সবার একটাই প্রশ্ন, এখন এফবিআই-এর দায়িত্বে কে আছেন?
অবশেষে দেখা গেল, তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত দুইজন জানিয়েছেন যে, অ্যাক্সেসের সমস্যাটি সম্ভবত একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল এবং তা দ্রুত সমাধান করা হয়। এফবিআইর কর্মকর্তারা জানান, পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত একেবারেই ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।
কিন্তু বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, কাশ প্যাটেল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে তার চাকরি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তার এমন ভাবার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী তার অতিরিক্ত মদ্যপানের সমস্যা।
see you and your entire entourage of false reporting in court... But do keep at it with the fake news, actual malice standard is now what some would call a legal lay up. https://t.co/MfbHH8OtLv pic.twitter.com/kw5U3LrfMM
— FBI Director Kash Patel (@FBIDirectorKash) April 18, 2026
তবে মদ্যপ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘‘আদালতে আপনার এবং আপনার মিথ্যা প্রতিবেদনের পুরো দলবলের সাথে দেখা হবে।’’
দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির অপসরণের পর প্যাটেলও বরখাস্ত হতে পারেন এমন তালিকায় ছিলেন। এই সপ্তাহে এফবিআই-এর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আমরা সবাই কেবল আনুষ্ঠানিক খবরের অপেক্ষায় আছি যে, কাশ প্যাটেল তার শীর্ষ পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন।’’

এছাড়া এফবিআইয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তা জানান, প্যাটেল যৌক্তিকভাবেই আতঙ্কগ্রস্ত । প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এবং হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ দুইজন ব্যক্তির মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এরইমধ্যে তার জায়গায় কে আসতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
দ্য আটলান্টিকের দেওয়া ১৯টি বিস্তারিত প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কাশ প্যাটেলের অধীনে সারা দেশে অপরাধের হার গত ১০০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। অনেক হাই-প্রোফাইল অপরাধীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিরেক্টর প্যাটেল প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বহাল আছেন।’’
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে জানান, পূর্ববর্তী প্রশাসন চার বছরে যা করেছে, প্যাটেল ১৪ মাসে তার চেয়ে বেশি অর্জন করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ভিত্তিতে করা মানহানিকর লেখা সাংবাদিকতার পর্যায়ে পড়ে না।
আইটি সংক্রান্ত এই ঘটনাটি এফবিআইপ্রধান হিসেবে কাশ প্যাটেলের বিশৃঙ্খল মেয়াদের একটি প্রতীকী চিত্র মাত্র। প্যাটেলের আচরণ সম্পর্কে দ্য আটলান্টিক দুই ডজনেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। যাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী, আতিথেয়তা খাতের কর্মী, কংগ্রেস সদস্য, রাজনৈতিক কুশলী, লবিস্ট এবং সাবেক উপদেষ্টারা রয়েছেন।
তাদের মতে, কাশ প্যাটেলের খামখেয়ালি স্বভাব, অন্যদের প্রতি সন্দিহান ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়ার আগেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার প্রবণতা তার মধ্যে প্রবল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, প্যাটেলের ব্যক্তিগত আচরণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি।
ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তার আচরণগত সমস্যাগুলো আগে যা জানা গিয়েছিল তার চেয়েও অনেক বেশি গভীর। এর মধ্যে রয়েছে জনসমক্ষে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান এবং কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা। তার এই আচরণ প্রায়ই এফবিআই এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের আতঙ্কিত করেছে। যদিও প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় তিনি সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তবুও তিনি হোয়াইট হাউসের সমর্থন লাভ করেছেন।
বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন, কাশ প্যাটেলের মদ্যপানের বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের একটি পুনরাবৃত্তিমূলক উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, তিনি প্রায়শই জনসমক্ষে মাতাল হওয়ার পর্যায় পর্যন্ত মদ্যপান করেন। অনেক ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ডিসির প্রাইভেট ক্লাব নেডস-এ হোয়াইট হাউস ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতিতেই তিনি এমনটা করেন। এছাড়া লাস ভেগাসের পুডল রুম-এও তিনি মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি প্রায়ই তার সাপ্তাহিক ছুটির কিছু সময় কাটান। কাশ প্যাটেলের কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত ছয়জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার মেয়াদের শুরুর দিকে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে পরদিন সকালের অনেক সভা ও ব্রিফিং পিছিয়ে দিতে হয়েছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে একাধিকবার কাশ প্যাটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে ঘুম থেকে জাগাতে বেগ পেয়েছেন, কারণ তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত একাধিক ব্যক্তির মতে, গত বছর প্যাটেল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখায় সোয়াটকে ব্রিচিং ইকুইপমেন্ট (যা সাধারণত সোয়াট বা জিম্মি উদ্ধারকারী দল দ্রুত কোনো ভবনে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করে) ব্যবহারের অনুরোধও জানানো হয়েছিল।
এফবিআইতে কাশ প্যাটেলের কিছু সহকর্মী আশঙ্কা করছেন যে, তার ব্যক্তিগত আচরণ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন এফবিআই পরিচালকের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয় যে তিনি সবসময় কাজের জন্য প্রস্তুত এবং মনোযোগী থাকবেন বিশেষ করে যখন দেশ সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক একটি রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা দ্য আটলান্টিককে জানিয়েছেন, কাশ প্যাটেল দায়িত্বে থাকাকালীন দেশে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে কী ঘটবে, তা নিয়ে তারা অনেক দিন ধরে উদ্বিগ্ন। তারা আরও জানান, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর গত কয়েক সপ্তাহে তাদের এই আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এই চিন্তাটাই রাতে আমার ঘুম কেড়ে নেয়।’’

কাশ প্যাটেল ২০২৫ সালের শুরুতে যখন এফবিআইতে আসেন, তখন থেকেই তিনি একজন অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি মিয়ামির একজন পাবলিক ডিফেন্ডার থেকে কংগ্রেসের সহকারী এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এফবিআই পরিচালক হিসেবে প্যাটেলের নিয়োগ সংক্রান্ত শুনানির সময় সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, ট্রাম্পের এই মনোনীত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করবেন। তিনি বলেছিলেন, এফবিআই-এর পরিবর্তনের জন্য তিনিই সঠিক কারিগর।
সন্দিহান ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্নের জবাবে কাশ প্যাটেল শপথ করে বলেছিলেন যে, কোনো প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে অংশ নেওয়া এফবিআই কর্মীদের শাস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনার কথা তার জানা নেই।
শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, অনেকেই কাশ প্যাটেলের ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন, কারণ তার অতীতে অদ্ভুত সব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিশ্বাস করার রেকর্ড ছিল, যার মধ্যে একটি ছিল যে, এফবিআই এবং তাদের সোর্সরা মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলায় উসকানি দিয়েছিল। বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান তাকে সমর্থন দেবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এবং তাদের মিত্রদের প্রবল চাপের মুখে প্যাটেল ৫১-৪৯ ভোটে জয়ী হয়ে নিশ্চিত হন।
বেশ কিছু কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত এফবিআই-এর ভেতরে অনেকেই আশা করেছিলেন যে, কাশ প্যাটেল হয়তো ব্যুরোকে একটি নতুন সূচনা দেবেন। কিন্তু যারা তার আগমনে উৎসাহিত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও অনেকে এখন হতাশ।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এফবিআই সদর দপ্তর এবং স্থানীয় অফিসগুলোতে প্যাটেলের উপস্থিতি ছিল অনিয়মিত, যা সংস্থার বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন, প্যাটেল প্রায়ই অনুপস্থিত বা নাগালের বাইরে থাকেন, যার ফলে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার জন্য জরুরি সিদ্ধান্তগুলো নিতে দেরি হয়ে যায়। একজন কর্মকর্তা জানান, প্যাটেলের এই বিলম্বের কারণে বেশ কয়েকবার ধৈর্যশীল এজেন্টরাও তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।
প্যাটেল উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত চলাকালীন আবেগতাড়িত বা হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও পরিচিতি পেয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, গত ডিসেম্বরে ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে গুলির ঘটনার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ দম্ভের সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন যে, এফবিআই একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। কিন্তু এর কিছু দিন পরই সেই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ আসল খুনিকে ধরতে এজেন্টদের তখনও তল্লাশি চালিয়ে যেতে হচ্ছিল।
তা সত্ত্বেও, প্যাটেলের ভক্তের সংখ্যা কম নয়। ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল হামলা এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্যান্য তদন্তে কাজ করা এজেন্টদের সংস্থা থেকে ছাঁটাই করার ক্ষেত্রে প্যাটেলের প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট বেশ সন্তুষ্ট। হোয়াইট হাউস এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, এফবিআই-এর ভেতর থেকে প্যাটেল সম্পর্কে যে গুঞ্জন বা অসন্তোষ শোনা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট খুব একটা বিচলিত নন। ট্রাম্পের বিরোধিতা করা এফবিআইয়ের অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ট্রাম্প-বিরোধী ডিপ স্টেট এজেন্ট হিসেবে মনে করেন প্যাটেল। তবে মাঝে মাঝে প্যাটেল খোদ প্রেসিডেন্টের রোষানলেও পড়েছেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, এফবিআই পরিচালককে টিভি সাক্ষাৎকারের জন্য অপ্রস্তুত মনে হয় এবং তিনি প্যাটেলকে যেসব হাই-প্রোফাইল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন সেগুলো যথেষ্ট দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে না। এর মধ্যে বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অফিসে প্যাটেলের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং পদের সুযোগ-সুবিধা ও ভ্রমণের প্রতি তার অতি উৎসাহও হোয়াইট হাউসের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট উইংয়ের কেউ কেউ ব্যক্তিগত কাজে প্যাটেলের এফবিআই জেট ব্যবহার সংক্রান্ত সংবাদ শিরোনাম এবং তার আমোদপ্রিয় জীবনযাপন নিয়ে চলা কানাঘুষাগুলো নজরে রাখছেন। তারা আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প যদি এই বিষয়গুলোর দিকে নজর দেন, তবে তিনি বেশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের নৈতিকতা নির্দেশিকা বা এথিক্স হ্যান্ডবুকে উল্লেখ আছে যে, কোনো কর্মীর জন্য অভ্যাসগতভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।
বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল সতর্ক করেছেন যে, ডিউটির বাইরে মদ্যপান কেবল কর্মীদের বিচারবুদ্ধিই নষ্ট করে না, বরং এটি তাদের বিদেশি শত্রুদের শোষণ বা জবরদস্তির মুখে পড়ার ক্ষেত্রেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
কাশ প্যাটেলের মদ্যপানের বিষয়টি কোনো গোপন রহস্য নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালিতে এক সরকারি সফরের সময় মার্কিন পুরুষ অলিম্পিক হকি দলের স্বর্ণপদক জয়ের পর তাদের সাথে বিয়ার পানের একটি ভিডিওতে তাকে দেখা যায়। ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হন কারণ তিনি নিজে মদ্যপান করেন না । তার বড় ভাই ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়র অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে সৃষ্ট শারীরিক জটিলতায় মাত্র ৪২ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে মারা যান। তবে কর্মকর্তারা দ্য আটলান্টিককে জানিয়েছেন, কাশ প্যাটেলের অ্যালকোহল ব্যবহারের মাত্রা মাঝেমধ্যে বিয়ার পানের চেয়ে অনেক বেশি। এফবিআই কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের অন্যান্যরা ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন তুলেছেন যে, চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর সক্রিয় তদন্ত সম্পর্কে তিনি যে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন, তার পেছনে অ্যালকোহলের কোনো ভূমিকা ছিল কি না।

প্যাটেল সম্পর্কে অবগত অনেক ব্যক্তি দ্য আটলান্টিককে জানিয়েছেন, তারা প্যাটেল সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ জনসমক্ষে বা প্রথাগত হুইসেলব্লোয়ার চ্যানেলের মাধ্যমে প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ যারা তার প্রতি যথেষ্ট অনুগত নয়, তাদের দমনে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। প্যাটেলের নির্দেশে তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করতে এফবিআই কর্মীদের পলিগ্রাফ (মিথ্যা ধরার যন্ত্র) টেস্ট করা হয়।
এফবিআইইয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন যে, এই টেস্টে কর্মীদের প্যাটেলের শত্রু হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তারা কখনও ডিরেক্টর বা প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন কি না তাও জিজ্ঞেস করা হয়।
দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ প্যাটেলের পদে টিকে থাকার অন্যতম কারণ হলো প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুদের টার্গেট করার জন্য ফেডারেল সরকারকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুতি। তার ২০২৩ সালের বই গভর্নমেন্ট গ্যাংস্টারস- প্যাটেল বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন যাদের তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত করেন। সেই বছর স্টিভ ব্যাননের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যাটেল বলেছিলেন যে, ২০২০ সালের নির্বাচনের সংবাদ প্রচারের দায়ে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি এফবিআই-এর ভেতর থেকে ট্রাম্পবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী বা শত্রু হিসেবে মনে করা ব্যক্তিদের ছাঁটাই করার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি বরখাস্ত করা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা এবং প্যাটেলের কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জানালে বা নির্দেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা।
এফবিআই-এর কিছু কর্মকর্তা বলছেন, কাশ প্যাটেলের এই আচরণ দেশকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা দ্য আটলান্টিককে বলেছেন যে, এফবিআই সদর দপ্তরে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগ ও প্যাটেলের নির্দেশে ছাঁটাইয়ের কারণে স্থানীয় অফিসগুলোতে কর্মী পরিবর্তনের হার অনেক বেশি। এর ফলে এফবিআই কর্মীদের সীমিত সম্পদ এবং শীর্ষ পর্যায় থেকে সঠিক নির্দেশনার অভাব থাকা সত্ত্বেও অনেক বেশি কাজ করতে হচ্ছে। সেই সাবেক কর্মকর্তা বলেন, সন্ত্রাসবাদী হামলা শনাক্ত করতে এবং তা মোকাবিলা করতে যে সহজাত দক্ষতা বা বিচক্ষণতা প্রয়োজন, তা এখন অনুপস্থিত। বর্তমানে কর্মরত একজন কর্মকর্তা ব্যুরোর ভেতরের মানুষের অনুভূতিকে অবরুদ্ধ, মোহমুক্ত এবং ক্রুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে প্যাটেল কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডের কিছু সদস্যকে বরখাস্ত করেছিলেন যারা ইরানের বিষয়ে কাজ করছিল। কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় প্যাটেল বলেছিলেন যে, ওই এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ ট্রাম্পের ক্লাসিফাইড ডকুমেন্ট বা গোপন নথিপত্র নাড়াচাড়ার বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে তারা ব্যুরোর নৈতিকতা বিধি লঙ্ঘন করেছেন। তবে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা চিন্তিত ছিলেন যে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমেরিকার জনবল কমিয়ে দেবে।
কাশ প্যাটেল জনসমক্ষে ঘোষণা করেছেন যে এফবিআই-কে ভয়ংকর হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবেও তিনি এই ইমেজ বা ভাবমূর্তি নিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে থাকেন। সম্প্রতি তিনি এফবিআই-এর মার্চেন্ডাইজ বা পণ্যসামগ্রীর ডিজাইন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, এগুলো যথেষ্ট ভীতিকর নয়। কর্মকর্তারা তার এমন আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন এবং তা নিয়ে আড়ালে উপহাসও করেন। তবে তারা বলেন যে, এই হাস্যকর আচরণের আড়ালে গভীর উদ্বেগ লুকিয়ে আছে বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠান যেটির ওপর দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নির্ভর করে, প্যাটেলের নেতৃত্ব সেখানে কী প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আমার একদিক থেকে ভালোই লাগে যে তিনি সে এই সব আজেবাজে বিষয়ে সময় নষ্ট করছেন, কারণ এটি আইনের শাসন ও আমেরিকান জনগণের জন্য কম বিপজ্জনক। তবে এর অর্থ এইও যে, আমাদের কোনো কার্যকর এফবিআই পরিচালক নেই।’’