চরচা ডেস্ক

টানা ব্যবসায়িক মন্দার মুখে অবশেষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পিৎজা চেইন ‘পিৎজা হাট’ বিক্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মূল প্রতিষ্ঠান ‘ইয়াম! ব্র্যান্ডস’। মোট ২৭০ কোটি মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) এই আইকনিক ব্র্যান্ডটি হাতবদল হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, পিৎজা হাটের বৈশ্বিক মালিকানা দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে পিৎজা হাটের বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ১৫০ কোটি ডলারে কিনে নিচ্ছে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান লংরেঞ্জ ক্যাপিটাল। অন্যদিকে, চীনের ভেতরের সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম ১২০ কোটি ডলারে কিনে নিচ্ছে ইয়াম চায়না হোল্ডিংস। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই লেনদেন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমেরিকায় আরামদায়ক পরিবেশে বসে পিৎজা খাওয়ার সমার্থক হয়ে ওঠা এই চেইনের দীর্ঘদিনের তীব্র মন্দার পরই এই বড় সিদ্ধান্ত এলো। আন্তর্জাতিক বাজারে পিৎজা হাটের মোট বিক্রির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে। কিন্তু মার্কিন বাজারে ক্রমাগত বিক্রি কমতে থাকায় গত ২০২৫ সালের নভেম্বরেই এটি বিক্রি করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল ইয়াম! ব্র্যান্ডস। মূলত ডোমিনোস, পাপা জনস এবং লিটল সিজার্সের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী চেইনগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পিৎজা হাটের এই পতন ঘটেছে। বর্তমানের উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে এই প্রতিযোগী ব্র্যান্ডগুলো ক্রেতা আকর্ষণ করতে বিপুল ছাড়ের নীতি বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি মাঝারি আকারের আঞ্চলিক চটপটে ফাস্টফুড ব্র্যান্ডগুলো ভোক্তাদের পরিবর্তনশীল অভ্যাসের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে পিৎজা হাটের বাজার দখল করেছে। একই সময়ে বাজারে থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলোর দ্রুত উত্থানের ফলে ক্রেতাদের সামনে বিকল্পের বন্যা বয়ে গেছে, যা পিৎজা হাটের ঐতিহাসিক একচেটিয়া আধিপত্যকে দুর্বল করে দিয়েছে।
ব্যবসায়িক হাতবদলের বিষয়ে ‘ইয়াম! ব্র্যান্ডসে’র প্রধান নির্বাহী ক্রিস টার্নার বলেন, নতুন মালিকপক্ষের রেস্তোরাঁ শিল্পে গভীর অভিজ্ঞতা থাকায় লংরেঞ্জ এবং ইয়াম চায়নার অধীনে পিৎজা হাট ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে। পিৎজা হাট বিশ্বের অন্যতম আইকনিক রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ড এবং ইয়ামের ইতিহাসে এটি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার জন্য তারা গর্বিত।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে পিৎজা হাটের যুক্তরাজ্য শাখা কিনে নিয়েছিল ইয়াম!। মূলত দেশটিতে ডাইন-ইন রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিসি লন্ডন পাই দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর ইয়াম এই উদ্ধার পদক্ষেপ নেয়। ওই আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে শুরুতে ৬৮টি রেস্তোরাঁ বন্ধ এবং ১ হাজার ২০০-র বেশি চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়লেও, একটি বিশেষ চুক্তির অংশ হিসেবে পরে প্রায় ৬৪টি রেস্তোরাঁ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল।
ধুঁকতে থাকা পিৎজা হাট বিভাগটি পুরোপুরি বিক্রি করে দিয়ে ইয়াম! ব্র্যান্ডস এখন তাদের বাকি থাকা মূল ও লাভজনক ব্র্যান্ড যেমন—কেএফসি এবং ট্যাকো বেলের ওপর করপোরেট মনোযোগ ও সম্পদ কেন্দ্রীভূত করতে চায়। ১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের উইচিটাতে দুই ভাইয়ের হাত ধরে পিৎজা হাট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে এটি কোমল পানীয় জায়ান্ট পেপসিকো কিনে নেয় এবং ১৯৯৭ সালে পেপসিকো থেকে রেস্তোরাঁ বিভাগ আলাদা হয়ে এটি ইয়াম! ব্র্যান্ডস-এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

টানা ব্যবসায়িক মন্দার মুখে অবশেষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পিৎজা চেইন ‘পিৎজা হাট’ বিক্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মূল প্রতিষ্ঠান ‘ইয়াম! ব্র্যান্ডস’। মোট ২৭০ কোটি মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) এই আইকনিক ব্র্যান্ডটি হাতবদল হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, পিৎজা হাটের বৈশ্বিক মালিকানা দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে পিৎজা হাটের বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ১৫০ কোটি ডলারে কিনে নিচ্ছে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান লংরেঞ্জ ক্যাপিটাল। অন্যদিকে, চীনের ভেতরের সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম ১২০ কোটি ডলারে কিনে নিচ্ছে ইয়াম চায়না হোল্ডিংস। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই লেনদেন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমেরিকায় আরামদায়ক পরিবেশে বসে পিৎজা খাওয়ার সমার্থক হয়ে ওঠা এই চেইনের দীর্ঘদিনের তীব্র মন্দার পরই এই বড় সিদ্ধান্ত এলো। আন্তর্জাতিক বাজারে পিৎজা হাটের মোট বিক্রির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে। কিন্তু মার্কিন বাজারে ক্রমাগত বিক্রি কমতে থাকায় গত ২০২৫ সালের নভেম্বরেই এটি বিক্রি করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল ইয়াম! ব্র্যান্ডস। মূলত ডোমিনোস, পাপা জনস এবং লিটল সিজার্সের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী চেইনগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পিৎজা হাটের এই পতন ঘটেছে। বর্তমানের উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে এই প্রতিযোগী ব্র্যান্ডগুলো ক্রেতা আকর্ষণ করতে বিপুল ছাড়ের নীতি বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি মাঝারি আকারের আঞ্চলিক চটপটে ফাস্টফুড ব্র্যান্ডগুলো ভোক্তাদের পরিবর্তনশীল অভ্যাসের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে পিৎজা হাটের বাজার দখল করেছে। একই সময়ে বাজারে থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলোর দ্রুত উত্থানের ফলে ক্রেতাদের সামনে বিকল্পের বন্যা বয়ে গেছে, যা পিৎজা হাটের ঐতিহাসিক একচেটিয়া আধিপত্যকে দুর্বল করে দিয়েছে।
ব্যবসায়িক হাতবদলের বিষয়ে ‘ইয়াম! ব্র্যান্ডসে’র প্রধান নির্বাহী ক্রিস টার্নার বলেন, নতুন মালিকপক্ষের রেস্তোরাঁ শিল্পে গভীর অভিজ্ঞতা থাকায় লংরেঞ্জ এবং ইয়াম চায়নার অধীনে পিৎজা হাট ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে। পিৎজা হাট বিশ্বের অন্যতম আইকনিক রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ড এবং ইয়ামের ইতিহাসে এটি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার জন্য তারা গর্বিত।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে পিৎজা হাটের যুক্তরাজ্য শাখা কিনে নিয়েছিল ইয়াম!। মূলত দেশটিতে ডাইন-ইন রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিসি লন্ডন পাই দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর ইয়াম এই উদ্ধার পদক্ষেপ নেয়। ওই আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে শুরুতে ৬৮টি রেস্তোরাঁ বন্ধ এবং ১ হাজার ২০০-র বেশি চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়লেও, একটি বিশেষ চুক্তির অংশ হিসেবে পরে প্রায় ৬৪টি রেস্তোরাঁ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল।
ধুঁকতে থাকা পিৎজা হাট বিভাগটি পুরোপুরি বিক্রি করে দিয়ে ইয়াম! ব্র্যান্ডস এখন তাদের বাকি থাকা মূল ও লাভজনক ব্র্যান্ড যেমন—কেএফসি এবং ট্যাকো বেলের ওপর করপোরেট মনোযোগ ও সম্পদ কেন্দ্রীভূত করতে চায়। ১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের উইচিটাতে দুই ভাইয়ের হাত ধরে পিৎজা হাট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে এটি কোমল পানীয় জায়ান্ট পেপসিকো কিনে নেয় এবং ১৯৯৭ সালে পেপসিকো থেকে রেস্তোরাঁ বিভাগ আলাদা হয়ে এটি ইয়াম! ব্র্যান্ডস-এর অন্তর্ভুক্ত হয়।