চরচা ডেস্ক

ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই প্রথম কাজ হয়ে গেছে ফোন হাতে নেওয়া। অ্যালার্ম বন্ধ করেই কেউ নোটিফিকেশন দেখেন, কেউ কাজের ইমেইল, আবার কেউ রাতের কোনো মেসেজ এসেছে কি না তা খোঁজেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন স্ক্রল করার এই অভ্যাস শুধু তথ্য জানার জন্য নয়–এটি সারাদিনের মানসিক অবস্থা, মনোযোগ ও চাপের মাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যারিল্যান্ডের অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও ব্যথা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ কুনাল সুদ একটি ইন্সটাপোস্টের এই বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরে। তিনি বলেন, সকালে ফোন ব্যবহার মস্তিষ্ককে একসঙ্গে নোটিফিকেশন, অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা, অতিরিক্ত তথ্য এবং দ্রুত মনোযোগ বদলের প্রবণতা তৈরি করে। ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময় এই বিষয়গুলো মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এক প্রতিবেদনে এই বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
স্ট্রেস বাড়তে পারে
ডা. কুনাল সুদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কিছুটা বাড়ে। এ সময় সঙ্গে সঙ্গে ফোনে ইমেইল, মেসেজ বা খবর দেখা হলে কর্টিসল আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে শরীরের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম বেশি সক্রিয় হয়ে মানসিক চাপ ও উত্তেজনা বাড়ায়।
নোটিফিকেশন মস্তিষ্ককে সতর্ক অবস্থায় রাখে
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, নোটিফিকেশন এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তা মনোযোগে বাধা দেয় এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে ফোন হাতে না নিলেও এসব নোটিফিকেশন মনোযোগ নষ্ট করতে পারে এবং একাগ্রতা ও চিন্তার নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ডা. কুনাল সুদ বলেন, নোটিফিকেশন এমনভাবে তৈরি যে এটি মনোযোগ ভেঙে দেয় এবং মনে হয় সঙ্গে সঙ্গে কিছু একটা দেখার বা জবাব দেওয়ার দরকার আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফোন হাতে না নিলেও এসব নোটিফিকেশন মনোযোগ ও চিন্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
উদ্বেগ তৈরি হতে পারে
রাতে কী ঘটেছে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ এসেছে কি না–এই অনিশ্চয়তা দূর করতে অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখেন। ফোন চেক করার পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও সেটি এক ধরনের চক্র তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ উদ্বেগ থেকে ফোন দেখার তাগিদ আসে, আর ফোন দেখে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ কমে–কিন্তু পরে আবার সেই উদ্বেগ ফিরে আসে।
ডা. কুনাল সুদ বলেন, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও খারাপ ঘুমের সঙ্গে বারবার সম্পর্কিত হিসেবে দেখা গেছে।
অতিরিক্ত তথ্য মস্তিষ্ককে চাপে ফেলতে পারে
ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখলে একসঙ্গে মেসেজ, রিমাইন্ডার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আপডেট, কাজের ইমেইল ও খবর–সব তথ্য একসঙ্গে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। ডা. কুনাল সুদের মতে, তথ্যের এই হঠাৎ চাপ মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং কোন তথ্য আগে গুরুত্ব পাবে, তা ঠিক করা কঠিন হয়ে যায়।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “ফোনে নানা ধরনের তথ্য একসঙ্গে আসে। অতিরিক্ত তথ্য মস্তিষ্কের তথ্য বাছাই ও সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করার ক্ষমতাকে চাপের মধ্যে ফেলতে পারে।”
দিনের শুরুতেই প্রতিক্রিয়ামুখী মানসিকতা তৈরি হতে পারে
এই চিকিৎসকের মতে, দিনের শুরু যদি নিজের প্রয়োজন বা পরিকল্পনার বদলে নোটিফিকেশন দেখা, মেসেজের জবাব দেওয়া বা বিভিন্ন অ্যালার্ট সামলানোর মধ্য দিয়ে হয়, তাহলে সারাদিন নিজের অগ্রাধিকারের বদলে মনোযোগ বাইরের চাহিদার দিকে বেশি ঝুঁকে যেতে পারে।
ডা. কুনাল সুদ বলেন, “দিনের প্রথম কাজ যদি নোটিফিকেশনের জবাব দেওয়া হয়, তাহলে মনোযোগ শুরু থেকেই বাইরের চাহিদা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। বারবার বাধা পাওয়া পরে গভীর মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন করে তুলতে পারে।”

ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই প্রথম কাজ হয়ে গেছে ফোন হাতে নেওয়া। অ্যালার্ম বন্ধ করেই কেউ নোটিফিকেশন দেখেন, কেউ কাজের ইমেইল, আবার কেউ রাতের কোনো মেসেজ এসেছে কি না তা খোঁজেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন স্ক্রল করার এই অভ্যাস শুধু তথ্য জানার জন্য নয়–এটি সারাদিনের মানসিক অবস্থা, মনোযোগ ও চাপের মাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যারিল্যান্ডের অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও ব্যথা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ কুনাল সুদ একটি ইন্সটাপোস্টের এই বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরে। তিনি বলেন, সকালে ফোন ব্যবহার মস্তিষ্ককে একসঙ্গে নোটিফিকেশন, অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা, অতিরিক্ত তথ্য এবং দ্রুত মনোযোগ বদলের প্রবণতা তৈরি করে। ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময় এই বিষয়গুলো মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এক প্রতিবেদনে এই বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
স্ট্রেস বাড়তে পারে
ডা. কুনাল সুদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কিছুটা বাড়ে। এ সময় সঙ্গে সঙ্গে ফোনে ইমেইল, মেসেজ বা খবর দেখা হলে কর্টিসল আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে শরীরের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম বেশি সক্রিয় হয়ে মানসিক চাপ ও উত্তেজনা বাড়ায়।
নোটিফিকেশন মস্তিষ্ককে সতর্ক অবস্থায় রাখে
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, নোটিফিকেশন এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তা মনোযোগে বাধা দেয় এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে ফোন হাতে না নিলেও এসব নোটিফিকেশন মনোযোগ নষ্ট করতে পারে এবং একাগ্রতা ও চিন্তার নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ডা. কুনাল সুদ বলেন, নোটিফিকেশন এমনভাবে তৈরি যে এটি মনোযোগ ভেঙে দেয় এবং মনে হয় সঙ্গে সঙ্গে কিছু একটা দেখার বা জবাব দেওয়ার দরকার আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফোন হাতে না নিলেও এসব নোটিফিকেশন মনোযোগ ও চিন্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
উদ্বেগ তৈরি হতে পারে
রাতে কী ঘটেছে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ এসেছে কি না–এই অনিশ্চয়তা দূর করতে অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখেন। ফোন চেক করার পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও সেটি এক ধরনের চক্র তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ উদ্বেগ থেকে ফোন দেখার তাগিদ আসে, আর ফোন দেখে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ কমে–কিন্তু পরে আবার সেই উদ্বেগ ফিরে আসে।
ডা. কুনাল সুদ বলেন, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও খারাপ ঘুমের সঙ্গে বারবার সম্পর্কিত হিসেবে দেখা গেছে।
অতিরিক্ত তথ্য মস্তিষ্ককে চাপে ফেলতে পারে
ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখলে একসঙ্গে মেসেজ, রিমাইন্ডার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আপডেট, কাজের ইমেইল ও খবর–সব তথ্য একসঙ্গে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। ডা. কুনাল সুদের মতে, তথ্যের এই হঠাৎ চাপ মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং কোন তথ্য আগে গুরুত্ব পাবে, তা ঠিক করা কঠিন হয়ে যায়।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “ফোনে নানা ধরনের তথ্য একসঙ্গে আসে। অতিরিক্ত তথ্য মস্তিষ্কের তথ্য বাছাই ও সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করার ক্ষমতাকে চাপের মধ্যে ফেলতে পারে।”
দিনের শুরুতেই প্রতিক্রিয়ামুখী মানসিকতা তৈরি হতে পারে
এই চিকিৎসকের মতে, দিনের শুরু যদি নিজের প্রয়োজন বা পরিকল্পনার বদলে নোটিফিকেশন দেখা, মেসেজের জবাব দেওয়া বা বিভিন্ন অ্যালার্ট সামলানোর মধ্য দিয়ে হয়, তাহলে সারাদিন নিজের অগ্রাধিকারের বদলে মনোযোগ বাইরের চাহিদার দিকে বেশি ঝুঁকে যেতে পারে।
ডা. কুনাল সুদ বলেন, “দিনের প্রথম কাজ যদি নোটিফিকেশনের জবাব দেওয়া হয়, তাহলে মনোযোগ শুরু থেকেই বাইরের চাহিদা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। বারবার বাধা পাওয়া পরে গভীর মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন করে তুলতে পারে।”