Advertisement Banner

এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল সংক্রান্ত আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল সংক্রান্ত আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি: পিএমও

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সংসদ সদস্য পারিতোষিক ও ভাতাদি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাত সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করাসহ আরও এক প্রস্তাব ও দুই আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদ সদস্যদের পারিতোষিক ও ভাতাদি সংক্রান্ত ১৯৭৩ সালের আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। তবে বর্তমান বিশ্ব ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবং সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে এই বিশেষ সুবিধা বাতিলের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পেশ করা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

এতে আরও বলা হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে একে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ঢাকা ওয়াসার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রকল্পের অংশটুকু সুষ্ঠু প্রশাসনিক ও ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুঁজিবাজার ও বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দক্ষ জনবল নিয়োগের পথ সুগম করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা সংক্রান্ত শর্ত বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বিএসইসি আইন, ১৯৯৩ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ সংশোধনের মাধ্যমে এই বয়সসীমার বাধা দূর করা হয়েছে। এরআগে এই বয়সসীমা যথাক্রমে ৬৫ ও ৬৭ বছর ছিল। মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো এশীয় দেশগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সাথে মিল রেখে ‘জাতীয় চা দিবস’ পালনের তারিখ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে এখন থেকে বাংলাদেশে ৪ জুনের পরিবর্তে প্রতি বছর ২১ মে ‘জাতীয় চা দিবস’ পালিত হবে। ভারত, চীন ও শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের প্রধান চা উৎপাদনকারী দেশগুলো এই দিনে আন্তর্জাতিক চা দিবস পালন করে থাকে।

সম্পর্কিত