ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে নতুন সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা। একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘ডাইনামিক টার্গেটিং’-এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি, আরব উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চল এবং ওমান উপসাগর ঘিরে ইরানের সক্ষমতার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ছোট ও দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান, মাইন পাতাতে সক্ষম জাহাজ এবং যেসব সামরিক সম্পদের মাধ্যমে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথগুলো কার্যত বন্ধ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে।
প্রথম এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করলেও বেশিরভাগ হামলা ছিল প্রণালি থেকে দূরের স্থাপনাগুলোতে। নতুন পরিকল্পনায় কৌশলগত নৌপথগুলোকে কেন্দ্র করে আরও লক্ষ্যভিত্তিক বোমা হামলার কথা বলা হয়েছে।
এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। এছাড়া ইরানের কাছে বিপুলসংখ্যক ছোট নৌযান রয়েছে, যেগুলো থেকে জাহাজে হামলা চালানো সম্ভব।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ শিপিং ব্রোকারসহ একাধিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, কেবল প্রণালি ঘিরে সামরিক হামলা চালালেই তাৎক্ষণিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবার চালু করা সম্ভব নয়।
সূত্রগুলো সিএনএনকে আরও জানায়, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের আগের হুমকি অনুযায়ী তেহরানের অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলা চালানো হতে পারে। আরেকটি বিকল্প হিসেবে ইরানের যেসব নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
এক সূত্রের মতে, এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার আহমদ বাহিদিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রশ্নে প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, “অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা ভবিষ্যৎ বা সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করি না। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প দিচ্ছে এবং সব ধরনের বিকল্পই এখনও বিবেচনায় রয়েছে।”
সূত্রগুলো জানায়, নতুন পরিকল্পনার আওতায় ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং উৎপাদন স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলায় ধ্বংস হয়নি বা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর নতুন কৌশলগত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক ব্রিফিংয়ে স্বীকার করেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান তাদের কিছু অবশিষ্ট সামরিক সম্পদ নতুন স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হতে পারে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের অনীহা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।