আরমান হোসেন মুরাদ

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করায় রোগী স্থানান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশের ফলে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া চললেও হাসপাতালটি সিলগালা না করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হাসপাতালটি আপিল করতে পারবে।
প্রভাত চন্দ্র আরও জানান, আদ–দ্বীন হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে পারবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) মো. আবু আহমেদ শফি সাংবাদিকদের বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ হচ্ছে কি না, সেটা দেখতে আমরা এসেছি। লাইসেন্স বাতিল মানে এখানে আর নতুন রোগী ভর্তি হবে না। কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, তবে সিলগালা করা হচ্ছে না।”
এদিকে হাসপাতালের আইন কর্মকর্তা সিফাত শাহারিহার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি, তবে ক্রিটিকাল রোগী আছে আমাদের এখানে। তাদের জন্য সরাতে সময় প্রয়োজন। এই সময়ে আমরা নতুন রোগী ভর্তি করব না। আমরা প্রত্যাশা করি সরকার আমাদেরকে সকল কার্যক্রম চালু রাখার জন্য কিছুটা সুযোগ দেবে।”
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ হলেও বর্তমানে আইসিইউ, নবজাতক ও সার্জারি ইউনিটে থাকা সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকজন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগী এখনো লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন, যাদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে থাকা রোগীর স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, হঠাৎ করে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে নবজাতক ও আইসিইউতে থাকা রোগীরা। স্বজনরা জানান, তারা দিন-রাত হাসপাতালেই অবস্থান করছেন, কারণ রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শিহাব হাসান বলেন, “রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ধাপে ধাপে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রেখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।”
এই কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কর্তৃপক্ষ আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশা প্রকাশ করেছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখে রোগীদের চিকিৎসা নিরাপদভাবে সম্পন্ন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা নবজাতককে নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, “আমার বাচ্চাটি চার দিন আগে জন্ম নিয়ে এনআইসিইউতে ভর্তি এবং বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। বাচ্চাকে এখান থেকে সরালে সে বাঁচবে না, কারণ ও লাইফ সাপোর্টে আছে। ওকে নাড়ানোই যাবে না। এখন হাসপাতাল বন্ধ হলে আমরা কী করব?”
ইমাম হোসেন এক ব্যক্তি বলেন, “আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি, আমার সব টাকা-পয়সা আগেই জমা দেওয়া হয়েছে। এখন হঠাৎ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হলে আমরা কী করব, কোথায় যাব? আমরা অনেক দিন ধরেই এখানে চিকিৎসা নিচ্ছি, এই হাসপাতালের ওপর আস্থা রেখে এসেছি। এখন যদি কার্যক্রম বন্ধের কারণে আরও কোনো বাচ্চার ক্ষতি হয় বা এনআইসিইউতে থাকা শিশুদের কিছু হয়ে যায়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? আগে ছয়টা বাচ্চা মারা গেছে, এখন আবার এভাবে বন্ধ হলে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হবে।”
গত ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা’র প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই ছয় শিশুর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। ওই দিন বিকেলে হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, ৭ জুন বিকাল ৫টার মধ্যে জানাতে বলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গতকাল বুধবার বলেছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশের যে জবাব দিয়েছে তা ‘সন্তোষজনক নয়’।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করায় রোগী স্থানান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশের ফলে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া চললেও হাসপাতালটি সিলগালা না করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হাসপাতালটি আপিল করতে পারবে।
প্রভাত চন্দ্র আরও জানান, আদ–দ্বীন হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে পারবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) মো. আবু আহমেদ শফি সাংবাদিকদের বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ হচ্ছে কি না, সেটা দেখতে আমরা এসেছি। লাইসেন্স বাতিল মানে এখানে আর নতুন রোগী ভর্তি হবে না। কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, তবে সিলগালা করা হচ্ছে না।”
এদিকে হাসপাতালের আইন কর্মকর্তা সিফাত শাহারিহার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি, তবে ক্রিটিকাল রোগী আছে আমাদের এখানে। তাদের জন্য সরাতে সময় প্রয়োজন। এই সময়ে আমরা নতুন রোগী ভর্তি করব না। আমরা প্রত্যাশা করি সরকার আমাদেরকে সকল কার্যক্রম চালু রাখার জন্য কিছুটা সুযোগ দেবে।”
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ হলেও বর্তমানে আইসিইউ, নবজাতক ও সার্জারি ইউনিটে থাকা সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকজন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগী এখনো লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন, যাদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে থাকা রোগীর স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, হঠাৎ করে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে নবজাতক ও আইসিইউতে থাকা রোগীরা। স্বজনরা জানান, তারা দিন-রাত হাসপাতালেই অবস্থান করছেন, কারণ রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শিহাব হাসান বলেন, “রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ধাপে ধাপে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রেখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।”
এই কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কর্তৃপক্ষ আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশা প্রকাশ করেছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখে রোগীদের চিকিৎসা নিরাপদভাবে সম্পন্ন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা নবজাতককে নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, “আমার বাচ্চাটি চার দিন আগে জন্ম নিয়ে এনআইসিইউতে ভর্তি এবং বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। বাচ্চাকে এখান থেকে সরালে সে বাঁচবে না, কারণ ও লাইফ সাপোর্টে আছে। ওকে নাড়ানোই যাবে না। এখন হাসপাতাল বন্ধ হলে আমরা কী করব?”
ইমাম হোসেন এক ব্যক্তি বলেন, “আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি, আমার সব টাকা-পয়সা আগেই জমা দেওয়া হয়েছে। এখন হঠাৎ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হলে আমরা কী করব, কোথায় যাব? আমরা অনেক দিন ধরেই এখানে চিকিৎসা নিচ্ছি, এই হাসপাতালের ওপর আস্থা রেখে এসেছি। এখন যদি কার্যক্রম বন্ধের কারণে আরও কোনো বাচ্চার ক্ষতি হয় বা এনআইসিইউতে থাকা শিশুদের কিছু হয়ে যায়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? আগে ছয়টা বাচ্চা মারা গেছে, এখন আবার এভাবে বন্ধ হলে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হবে।”
গত ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা’র প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই ছয় শিশুর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। ওই দিন বিকেলে হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, ৭ জুন বিকাল ৫টার মধ্যে জানাতে বলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গতকাল বুধবার বলেছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশের যে জবাব দিয়েছে তা ‘সন্তোষজনক নয়’।