ইসির গেট অবরোধের হুমকি ছাত্রদলের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ইসির গেট অবরোধের হুমকি ছাত্রদলের
গতকাল রোববারও ইসির সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ছবি: চরচা

দাবি আদায় না হলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল ফটক আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

সোমবার দুপুরের ইসির সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে রাকিব বলেন, “আজকে যদি আমাদের দাবি আদায়ে আপনাদের (ইসি) সদিচ্ছার প্রকাশ না পায়, আমরা আমাদের সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করব। আমরা বর্তমানে শুধু মূল সড়ক অবরোধ করছি; তবে দাবি আদায়ে প্রয়োজনে মূল গেট অবরোধের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।”

বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে রোববার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দিনভর ইসির সামনে অবস্থান নেন। পরদিনও অবস্থান চালানোর ঘোষণা দিয়ে রাতে এলাকা ছাড়েন তারা।

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, “আমাদের দ্বিতীয় দিনের মতো এখানে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আবারো ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমি ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গতকালের মতো সুশৃঙ্খলভাবে আমরা এখানে তপ্ত রোধকে উপেক্ষা করে অবস্থান করব এবং আমাদের দাবি আদায় করতে যদি সারা রাত এখানে অবস্থান করতে হয় আমরা করব।”

রাকিব বলেন, “আজ আমাদের দাবি আদায় ব্যতীত আমরা এখান থেকে ছেড়ে যাব না। সেজন্যে এই ভবনের সম্মুখে যারা রয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি কথা বলছি, আপনাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে…গতকাল আপনারা অনেক ব্যস্ত ছিলেন। আপনাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। সর্বশেষ দিন ছিল অনেকগুলো বিষয় নিষ্পত্তির জন্য।”

তিনি আরও বলেন, “সেজন্য আমরা আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের স্লোগান দিতে নিষেধ করেছিলাম। সেহেতু অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা দয়া করে আপনারা যে কথা দিয়েছেন, অবশ্যই আজকের দিনের মধ্যে এই বিষয়ে আমরা আমাদের ফলাফল চাই। আমরা সুষ্ঠভাবে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আপনাদের নির্ধারিত সময়েই পুরো বাংলাদেশে আমরা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে চাই। সেজন্যে আজ আপনারা সেই সমাধান দিবেন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।”

ছাত্রদলের তিন অভিযোগ-

  • পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
  • বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
  • বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনি সংকেত।

সম্পর্কিত