যুদ্ধের মধ্যেই আলোচনার টেবিলে আমেরিকা-চীন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যুদ্ধের মধ্যেই আলোচনার টেবিলে আমেরিকা-চীন
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সংঘাতের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান দুই শক্তি আমেরিকা ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমানে প্যারিসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো চলতি মাসের শেষে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সম্ভাব্য শীর্ষ সম্মেলনের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা।

আজ রোববার অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টেের সদর দপ্তরে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেং এই আলোচনা শুরু করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

বিগত ২০২৫ সাল জুড়ে দুই দেশের মধ্যে চরম বাণিজ্য যুদ্ধ চলেছে, যেখানে পাল্টাপাল্টি শুল্ক হার তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল। অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ট্রাম্প-শি সাক্ষাতের পর উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আবারও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র চীনের শিল্প সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করায় স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এই আলোচনার ওপর ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে দুই দেশই উদ্বিগ্ন।

সরবরাহ বাড়াতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি সাগরে আটকে থাকা রাশিয়ান তেল বিক্রির ওপর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনের ঘোষণা অনুযায়ী, ট্রাম্প আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করতে পারেন। তবে বেইজিং প্রথা অনুযায়ী এখনো এই তারিখ নিশ্চিত করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বছরের মধ্যে দুই নেতার আরও দুবার (নভেম্বরে এপিইসি এবং ডিসেম্বরে জি-২০ সম্মেলনে) সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থায় এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বড় কোনো নাটকীয় চুক্তির আশা এখনই করছেন না, তবে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই মুহূর্তের বড় সাফল্য হতে পারে।

সম্পর্কিত