Advertisement Banner

যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড: দুই শুটার গ্রেপ্তার

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড: দুই শুটার গ্রেপ্তার
গত বছরের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর পল্লবী থানার সেকশন সি ব্লকে একটি দোকানে ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুরে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে ‘সরাসরি অংশ নেওয়ার’ অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিযন (র‍্যাব)। গ্রেপ্তাররা হলেন- রোকন ওরফে লোপন জাঙ্গাগীর ওরফে কাল্লু।

র‍্যাব বলছে, এই দুইজন সরাসরি কিবরিয়া হত্যায় যুক্ত ছিলেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে র‍্যাব-৪ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানান।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর পল্লবী থানার সেকশন সি ব্লকে বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার নামের একটি দোকানে ঢুকে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন শুটার একে একে তাকে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার পর একজন শুটার জনতার হাতে ধরা পড়লেও বাকি দুজন পলাতক ছিলেন। প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে তারা। এর আগে পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত পাতা সোহেল ও বুক সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, পলাতক দুই শুটার অবৈধ পথে দেশত্যাগের চেষ্টা করেছিল। সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে ব্যর্থ হয়ে তারা আবার ঢাকায় ফিরে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে লোপনকে এবং উত্তরার দিয়াবাড়ি ১৮ নম্বর সেক্টর থেকে কাল্লুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে লোপন তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলভার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। রিভলভারের চেম্বারে ছয় রাউন্ড গুলি ধারণক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে তিন রাউন্ড ব্যবহৃত হয়েছে। দুটি কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে এবং একটি ফাঁকা গুলি করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার হয়। কিলিং মিশনে সরাসরি তিনজন শুটার অংশ নেয়—জনি (আগেই গ্রেপ্তার), রোপন ও কাল্লু।

এই কর্মকর্তা আর বলেন, “এ ছাড়া অস্ত্র সরবরাহ ও সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল পাতা সোহেল। শুটারদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য রেসকিউ টিমে ছিল ভাগিনা মাসুম। নিহত কিবরিয়ার গতিবিধি নজরদারির দায়িত্বে ছিল বুক সুজন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ছয় থেকে সাতজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত।”

শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, “রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। নিহত কিবরিয়া স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় যুবদল নেতা ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, এলাকায় চাঁদাবাজি, ডেভেলপার ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন প্রভাব বিস্তারমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।”

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত করছে। শিগগিরই গ্রেপ্তারদের ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সম্পর্কিত