চরচা ডেস্ক

কয়েকদিন ধরে বইয়ের কথা খুব শোনা যাচ্ছে। বইয়ের কথা শুনতে ভালোই লাগে। এবার বইয়ের কথা বেশি শুনতে পাওয়ার কারণ, ঢাকার উত্তরায় খুলেছে একটি নতুন বইয়ের দোকান—‘কিনোকুনিয়া’। জাপানি এই বুকশপ চেইন বিশ্বজুড়ে বইপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত। এর আগে যখন মহাসমারোহে ঢাকায় বাতিঘরের আউটলেট খুলেছিল তখনও বই নিয়ে নগরবাসীর উন্মাদনা দেখা গেছে।
বইয়ের প্রতি ভালোবাসা আর বই নিয়ে উন্মাদনা এক বিষয় নয়। নতুন একটি বইয়ের দোকান খুলেছে শুনে তা দেখতে যাওয়া, গিয়ে সেল্ফি তোলা, খাওয়াদাওয়া—মানেই কি বইপ্রেম? অনেকে তো এও বলছেন, এত্তো আধুনিক ও অভিজাত বইয়ের দোকান উদ্বোধন হলো, তা ঘুরে না আসলে জাতে ওঠা যাবে না।
বইমেলায়ও তো কত মানুষ আসে। বই বিক্রি হয় কয়টা? নতুন বইয়ের দোকানে ঢুকতে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করো, লাইন ধরা—তা তো আশার কথা। তবে কিনোকুনিয়াই বলতে পারবে এর বিপরীতে বই বিক্রি হলো কতগুলো।
বই সবাই কেনে না। আর যারা কেনে তারাও কি আদি, আসল, খাঁটি বইপ্রেমী? সম্ভবত না। অনেকে আছেন, বই কিনে ঘর ভরে ফেলছেন, কিন্তু বই পড়ার নামগন্ধ নেই। কিনছেন তো কিনছেনই। এ ধরনের বই ক্রেতাদের ওই জাপানি ভাষাতেই কী বলে জানেন তো? ‘সোন্দুকু’। শব্দটি প্রচলন হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে। ‘সুন’ অর্থ ‘স্তূপ করা’ আর ‘দুকু’ অর্থ ‘পড়া’। এর পুরো অর্থ দাঁড়ায়, ‘পড়ার মতো জিনিস কিনে স্তূপ করা’। ভাবা উচিত, আমি কী সত্যিই বইপ্রেমী? নাকি আমার ‘সুন্দুকু’ প্রবণতা রয়েছে? কিনছি কিন্তু পড়ছি না।
সুন্দুকু না থাকলে তো ভালোই। ‘বিবলিওম্যানিয়া’ আছে কিনা তাও জানা জরুরি। ব্রিটিশ গ্রন্থপঞ্জি সম্পাদক টমাস ফ্রগনাল ডিবডিন ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই শিরোনামে একটি বই লিখেছিলেন। সেখান থেকে শব্দটি ছড়িয়ে পড়ে। ‘বিবলিওম্যানিয়া’ অর্থ ‘বইপাগল’, পাগল—কিন্তু প্রেমী না। যাদের বিবলিওম্যানিয়া আছে তারা শুধু বই সংগ্রহ করে যান। দুর্লভ ও প্রাচীন বই সংগ্রহ তাদের নেশা।
সুন্দুকু ও বিবলিওম্যানিয়া শব্দ দুটির অর্থ কাছাকাছি মনে হলেও, পার্থক্য আছে। বই পড়ার উদ্দেশ্য বই কিনে, না পড়ে ফেলে রাখার প্রবণতাকে সুন্দুকু বলে। এভাবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বইয়ের স্তূপ বা সংগ্রহ তৈরি হয়ে যায়। অন্যদিকে বিবলিওম্যানিয়া বলতে বই সংগ্রহ গড়ে তোলার প্রবল আগ্রহ বা প্রবণতাকে বোঝায়। ভাবুন, ভাবুন, সুন্দুকু না বিবলিওম্যানিয়া? নাকি সত্যিকার পাঠক?
তথ্যসূত্র: বিবিসি

কয়েকদিন ধরে বইয়ের কথা খুব শোনা যাচ্ছে। বইয়ের কথা শুনতে ভালোই লাগে। এবার বইয়ের কথা বেশি শুনতে পাওয়ার কারণ, ঢাকার উত্তরায় খুলেছে একটি নতুন বইয়ের দোকান—‘কিনোকুনিয়া’। জাপানি এই বুকশপ চেইন বিশ্বজুড়ে বইপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত। এর আগে যখন মহাসমারোহে ঢাকায় বাতিঘরের আউটলেট খুলেছিল তখনও বই নিয়ে নগরবাসীর উন্মাদনা দেখা গেছে।
বইয়ের প্রতি ভালোবাসা আর বই নিয়ে উন্মাদনা এক বিষয় নয়। নতুন একটি বইয়ের দোকান খুলেছে শুনে তা দেখতে যাওয়া, গিয়ে সেল্ফি তোলা, খাওয়াদাওয়া—মানেই কি বইপ্রেম? অনেকে তো এও বলছেন, এত্তো আধুনিক ও অভিজাত বইয়ের দোকান উদ্বোধন হলো, তা ঘুরে না আসলে জাতে ওঠা যাবে না।
বইমেলায়ও তো কত মানুষ আসে। বই বিক্রি হয় কয়টা? নতুন বইয়ের দোকানে ঢুকতে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করো, লাইন ধরা—তা তো আশার কথা। তবে কিনোকুনিয়াই বলতে পারবে এর বিপরীতে বই বিক্রি হলো কতগুলো।
বই সবাই কেনে না। আর যারা কেনে তারাও কি আদি, আসল, খাঁটি বইপ্রেমী? সম্ভবত না। অনেকে আছেন, বই কিনে ঘর ভরে ফেলছেন, কিন্তু বই পড়ার নামগন্ধ নেই। কিনছেন তো কিনছেনই। এ ধরনের বই ক্রেতাদের ওই জাপানি ভাষাতেই কী বলে জানেন তো? ‘সোন্দুকু’। শব্দটি প্রচলন হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে। ‘সুন’ অর্থ ‘স্তূপ করা’ আর ‘দুকু’ অর্থ ‘পড়া’। এর পুরো অর্থ দাঁড়ায়, ‘পড়ার মতো জিনিস কিনে স্তূপ করা’। ভাবা উচিত, আমি কী সত্যিই বইপ্রেমী? নাকি আমার ‘সুন্দুকু’ প্রবণতা রয়েছে? কিনছি কিন্তু পড়ছি না।
সুন্দুকু না থাকলে তো ভালোই। ‘বিবলিওম্যানিয়া’ আছে কিনা তাও জানা জরুরি। ব্রিটিশ গ্রন্থপঞ্জি সম্পাদক টমাস ফ্রগনাল ডিবডিন ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই শিরোনামে একটি বই লিখেছিলেন। সেখান থেকে শব্দটি ছড়িয়ে পড়ে। ‘বিবলিওম্যানিয়া’ অর্থ ‘বইপাগল’, পাগল—কিন্তু প্রেমী না। যাদের বিবলিওম্যানিয়া আছে তারা শুধু বই সংগ্রহ করে যান। দুর্লভ ও প্রাচীন বই সংগ্রহ তাদের নেশা।
সুন্দুকু ও বিবলিওম্যানিয়া শব্দ দুটির অর্থ কাছাকাছি মনে হলেও, পার্থক্য আছে। বই পড়ার উদ্দেশ্য বই কিনে, না পড়ে ফেলে রাখার প্রবণতাকে সুন্দুকু বলে। এভাবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বইয়ের স্তূপ বা সংগ্রহ তৈরি হয়ে যায়। অন্যদিকে বিবলিওম্যানিয়া বলতে বই সংগ্রহ গড়ে তোলার প্রবল আগ্রহ বা প্রবণতাকে বোঝায়। ভাবুন, ভাবুন, সুন্দুকু না বিবলিওম্যানিয়া? নাকি সত্যিকার পাঠক?
তথ্যসূত্র: বিবিসি