রয়টার্সের বিশ্লেষণ
চরচা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের আঁচ সরাসরি এসে লেগেছে বাংলাদেশের কৃষিখাতে। এই যুদ্ধ এদেশের বোরো মৌসুমে ডেকে এনেছে চরম অনিশ্চয়তা। ডিজেল সংকটে সেচ ব্যাহত হওয়ায় ধান উৎপাদন নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের হাজার হাজার কৃষক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় পরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার বড় একটি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইরান ও তার চারপাশের যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে এবং দামের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যদিও সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের কৃষকরা এর সরাসরি বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছেন।
১৭ কোটি মানুষের এই দেশে প্রধান খাদ্য চালের জন্য বোরো আবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মার্চের শেষ সময়টি চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু পাম্পগুলোতে ডিজেলের তীব্র ঘাটতি এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠছে।
রাজধানী ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের ৩৫ বছর বয়সী কৃষক মোহাম্মদ ইউসুফ তার শুকিয়ে যাওয়া জমির দিকে চেয়ে বলেন, “ধানই আমাদের একমাত্র সম্বল। যদি ধান ফলাতে না পারি, তবে আমরা কী খাব? এই সংকট আমাদের গভীর বিপদে ফেলেছে।”
ইউসুফের জীবন এখন দুই ভাগে বিভক্ত—দিনের বেলা ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং রাতে অন্ধকারে জমিতে সেচ, চাষ আর চারা রোপণের কাজ করা। তিনি জানান, অনেক পাম্পে এখন ‘তেল নেই’ লেখা ব্যানার ঝুলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। তেল পাওয়া গেলেও তা অত্যন্ত সীমিত; জনপ্রতি মাত্র ৫ লিটার করে দেওয়া হচ্ছে। দুই-তিনজন মিলে গেলে বড়জোর ১০-১৫ লিটার পাওয়া যায়, যা দিয়ে মাত্র দুই-তিন দিনের সেচ চলে।
ইউসুফ বলেন, ‘ জনপ্রতি ৫ লিটারের বেশি দেয় না। আমরা দুই-তিনজন মিলে গেলে ভাগ্য ভালো হলে ১০ বা ১৫ লিটার পাই। এতে বড়জোর দুই থেকে তিন দিনের সেচ চলে।’
তার চারপাশের জমি এখন ফেটে চৌচির, চারাগাছগুলো হলদে হয়ে যাচ্ছে। সেচ পাম্পগুলো ডিজেলের শেষ বিন্দু দিয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘জমির দিকে তাকিয়ে দেখুন—সব শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না।’
সংকটের উৎস বাংলাদেশের সীমানার অনেক বাইরে হলেও এর প্রভাব সরাসরি এখানে পড়ছে। ইউসুফ বলেন, ‘‘ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধ আমাদের ওপরও আঘাত হেনেছে। আমাদের মতো গরিব মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। আমরা শুধু এর শেষ চাই, যাতে শান্তিতে চাষবাস করে বাঁচতে পারি।’’
স্থানীয় একটি পাম্পের ম্যানেজার আবদুস সালাম জানান, কৃষকদের চাহিদার তুলনায় তারা অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ৭৫ বছর বয়সী কৃষক ওসমান আলী জানান, সংকট তীব্র হওয়ার আগে তিনি কিছু তেল মজুত করতে পেরেছিলেন বলে এখনো কাজ চালাতে পারছেন। তবে তার মতে, এই অবস্থা চলতে থাকলে মজুত শেষ হওয়ার পর সবাইকেই বড় ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
সংকটের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের সীমানার অনেক বাইরে হলেও এর মূল্য চুকাতে হচ্ছে এদেশের দরিদ্র কৃষকদের। ইউসুফের ভাষায়, “ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধ আমাদের ওপরও আঘাত হেনেছে। বিশ্বে কী ঘটছে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু এর মাশুল আমাদেরই দিতে হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মৌসুমের শুরুতেই এই ডিজেল সংকট অব্যাহত থাকলে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে চালের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের আঁচ সরাসরি এসে লেগেছে বাংলাদেশের কৃষিখাতে। এই যুদ্ধ এদেশের বোরো মৌসুমে ডেকে এনেছে চরম অনিশ্চয়তা। ডিজেল সংকটে সেচ ব্যাহত হওয়ায় ধান উৎপাদন নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের হাজার হাজার কৃষক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় পরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার বড় একটি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইরান ও তার চারপাশের যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে এবং দামের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যদিও সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের কৃষকরা এর সরাসরি বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছেন।
১৭ কোটি মানুষের এই দেশে প্রধান খাদ্য চালের জন্য বোরো আবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মার্চের শেষ সময়টি চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু পাম্পগুলোতে ডিজেলের তীব্র ঘাটতি এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠছে।
রাজধানী ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের ৩৫ বছর বয়সী কৃষক মোহাম্মদ ইউসুফ তার শুকিয়ে যাওয়া জমির দিকে চেয়ে বলেন, “ধানই আমাদের একমাত্র সম্বল। যদি ধান ফলাতে না পারি, তবে আমরা কী খাব? এই সংকট আমাদের গভীর বিপদে ফেলেছে।”
ইউসুফের জীবন এখন দুই ভাগে বিভক্ত—দিনের বেলা ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং রাতে অন্ধকারে জমিতে সেচ, চাষ আর চারা রোপণের কাজ করা। তিনি জানান, অনেক পাম্পে এখন ‘তেল নেই’ লেখা ব্যানার ঝুলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। তেল পাওয়া গেলেও তা অত্যন্ত সীমিত; জনপ্রতি মাত্র ৫ লিটার করে দেওয়া হচ্ছে। দুই-তিনজন মিলে গেলে বড়জোর ১০-১৫ লিটার পাওয়া যায়, যা দিয়ে মাত্র দুই-তিন দিনের সেচ চলে।
ইউসুফ বলেন, ‘ জনপ্রতি ৫ লিটারের বেশি দেয় না। আমরা দুই-তিনজন মিলে গেলে ভাগ্য ভালো হলে ১০ বা ১৫ লিটার পাই। এতে বড়জোর দুই থেকে তিন দিনের সেচ চলে।’
তার চারপাশের জমি এখন ফেটে চৌচির, চারাগাছগুলো হলদে হয়ে যাচ্ছে। সেচ পাম্পগুলো ডিজেলের শেষ বিন্দু দিয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘জমির দিকে তাকিয়ে দেখুন—সব শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না।’
সংকটের উৎস বাংলাদেশের সীমানার অনেক বাইরে হলেও এর প্রভাব সরাসরি এখানে পড়ছে। ইউসুফ বলেন, ‘‘ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধ আমাদের ওপরও আঘাত হেনেছে। আমাদের মতো গরিব মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। আমরা শুধু এর শেষ চাই, যাতে শান্তিতে চাষবাস করে বাঁচতে পারি।’’
স্থানীয় একটি পাম্পের ম্যানেজার আবদুস সালাম জানান, কৃষকদের চাহিদার তুলনায় তারা অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ৭৫ বছর বয়সী কৃষক ওসমান আলী জানান, সংকট তীব্র হওয়ার আগে তিনি কিছু তেল মজুত করতে পেরেছিলেন বলে এখনো কাজ চালাতে পারছেন। তবে তার মতে, এই অবস্থা চলতে থাকলে মজুত শেষ হওয়ার পর সবাইকেই বড় ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
সংকটের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের সীমানার অনেক বাইরে হলেও এর মূল্য চুকাতে হচ্ছে এদেশের দরিদ্র কৃষকদের। ইউসুফের ভাষায়, “ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধ আমাদের ওপরও আঘাত হেনেছে। বিশ্বে কী ঘটছে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু এর মাশুল আমাদেরই দিতে হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মৌসুমের শুরুতেই এই ডিজেল সংকট অব্যাহত থাকলে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে চালের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করবে।