চরচা প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবশেষ নির্বাচনের প্রায় এক মাস হতে চলেছে। তামিম ইকবালের বোর্ডের কার্যক্রম যখন পুরোদমে চলমান, তখন বাতাসে ভাসছে চমক জাগানিয়া একটি খবর। আর তা হল, আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিসিবিকে অর্থায়ন স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন তিনি এমন কাজ করবেন যা এক অর্থে দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি করবে? একজন সাবেক অধিনায়ক এবং ক্রিকেটার হয়েও স্রেফ ব্যক্তিগত কারণেই কি আমিনুল বর্তমান বিসিবিকে বিপদে ফেলতে যাচ্ছেন?
ঘটনার সূত্রপাত ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদন থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে চলতি সপ্তাহে প্রায় ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন আমিনুল। সেখানে তিনি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিসিবিকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, আমিনুল এখনো নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবেও দাবি করেছেন। তামিমকে সরিয়ে আইসিসির প্রতি নিজেকে সেই পদে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান।
আইসিসির কাছ থেকেই এ ব্যাপারে অবগত হয়েছে বিসিবি। যদিও এই সংবাদ প্রচারের আসতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমিনুল। ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, তিনি আইসিসির কাছে কোনো চিঠি পাঠাননি এবং এই ধরনের কিছু করার সামর্থ্যও তার নেই।
তবে চরচাকে বিসিবির একটি সূত্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে, “আমিনুল ইসলামের জন্য এটা নতুন কিছু নয়। অতীতেও তিনি অনেক কিছু এভাবেই অস্বীকার করেছেন। আইসিসিকে তিনি যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার প্রমাণ আছে বিসিবির কাছে। এটা লজ্জার যে একজন সাবেক অধিনায়ক এভাবে দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।”
আমিনুলের এই চিঠির প্রেক্ষিতে আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে বিসিবি। লিগ্যাল টিমের সঙ্গে আলোচনা করে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
আমিনুল যে প্রক্রিয়ায় সভাপতি পদ হারিয়েছেন, সেটা নিয়ে তার হতাশা থাকতেই পারে। তাই বলে সত্যিই যদি তিনি আইসিসির কাছে অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানান, তাহলে দেশের ক্রিকেটের জন্য তা অশনিসংকেতই বটে।
কারণ, আইসিসির আর্থিক অনুদান বিসিবির সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের অন্যতম উৎস। ফলে সেটা বন্ধ হয়ে গেলে ভেঙে পড়বে গোটা দেশের ক্রিকেটই।
প্রসঙ্গত, খেলোয়াড়ী জীবন শেষে আমিনুল দেশ ছাড়েন। এরপর এসিসি, আইসিসি এবং অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছেন। দীর্ঘ এই সময়ে বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে কোচ বা অন্য ভূমিকায় কাজের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছেন।
তবে ২০২৫ সালে আচমকাই জমি বিক্রি করতে এসে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুরোধে হয়ে যান বিসিবি সভাপতি। স্পষ্ট করে সেই সময়ে বলেছেন, তিন মাস মেয়াদ শেষে চলে যাবেন। তবে গত অক্টোবরে বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন পরে।
শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ সেই নির্বাচনের জেরে এক বছরের আগেই ভেঙে যায় আমিনুলের বোর্ড। নির্বাচনে দুর্নীতির প্রমাণ পায় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। এডহক কমিটির প্রধান হয়ে দায়িত্ব নেন তামিম ইকবাল। পরে গত মে মাসে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার।
শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন আমিনুল। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করেন তিনি। আর তামিমকে বলেন অবৈধ সভাপতি।
এরপর কিছুটা সময় কেটে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছিল, আমিনুল হয়ত বিষয়টি নিয়ে আর ঝামেলায় জড়াতে চাইবেন না। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আইসিসির কাছে তিনি যে চিঠিটি পাঠিয়েছেন, তা ক্রিকেটমহলে সাড়া ফেলেছে।
আমিনুল চেষ্টা করলেও অবশ্য কাজের কাজ এতে কিছুই হবে না বলেই মত বিশ্লেষকদের। কারণ, আইসিসির সবুজ সংকেত পেয়েই বিসিবির সবশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার মত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নেই আইসিসির।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবশেষ নির্বাচনের প্রায় এক মাস হতে চলেছে। তামিম ইকবালের বোর্ডের কার্যক্রম যখন পুরোদমে চলমান, তখন বাতাসে ভাসছে চমক জাগানিয়া একটি খবর। আর তা হল, আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিসিবিকে অর্থায়ন স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন তিনি এমন কাজ করবেন যা এক অর্থে দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি করবে? একজন সাবেক অধিনায়ক এবং ক্রিকেটার হয়েও স্রেফ ব্যক্তিগত কারণেই কি আমিনুল বর্তমান বিসিবিকে বিপদে ফেলতে যাচ্ছেন?
ঘটনার সূত্রপাত ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদন থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে চলতি সপ্তাহে প্রায় ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন আমিনুল। সেখানে তিনি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিসিবিকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, আমিনুল এখনো নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবেও দাবি করেছেন। তামিমকে সরিয়ে আইসিসির প্রতি নিজেকে সেই পদে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান।
আইসিসির কাছ থেকেই এ ব্যাপারে অবগত হয়েছে বিসিবি। যদিও এই সংবাদ প্রচারের আসতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমিনুল। ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, তিনি আইসিসির কাছে কোনো চিঠি পাঠাননি এবং এই ধরনের কিছু করার সামর্থ্যও তার নেই।
তবে চরচাকে বিসিবির একটি সূত্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে, “আমিনুল ইসলামের জন্য এটা নতুন কিছু নয়। অতীতেও তিনি অনেক কিছু এভাবেই অস্বীকার করেছেন। আইসিসিকে তিনি যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার প্রমাণ আছে বিসিবির কাছে। এটা লজ্জার যে একজন সাবেক অধিনায়ক এভাবে দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।”
আমিনুলের এই চিঠির প্রেক্ষিতে আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে বিসিবি। লিগ্যাল টিমের সঙ্গে আলোচনা করে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
আমিনুল যে প্রক্রিয়ায় সভাপতি পদ হারিয়েছেন, সেটা নিয়ে তার হতাশা থাকতেই পারে। তাই বলে সত্যিই যদি তিনি আইসিসির কাছে অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানান, তাহলে দেশের ক্রিকেটের জন্য তা অশনিসংকেতই বটে।
কারণ, আইসিসির আর্থিক অনুদান বিসিবির সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের অন্যতম উৎস। ফলে সেটা বন্ধ হয়ে গেলে ভেঙে পড়বে গোটা দেশের ক্রিকেটই।
প্রসঙ্গত, খেলোয়াড়ী জীবন শেষে আমিনুল দেশ ছাড়েন। এরপর এসিসি, আইসিসি এবং অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছেন। দীর্ঘ এই সময়ে বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে কোচ বা অন্য ভূমিকায় কাজের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছেন।
তবে ২০২৫ সালে আচমকাই জমি বিক্রি করতে এসে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুরোধে হয়ে যান বিসিবি সভাপতি। স্পষ্ট করে সেই সময়ে বলেছেন, তিন মাস মেয়াদ শেষে চলে যাবেন। তবে গত অক্টোবরে বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন পরে।
শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ সেই নির্বাচনের জেরে এক বছরের আগেই ভেঙে যায় আমিনুলের বোর্ড। নির্বাচনে দুর্নীতির প্রমাণ পায় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। এডহক কমিটির প্রধান হয়ে দায়িত্ব নেন তামিম ইকবাল। পরে গত মে মাসে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার।
শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন আমিনুল। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করেন তিনি। আর তামিমকে বলেন অবৈধ সভাপতি।
এরপর কিছুটা সময় কেটে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছিল, আমিনুল হয়ত বিষয়টি নিয়ে আর ঝামেলায় জড়াতে চাইবেন না। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আইসিসির কাছে তিনি যে চিঠিটি পাঠিয়েছেন, তা ক্রিকেটমহলে সাড়া ফেলেছে।
আমিনুল চেষ্টা করলেও অবশ্য কাজের কাজ এতে কিছুই হবে না বলেই মত বিশ্লেষকদের। কারণ, আইসিসির সবুজ সংকেত পেয়েই বিসিবির সবশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার মত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নেই আইসিসির।