
দুবাইয়ে গাউছিয়া কমিটি নাখিল শাখার দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল
স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টের হল রুমে দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন আহমদ মিয়া। সঞ্চালনা করেন সৈয়দ দিদারুল আজম।
নভোনীল রহমান, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে

দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি। আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে আসা এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ নতুন ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট হিসেবে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন শুরু হলো সিডনির দ্বিতীয় প্রধান বিমানবন্দরে।
এয়ার নিউজিল্যান্ডের এনজেড–১৬৫ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে অবতরণ করে। পরে একই উড়োজাহাজ এনজেড–১৬৬ ফ্লাইট হিসেবে অকল্যান্ডের উদ্দেশে ফিরে যায়। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিন দিন—সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংস্থাটি।
এর এক দিন আগে গতকাল রোববার জেটস্টারের জেকিউ–৩৬২ ফ্লাইটটি গোল্ড কোস্টের উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানবন্দরটির প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট হিসেবে ইতিহাস গড়ে।
চার দশকের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন
ওয়েস্টার্ন সিডনির ব্যাজারিস ক্রিক এলাকায় নির্মিত বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল (ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটন) এয়ারপোর্ট’। অস্ট্রেলিয়ার বিমান চলাচলের ইতিহাসে অগ্রগণ্য নারী বৈমানিক ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটনের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।
১৯৮০-এর দশকে সিডনির দ্বিতীয় প্রধান বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। দীর্ঘ আলোচনা ও পরিকল্পনার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
প্রায় সাত বছরের নির্মাণকাজে ১৩ হাজারের বেশি কর্মী অংশ নেয়। বিমানবন্দরটিতে রয়েছে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে, আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল ও কার্গো পরিবহনের ব্যবস্থা। প্রাথমিকভাবে বছরে এক কোটি যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সোমবার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুকে ওয়েস্টার্ন সিডনির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ দশকের বেশি সময় পর নির্মিত প্রথম নতুন বড় বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক যাত্রী গ্রহণ শুরু করেছে। এর ফলে ওয়েস্টার্ন সিডনির বাসিন্দারা বিদেশে যেতে শহরের অন্য প্রান্তে অবস্থিত পুরোনো বিমানবন্দরের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকবেন না।
বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা
নতুন বিমানবন্দর চালু হওয়ার ফলে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুবিধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ক্যাম্বেলটাউন, ইঙ্গেলবার্ন, ডেনহাম কোর্টসহ দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনির বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি পরিবারের উপস্থিতি বেড়েছে। বাড়ি ও জমির দাম, আবাসনের সুযোগ এবং পরিবার নিয়ে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ বিবেচনায় এসব এলাকা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বৃহত্তর ক্যাম্বেলটাউন পরিসংখ্যানিক অঞ্চলে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৫০৯ জন। শুধু ইঙ্গেলবার্নেই ছিলেন ৮২৮ জন এবং ডেনহাম কোর্টে ২৬১ জন।
একই আদমশুমারি অনুযায়ী, বৃহত্তর ক্যাম্বেলটাউন অঞ্চলে বাড়িতে বাংলা ভাষা ব্যবহার করে এমন মানুষের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৪৮৭। এই পরিসংখ্যান অঞ্চলটিতে বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির চিত্র তুলে ধরে।
এত দিন এসব এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য সিডনির কিংসফোর্ড স্মিথ বিমানবন্দরে যেতে হতো। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া কিংবা বিদেশ থেকে আসা আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ফেরার ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো।

ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াতের সময় অনেকেই এম–৫ মোটরওয়েসহ বিভিন্ন টোল সড়ক ব্যবহার করতেন। ফলে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি টোলের ব্যয়ও যুক্ত হতো। বিশেষ করে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ফিরে আসা অথবা কাউকে আনতে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই যাতায়াত পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হতো।
নতুন ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তুলনামূলক কাছাকাছি হওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছানো সহজ হতে পারে। এতে অনেকের যাতায়াতের সময়, জ্বালানি খরচ এবং টোলের ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন বিমানবন্দরে সরাসরি যাতায়াতের জন্য নির্মিত এম–১২ মোটরওয়ে টোলমুক্ত। তবে যাত্রাপথে অন্য টোল সড়ক ব্যবহার করলে সেগুলোর জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া, ক্যাম্বেলটাউন থেকে ওরান পার্ক হয়ে নতুন বিমানবন্দর পর্যন্ত ৮৪৫ নম্বর বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়াও গণপরিবহনে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন সংযোগ
নতুন বিমানবন্দরটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ।
আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের ওয়েস্টার্ন সিডনি ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার কথা রয়েছে। সংস্থাটি ঢাকা ও সিঙ্গাপুরের মধ্যেও ফ্লাইট পরিচালনা করে।
ফলে নতুন রুট চালু হলে বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য ঢাকা–সিঙ্গাপুর–ওয়েস্টার্ন সিডনি হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসার একটি অতিরিক্ত বিকল্প তৈরি হবে।
বিশেষ করে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে আসা আত্মীয়স্বজনকে তুলনামূলক কাছের বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করার সুযোগ পেতে পারেন।
আগামী বছর ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি এবং ফিজির নাদি শহরের সঙ্গেও নতুন বিমান যোগাযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নতুন বিমানবন্দর চালু হওয়া মানেই বিমানভাড়া কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। টিকিটের মূল্য, সংযোগ ফ্লাইটের সময়, আসনপ্রাপ্যতা এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত যাতায়াতের ব্যয় বিবেচনা করেই যাত্রীদের ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে হবে।

সিডনিতে এখন দুটি পৃথক বিমানবন্দর
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিমানবন্দরের অবস্থান ও কোড সম্পর্কে সচেতন থাকা।
পুরোনো সিডনি কিংসফোর্ড স্মিথ বিমানবন্দরের কোড ‘এসওয়াইডি’(SYD), অন্যদিকে নতুন ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোড ‘ডব্লিউএসআই’(WSI)। ফলে টিকিট বুকিংয়ের সময় কোন বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণ করবে বা কোথা থেকে ছেড়ে যাবে, তা ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নতুন বিমানবন্দরটি দিনে ২৪ ঘণ্টা পরিচালনার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। পুরোনো সিডনি বিমানবন্দরের মতো এখানে রাতের নির্দিষ্ট সময়ের ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা নেই।
বর্তমানে বিমানবন্দরটিতে সরাসরি মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়নি। তবে যাত্রীদের জন্য বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন মেট্রোরেল সংযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চালু হওয়া ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিমান পরিবহন খাতে নতুন সংযোজন নয়; পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে বসবাসকারী হাজারো পরিবারের জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সহজ করার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
বিশেষ করে ওই অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য নতুন বিমানবন্দরটি ভবিষ্যতে সময়, যাতায়াতের খরচ ও ভ্রমণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা বয়ে আনতে পারে।

দুবাইয়ে গাউছিয়া কমিটি নাখিল শাখার দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল
স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টের হল রুমে দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন আহমদ মিয়া। সঞ্চালনা করেন সৈয়দ দিদারুল আজম।

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে সুপারকারসে রোমাঞ্চ, শেষ রেসে ব্রক ফিনির জয়
অস্ট্রেলিয়ার সুপারকারস চ্যাম্পিয়নশিপ দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় মোটর রেসিং প্রতিযোগিতা। শক্তিশালী রেসিং কার, দ্রুতগতির প্রতিযোগিতা এবং অভিজ্ঞ চালকদের দক্ষতার কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দর্শক এই আয়োজন উপভোগ করেন।

দেশে ফিরল মানব পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকারে মারা যাওয়া সোহেলের মরদেহ
মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার পথে নির্যাতনের শিকার হয়ে লাটভিয়ায় মারা যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিক সোহেল রানার মরদেহ আজ রোববার দেশে ফিরেছে। ৪৫ বছর বয়সী সোহেল রানার মরদেহ বেলা ৩টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে তার বাড়িতে পৌঁছায়। তিনি আবুল হাশেমের ছেলে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে

ফিলিপ আইল্যান্ডের শেষ মোটরসাইকেল রেস প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাতিল
এবারের প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে ঐতিহাসিক এই সার্কিটে শেষবারের মতো মোটোজিপির মূল প্রতিযোগিতা উপভোগ করার অপেক্ষায় ছিল অসংখ্য দর্শক। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।