চরচা ডেস্ক

‘জিপ কোডিং’ নামে নতুন একটি ডেটিং অ্যাপ সম্প্রতি অনলাইন জগতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। লং ডিস্টেন্স বা দূরের সম্পর্কে অতিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিজের এলাকা বা পোস্টাল কোডের ভেতরই সম্পর্ক তৈরির জন্য উৎসাহিত করছে এই জিপ কোডিং।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, জিপ কোডের ধারণা খুবই বাস্তবসম্মত। কাছাকাছি কারও সঙ্গে ডেট করলে ঝামেলা কম, দেখা-সাক্ষাৎ বেশি হয়, আর সম্পর্ককে নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে গড়ে তোলাও সহজ।
বিশেষ করে লং-ডিস্ট্যান্স ডেটিংয়ের জটিলতায় বিরক্ত ব্যক্তিদের কাছে সম্পর্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে এই অ্যাপ স্মার্ট কৌশল মনে হতে পারে।
কিন্তু মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে—ভৌগোলিক নৈকট্য সত্যিই সম্পর্ককে শক্তিশালী করে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মনোবিজ্ঞানী রাশি গুড়নানি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি থাকাটা আবেগীয় ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, নিজেদের রুটিন ভাগাভাগি করা যায়, সেই সাথে হুটহাট দেখা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্নেহ ও আবেগ বাড়ে।
একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘মিয়ার এক্সপোজার ইফেক্ট’। একই ক্যাফে, রাস্তাঘাট বা সামাজিক পরিবেশ—এগুলোতে দেখা হলে সংযোগ আরও দৃঢ় হয় বলে জানিয়েছেন রাশি। তবে এই স্বাচ্ছন্দ্য ব্যক্তিগত বিকাশে বাধা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
রাশি বলছেন, এতে দুটি আলাদা মানুষকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চ্যালেঞ্জ করে এমন ভিন্ন অভিজ্ঞতা বা সম্পর্ক থেকে দূরে রাখে। ভৌগোলিক নৈকট্য সম্পর্ক গভীর করতে পারে ঠিকই, কিন্তু মানসিক স্থবিরতা এড়াতে মাঝে মাঝে নিজের পরিসরের বাইরে অভিজ্ঞতার জন্যও মন খোলা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন রাশি গুড়নানি।
এই ট্রেন্ড চালু হওয়ার কারণ কী
রাশি গুড়নানি বলেন, ডেট করার জন্য যখন মানুষ সামাজিক-অর্থনৈতিক মানদণ্ড বা ভৌগোলিক পরিচয়ের সঙ্গে মিল খুঁজতে থাকে, তখন এটি ‘সোশ্যাল আইডেন্টিটি থিওরি’র অবচেতন পক্ষপাতকে নির্দেশ করে।
এর মানে হলো, মানুষ তার ‘ইনগ্রুপ’ বা একই রকম মন-মানসিকতার সদস্যদের প্রতি ঝোঁক দেখায়।
রাশির মতে, নির্দিষ্ট জিপ কোডের মানুষের সঙ্গে ডেট করা অনেক সময় আর্থিক বা সাংস্কৃতিক ‘সামঞ্জস্য’ খোঁজার এক কোডেড পদ্ধতি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে আবেগগত সংযোগের চেয়ে এখানে শ্রেণিগত আকাঙ্ক্ষার পূরণের সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়।
এভাবে ফিল্টার করে ডেট করা সামাজিক বৈষম্যকেই আরও দৃঢ় করতে পারে এবং ভিন্ন জীবনের প্রতি সহানুভূতি কমাতে পারে বলে মনে করেন রাশি গুড়নানি।
এ ধরনের সম্পর্ক কী স্বাস্থ্যকর ও টেকসই?
রাশি গুড়নানির মতে, জিপ কোডিং সম্পর্ক আসলে ‘সিচুয়েশনাল ইনটিমেসি’কেই স্বাভাবিক করছে। এখানে স্বাধীনতা ও নমনীয়তা থাকলেও অনির্দিষ্ট সম্পর্কের সীমা ঈর্ষা, ভুল বোঝাবুঝি এবং উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
রাশি আরও বলেন, ‘এ ধরনের সম্পর্ককে স্বাস্থ্যকর করতে হলে উভয়ের মধ্যেই আবেগের পরিপক্বতা, সুষ্ঠ যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন।
এই মনোবিজ্ঞানী আরও বলেন, সম্পর্কের টেকসই ঘনিষ্ঠতা ভৌগোলিক সুবিধার ওপর নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক সামঞ্জস্যের ওপর নির্ভর করে।

‘জিপ কোডিং’ নামে নতুন একটি ডেটিং অ্যাপ সম্প্রতি অনলাইন জগতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। লং ডিস্টেন্স বা দূরের সম্পর্কে অতিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিজের এলাকা বা পোস্টাল কোডের ভেতরই সম্পর্ক তৈরির জন্য উৎসাহিত করছে এই জিপ কোডিং।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, জিপ কোডের ধারণা খুবই বাস্তবসম্মত। কাছাকাছি কারও সঙ্গে ডেট করলে ঝামেলা কম, দেখা-সাক্ষাৎ বেশি হয়, আর সম্পর্ককে নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে গড়ে তোলাও সহজ।
বিশেষ করে লং-ডিস্ট্যান্স ডেটিংয়ের জটিলতায় বিরক্ত ব্যক্তিদের কাছে সম্পর্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে এই অ্যাপ স্মার্ট কৌশল মনে হতে পারে।
কিন্তু মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে—ভৌগোলিক নৈকট্য সত্যিই সম্পর্ককে শক্তিশালী করে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মনোবিজ্ঞানী রাশি গুড়নানি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি থাকাটা আবেগীয় ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, নিজেদের রুটিন ভাগাভাগি করা যায়, সেই সাথে হুটহাট দেখা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্নেহ ও আবেগ বাড়ে।
একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘মিয়ার এক্সপোজার ইফেক্ট’। একই ক্যাফে, রাস্তাঘাট বা সামাজিক পরিবেশ—এগুলোতে দেখা হলে সংযোগ আরও দৃঢ় হয় বলে জানিয়েছেন রাশি। তবে এই স্বাচ্ছন্দ্য ব্যক্তিগত বিকাশে বাধা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
রাশি বলছেন, এতে দুটি আলাদা মানুষকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চ্যালেঞ্জ করে এমন ভিন্ন অভিজ্ঞতা বা সম্পর্ক থেকে দূরে রাখে। ভৌগোলিক নৈকট্য সম্পর্ক গভীর করতে পারে ঠিকই, কিন্তু মানসিক স্থবিরতা এড়াতে মাঝে মাঝে নিজের পরিসরের বাইরে অভিজ্ঞতার জন্যও মন খোলা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন রাশি গুড়নানি।
এই ট্রেন্ড চালু হওয়ার কারণ কী
রাশি গুড়নানি বলেন, ডেট করার জন্য যখন মানুষ সামাজিক-অর্থনৈতিক মানদণ্ড বা ভৌগোলিক পরিচয়ের সঙ্গে মিল খুঁজতে থাকে, তখন এটি ‘সোশ্যাল আইডেন্টিটি থিওরি’র অবচেতন পক্ষপাতকে নির্দেশ করে।
এর মানে হলো, মানুষ তার ‘ইনগ্রুপ’ বা একই রকম মন-মানসিকতার সদস্যদের প্রতি ঝোঁক দেখায়।
রাশির মতে, নির্দিষ্ট জিপ কোডের মানুষের সঙ্গে ডেট করা অনেক সময় আর্থিক বা সাংস্কৃতিক ‘সামঞ্জস্য’ খোঁজার এক কোডেড পদ্ধতি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে আবেগগত সংযোগের চেয়ে এখানে শ্রেণিগত আকাঙ্ক্ষার পূরণের সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়।
এভাবে ফিল্টার করে ডেট করা সামাজিক বৈষম্যকেই আরও দৃঢ় করতে পারে এবং ভিন্ন জীবনের প্রতি সহানুভূতি কমাতে পারে বলে মনে করেন রাশি গুড়নানি।
এ ধরনের সম্পর্ক কী স্বাস্থ্যকর ও টেকসই?
রাশি গুড়নানির মতে, জিপ কোডিং সম্পর্ক আসলে ‘সিচুয়েশনাল ইনটিমেসি’কেই স্বাভাবিক করছে। এখানে স্বাধীনতা ও নমনীয়তা থাকলেও অনির্দিষ্ট সম্পর্কের সীমা ঈর্ষা, ভুল বোঝাবুঝি এবং উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
রাশি আরও বলেন, ‘এ ধরনের সম্পর্ককে স্বাস্থ্যকর করতে হলে উভয়ের মধ্যেই আবেগের পরিপক্বতা, সুষ্ঠ যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন।
এই মনোবিজ্ঞানী আরও বলেন, সম্পর্কের টেকসই ঘনিষ্ঠতা ভৌগোলিক সুবিধার ওপর নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক সামঞ্জস্যের ওপর নির্ভর করে।