প্রতিবছরই বাংলাদেশে বেশ বড় বড় অগ্নি-দুর্ঘটনা হয়। আবাসিক ভবন, বাজার, ফ্যাক্টরি-প্রায় সব স্থানেই আছে অগ্নি ঝুঁকি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হলো অসাবধানতা ও অপ্রস্তুতি। তাই এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি অনেক জরুরি।
অগ্নি-দুর্ঘটনা মোকাবিলায় করণীয়
- রান্নার পর চুলার আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলুন। গ্যাসের চুলা হলে ফু দিয়ে না নিভিয়ে রান্না শেষ হলে চুলার চাবি ভালো করে বন্ধ করে দিন।
- ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলা থেকে বিরত রাখুন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, চুলা বা গ্যাস সিলিন্ডার হতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
- দাহ্য বস্তু আছে এমন স্থানে খোলা বাতির যেমন- মোমবাতি, হারিকেন ব্যবহার বন্ধ রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে খোলা বাতি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখুন। ঘর-বাড়িতে খোলা বাতি জ্বালিয়ে কখনো ঘুমিয়ে পড়বেন না। লোকশূন্য জায়গায় খোলা বাতি জ্বালিয়ে রাখা নিরাপদ নয়।
- গ্যাসের চুলা জ্বলানোর আগে অবশ্যই রান্না ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন।
- বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বাধাহীনভাবে প্রবেশ করা যায় এমন স্থানে স্থাপন করুন। দুর্ঘটনার শুরুতেই মেইন সুইচ বন্ধ করুন।
- বৈদ্যুতিক সংযোগসমূহ নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে এবং পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত তার, প্লাগ ও সুইচ দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। একাধিক সরঞ্জামাদি একটি মাল্টিপ্লাগে ব্যবহার করা হতে বিরত থাকতে হবে।
- বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন হিটার, ওভেন, ইস্ত্রি ইত্যাদি ব্যবহার শেষে সুইচ বন্ধ করতে হবে এবং সংযোগকৃত প্লাগ খুলে রাখতে হবে।
- খোলা জায়গায় বা বাড়ির উঠানে তাপ পোহানোর জন্য কাঠ, শুকনো পাতা বা খড় পোড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- ব্যবহার উপযোগী বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Portable Fire Extinguisher) সংরক্ষণ করতে হবে এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে।
- তাৎক্ষণিক আগুন নির্বাপণের জন্য সবসময় হাতের কাছে পানি ও বালু মজুত রাখতে হবে।
অগ্নি-দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কিছু টিপস। ছবি: বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স- শীতকালে অনেকে বিভিন্ন উৎসব যেমন বিয়ে/গায়ে হলুদ/থার্টি ফার্স্ট নাইট/ইংরেজি নববর্ষ/বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করেন। ছাদে কোনো খাবার তৈরি করা হলে চুলা ও জ্বালানির ব্যাপারে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কাজ শেষে চুলা সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলতে হবে। ফানুস ওড়ানো ও পটকা/বাজি ফোটানো হতে বিরত থাকতে হবে।
- ধূমপান শেষে সিগারেটের আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলতে হবে এবং দাহ্যবস্তু সংরক্ষিত স্থানে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
- অগ্নি প্রতিরোধ, অগ্নি নির্বাপণ, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।
- ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নম্বর ১০২ এবং নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের টেলিফোন বা মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে লিখে রাখতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা কেন্দ্র ৯৯৯-এ বা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ০২২২৩৩৫৫৫৫৫ ০১৭১৩০৩৮১৮২ নাম্বারে ফোন করুন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স