চরচা ডেস্ক

সুস্থ জীবনের জন্য খাবার খাওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও শরীরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘আর্লি ডিনার রুটিন’ অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার খাওয়া অনেকে অনুসরণ করছেন। কিন্তু যদি আপনি টানা ১ মাস এই নিয়ম মেনে চলেন, শরীরে কী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে?
হজমশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়
শরীরের প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদম দিনের আলো-অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে কাজ করে। সন্ধ্যার পর আমাদের পাচনতন্ত্র ধীরে কাজ করতে শুরু করে। তাই রাত ১০-১১টার দিকে ভারী খাবার খেলে খাবার হজম হতে দেরি হয়। ফলে অস্বস্তি, গ্যাস ও অম্লতা বেড়ে যায়।
কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে খেয়ে নিলে খাবার হজম হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। এক মাস পরে লক্ষ্য করবেন-পেটের ফাঁপা ভাব কমেছে, গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে পেট হালকা লাগছে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়
রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস ওজন বাড়ানোর অন্যতম কারণ। রাতে বিপাকের গতি কমে যায়, ফলে শরীর ক্যালরি পোড়ায় কম। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে খেয়ে নিলে স্বাভাবিকভাবেই রাতে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার ইচ্ছা কমে আসে।
টানা ৩০ দিন এই রুটিন মানলে অনেকে ১-৩ কেজি পর্যন্ত ওজন কমতে দেখেন। বিশেষ করে পেটের চর্বি ভালো পরিমাণে কমে। কারণ শরীর দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়া থেকে ফ্যাট বার্নিং মোডে যেতে পারে।
ঘুমের মান অনেক ভালো হয়
রাতের খাবার দেরি করে খেলে শরীরকে হজম করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যার ফলে ঘুম গভীর হয় না। পাকস্থলী যখন ব্যস্ত থাকে, তখন মস্তিষ্কও পুরোপুরি বিশ্রাম করতে পারে না।
আগে খেয়ে নিলে ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে হজমের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়ে যায়। এক মাস পর দেখা যাবে দ্রুত ঘুম আসছে, বারবার ঘুম ভাঙছে না, সকালে ঘুম ভাঙলে শরীর ঝিমঝিম লাগছে না।
রক্তে সুগার ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ করে
দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। সন্ধ্যায় আগে খাবার খেলে গ্লুকোজ মেটাবলিজম ভালো কাজ করে।
এক মাস পরে শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কিছুটা উন্নত হতে পারে, খাবার পর ক্লান্তি বা ঝিমুনি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রিডায়াবেটিক তাদের জন্য এটি আরও উপকারী।

শক্তি ও মুডে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে
রাতে অস্বস্তিকর হজম সমস্যা, খারাপ ঘুম বা ওজন বাড়ার চাপ- এগুলো মনোযোগ, শক্তি ও মুডে প্রভাব ফেলে। আগে খেতে শুরু করলে ঘুম ভালো হয়, সকালে এনার্জি বাড়ে, মাথা হালকা লাগে।
টানা ৩০ দিনের শেষে দেখবেন, কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ছে, অলসতা কমেছে, সারাদিনে সতেজতা টের পাওয়া যায়।
ত্বকে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়
ভালো ঘুম+ভালো হজম= পরিষ্কার, উজ্জ্বল ত্বক।
রাতের খাবার আগে খেলে প্রদাহ কমে, ব্রণ বা পিগমেন্টেশনের প্রবণতাও কমতে পারে।
সব মিলিয়ে, টানা এক মাস সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে ভেতর থেকে রিসেট করার মতো কাজ করে। হজম, ঘুম, ওজন, এনার্জি- সবকিছুর ওপরই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে যেকোনো রুটিনের মতো এটিও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। আপনার শরীর বুঝে ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটি গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে এর উপকার সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সুস্থ জীবনের জন্য খাবার খাওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও শরীরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘আর্লি ডিনার রুটিন’ অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার খাওয়া অনেকে অনুসরণ করছেন। কিন্তু যদি আপনি টানা ১ মাস এই নিয়ম মেনে চলেন, শরীরে কী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে?
হজমশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়
শরীরের প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদম দিনের আলো-অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে কাজ করে। সন্ধ্যার পর আমাদের পাচনতন্ত্র ধীরে কাজ করতে শুরু করে। তাই রাত ১০-১১টার দিকে ভারী খাবার খেলে খাবার হজম হতে দেরি হয়। ফলে অস্বস্তি, গ্যাস ও অম্লতা বেড়ে যায়।
কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে খেয়ে নিলে খাবার হজম হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। এক মাস পরে লক্ষ্য করবেন-পেটের ফাঁপা ভাব কমেছে, গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে পেট হালকা লাগছে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়
রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস ওজন বাড়ানোর অন্যতম কারণ। রাতে বিপাকের গতি কমে যায়, ফলে শরীর ক্যালরি পোড়ায় কম। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে খেয়ে নিলে স্বাভাবিকভাবেই রাতে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার ইচ্ছা কমে আসে।
টানা ৩০ দিন এই রুটিন মানলে অনেকে ১-৩ কেজি পর্যন্ত ওজন কমতে দেখেন। বিশেষ করে পেটের চর্বি ভালো পরিমাণে কমে। কারণ শরীর দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়া থেকে ফ্যাট বার্নিং মোডে যেতে পারে।
ঘুমের মান অনেক ভালো হয়
রাতের খাবার দেরি করে খেলে শরীরকে হজম করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যার ফলে ঘুম গভীর হয় না। পাকস্থলী যখন ব্যস্ত থাকে, তখন মস্তিষ্কও পুরোপুরি বিশ্রাম করতে পারে না।
আগে খেয়ে নিলে ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে হজমের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়ে যায়। এক মাস পর দেখা যাবে দ্রুত ঘুম আসছে, বারবার ঘুম ভাঙছে না, সকালে ঘুম ভাঙলে শরীর ঝিমঝিম লাগছে না।
রক্তে সুগার ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ করে
দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। সন্ধ্যায় আগে খাবার খেলে গ্লুকোজ মেটাবলিজম ভালো কাজ করে।
এক মাস পরে শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কিছুটা উন্নত হতে পারে, খাবার পর ক্লান্তি বা ঝিমুনি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রিডায়াবেটিক তাদের জন্য এটি আরও উপকারী।

শক্তি ও মুডে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে
রাতে অস্বস্তিকর হজম সমস্যা, খারাপ ঘুম বা ওজন বাড়ার চাপ- এগুলো মনোযোগ, শক্তি ও মুডে প্রভাব ফেলে। আগে খেতে শুরু করলে ঘুম ভালো হয়, সকালে এনার্জি বাড়ে, মাথা হালকা লাগে।
টানা ৩০ দিনের শেষে দেখবেন, কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ছে, অলসতা কমেছে, সারাদিনে সতেজতা টের পাওয়া যায়।
ত্বকে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়
ভালো ঘুম+ভালো হজম= পরিষ্কার, উজ্জ্বল ত্বক।
রাতের খাবার আগে খেলে প্রদাহ কমে, ব্রণ বা পিগমেন্টেশনের প্রবণতাও কমতে পারে।
সব মিলিয়ে, টানা এক মাস সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে ভেতর থেকে রিসেট করার মতো কাজ করে। হজম, ঘুম, ওজন, এনার্জি- সবকিছুর ওপরই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে যেকোনো রুটিনের মতো এটিও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। আপনার শরীর বুঝে ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটি গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে এর উপকার সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস