Advertisement Banner

ভরা পেটে তরমুজ খেলে কী হয়?

গরম আবহাওয়ায় ভারী খাবারের পর দ্রুত হজম হওয়া ফল তরমুজ একসঙ্গে খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে পাকস্থলী ধীরে খালি হয় এবং শর্করা ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে গ্যাস তৈরি হয়, যা পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ায়।

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ভরা পেটে তরমুজ খেলে কী হয়?
খাবারের পরপর তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস সীমিত রাখাই ভালো। প্রতীকী ছবি: ফ্রিপিক

তরমুজ একটি জনপ্রিয় ফল। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে এবং সহজপাচ্য হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে ফুড বায়োসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কেবল তরমুজ খাওয়াই পেট ভরার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

তবে অনেকেরই অভিযোগ, ভরা পেটে তরমুজ খেলে তাদের পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যার পেছনে তরমুজ নিজে দায়ী নাকি ভারী খাবারের পর খাওয়ার সময়টাই মূল কারণ—তা নির্ধারণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ-এর তথ্য বলছে, গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরমুজের চাহিদাও বাড়বে। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়তে পারে কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ের পাইধুনি এলাকায় বিরিয়ানি ও তরমুজ খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাই তরমুজ খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডা. অনুকল্প প্রকাশ বলেন, “তরমুজ খাওয়ার সময়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেখা যায়, তরমুজ যদি খাবারের ফাঁকে খাওয়া হয়, অর্থাৎ ভরা পেটের ঠিক পরপর না খেয়ে মাঝের সময়ে খাওয়া হয়, তাহলে হজম প্রক্রিয়া বেশি কার্যকর হয় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অস্বস্তির ঝুঁকিও কমে যায়।”

ভরা পেটে তরমুজ খেলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে বা এর পেছনে কারণই বা কী তা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গরমে পেট ফাঁপার কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায়। পাশাপাশি অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান না করায় ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। এতে হজমে সমস্যা হয় এবং পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি হতে পারে।

গরমকালে খাবারের ধরনেও পরিবর্তন আসে, যা খাবার পরে পেট ফাঁপার ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত পানি, জলসমৃদ্ধ খাবার এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা না হলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল হজমে কী প্রভাব ফেলে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের সিকে বিড়লা হাসপাতালে কর্মরত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান পরামর্শক অনুকল্প প্রকাশ জানিয়েছেন, তরমুজে পানির পরিমাণ ৯০ শতাংশের বেশি হওয়ায় এটি সাধারণত সহজে হজম হয়। তবে খাবার খাওয়ার পরপরই, বিশেষ করে চর্বিযুক্ত বা প্রোটিনসমৃদ্ধ ভারী খাবারের পর তরমুজ খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাকস্থলীর স্বাভাবিক খালি হওয়ার প্রক্রিয়া (গ্যাস্ট্রিক এম্পটিইং) প্রভাবিত হতে পারে। এর ফলে পেট ভারী লাগা বা ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ফাইল ছবি: রয়টার্স
ফাইল ছবি: রয়টার্স

এই বিশেষজ্ঞ আরও জানান, তরমুজে উচ্চমাত্রার ফডম্যাপ (এমন কিছু নির্দিষ্ট ধরণের শর্ট-চেইন কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে ঠিকমতো শোষিত হয় না এবং বৃহদন্ত্রে গিয়ে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস ও পেটের সমস্যা তৈরি করে) উপাদান, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ থাকে।

যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা ফ্রুক্টোজ হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অপাচ্য ফ্রুক্টোজ বৃহদান্ত্রে গিয়ে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস তৈরি করে, যার ফলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি ও পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খাবারের পর তরমুজ খেলে কেন পেট ফাঁপে

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম আবহাওয়ায় ভারী খাবারের পর দ্রুত হজম হওয়া ফল তরমুজ একসঙ্গে খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে পাকস্থলী ধীরে খালি হয় এবং শর্করা ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে গ্যাস তৈরি হয়, যা পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ায়।

বিশেষ করে যাদের হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। এরমধ্যে আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তি, দুর্বল হজমশক্তির মানুষ, অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে খাবারের পরপর তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস সীমিত রাখাই ভালো, নাহলে পেট ফাঁপার সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

তাহলে কখন তরমুজ খাওয়া ভালো

ডা. অনুকল্প প্রকাশ বলেন, “তরমুজ খাওয়ার সময়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেখা যায়, তরমুজ যদি খাবারের ফাঁকে খাওয়া হয়, অর্থাৎ ভরা পেটের ঠিক পরপর না খেয়ে মাঝের সময়ে খাওয়া হয়, তাহলে হজম প্রক্রিয়া বেশি কার্যকর হয় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অস্বস্তির ঝুঁকিও কমে যায়।”

এই চিকিৎসকের পরামর্শ, বারবার পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গগুলোকে শুধু খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এসব ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত কোনো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা আছে কি না তা নির্ধারণের জন্য সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন এবং সেই অনুযায়ী ব্যক্তিভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সম্পর্কিত