চরচা ডেস্ক

নিজের যত্ন বা সেল্ফ কেয়ারের দুনিয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রতি মাসে বা সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আসছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। নিজের যত্নের বেশিরভাগ ধারাগুলো আসছে জেন জি’দের হাত ধরে।
মানসিক চাপে ভরা আজকের জীবনে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের রিচার্জ করার জন্য খুঁজে বেড়াচ্ছে নতুন উপায়। সেই তালিকায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ট্রেন্ড হলো ‘বেড রটিং’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এই অভ্যাসকে ‘উপকারী বিশ্রাম’, কেউ আবার ‘আলসেমির গ্ল্যামারাইজেশন’ বলেও সমালোচনা করছেন। কিন্তু বেড রটিং আসলে কী?
বেড রটিং কী?
সহজ কথায়, বেড রটিং মানে হলো বিছানায় দীর্ঘ সময় ধরে থাকা, প্রয়োজনীয় কাজগুলো এড়িয়ে গিয়ে শরীর ও মনের বিশ্রাম নেওয়া। এটি সাধারণ বিশ্রাম নয়। এখানে কেউ বিছানায় শুয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অনেক সময় ফোন স্ক্রল করে, সিরিজ দেখে, বই পড়ে। আবার কেউ সম্পূর্ণ নীরব পরিবেশে শুয়ে থাকে কোনোকিছু না ভেবে।

জেন জি এই বিষয়টিকে দেখছে এক ধরনের ‘মাইক্রো-রিকভারি রিচ্যুয়াল’ হিসেবে। অর্থাৎ ছোট ছোট বিরতিতে নিজের মানসিক শক্তি ফেরত আনার উপায়।
এটি জনপ্রিয় হলো কেন?
জেন জি’দের জীবনযাত্রা, অনলাইন উপস্থিতি, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, ভবিষ্যত-দুশ্চিন্তা, একাডেমিক চাপ, সম্পর্কের জটিলতা এসব মিলিয়ে এক ধরনের ‘অবিরাম চাপ’ তৈরি করে। তারা এমন একটি সেল্ফ কেয়ার চেয়েছে যেখানে বাড়তি এনার্জি লাগে না, তাদের কেউ না বুঝে জাজ বা বিচার করে না এবং নিজের জায়গায় থেকে নিরাপদ অনুভব করা যায়। এই বিছানা তাদের কাছে হয়ে উঠছে এক ধরনের ‘ইমোশনাল সেফ স্পেস’।
বেড রটিং-এর ভালো দিক: মানসিক বিরতি নেওয়ার সুযোগ
যখন দিনভর ব্যস্ততা বা চাপ জমে যায়, তখন হঠাৎ কিছু না করে শুয়ে থাকা মস্তিষ্কের জন্য বিশাল বিরতি। এই সময়টাতে শরীর রিল্যাক্স হয়, মানসিক গতি কমে এবং কর্টিসল লেভেল স্বাভাবিক হতে পারে।
নিজেকে পুনর্গঠনের সুযোগ
অনেকেই বলেন, বিছানায় ‘রট’ করার সময় তারা চিন্তা করেন না; বরং কিছু না করেই নিজের অনুভূতিগুলো ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে যায়। ব্রেন ওভারলোড থেকে বের হয়ে আসার মতো একটি বিরতি এটি।

সহজলভ্য ও ব্যয়হীন সেল্ফ কেয়ার
কেউ জিমে যেতে বাধ্য নয়, কারো সাথে দেখা করতে হবে না, ব্যয়বহুল থেরাপি লাগবে না- শুধু নিজের ঘরে গিয়ে শান্তভাবে শুয়ে থাকা। তাই এটি অনেকের জন্য সহজ।
‘ওভার প্রডাক্টিভিটি’র চাপ ভাঙার সুযোগ
‘সবসময় ব্যস্ত থাকো’, ‘প্রডাক্টিভ হও’, এমন সামাজিক চাপের বিরুদ্ধে বেড রটিং হয়ে উঠেছে জেন জি’দের একধরনের নীরব প্রতিবাদ করছে। তারা বলছে, ‘বিশ্রামও কাজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’
বেড রটিং-এর মন্দ দিক: দীর্ঘমেয়াদে এনার্জি কমে যেতে পারে
অতিরিক্ত সময় বিছানায় থাকার ফলে শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ কমে যেতে পারে। এতে অলসতা বাড়ে, শরীর ঢিলে হয়ে যায়, এমনকি দিনের কাজে মনোযোগ কমতে পারে।
অভ্যাস হয়ে গেলে ক্লান্তি বাড়তে পারে
যারা নিয়মিত দিনের পর দিন বেড রটিং করেন, তাদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা, বিলম্ব করা বা কাজ পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ফলে নতুন চাপ তৈরি হয়।
ঘুমের রুটিন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি
বিছানা সাধারণত ঘুমের জন্য নির্ধারিত একটি জায়গা। সেখানে অকারণে অনেক সময় কাটালে মস্তিষ্ক ঘুম-সংকেত সঠিকভাবে বোঝে না। ফলে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।

মানসিক সমস্যাকে ঢেকে রাখার ঝোঁক
অনেক সময় বেড রটিং আসলে গভীর ক্লান্তি, উদ্বেগ বা মানসিক সমস্যার একটি ‘লক্ষণ’ হতে পারে। ব্যক্তি সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার বদলে বিছানায় আশ্রয় নেয়। এতে মূল সমস্যাটি থেকে যায়।
তাহলে বেড রটিং কি ভালো, না খারাপ?
যদি মাঝেমধ্যে করা হয় যেমন সপ্তাহে একদিন দুই ঘণ্টা বিছানায় শুয়ে থাকা তাহলে এটি সত্যিই প্রশান্তিদায়ক হতে পারে। কিন্তু যদি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটাতে হয়, কাজ করতে ইচ্ছা না করে, অনুভূতি ভারী লাগে- তাহলে এটি একটি বিপদ সংকেত হতে পারে।
সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভারসাম্য। বিশ্রাম নিন, কিন্তু জীবন থেকেও পালিয়ে না গিয়ে।
তথ্যসূত্র: ভাইস, থ্রেড, ওয়েব এমডি

নিজের যত্ন বা সেল্ফ কেয়ারের দুনিয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রতি মাসে বা সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আসছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। নিজের যত্নের বেশিরভাগ ধারাগুলো আসছে জেন জি’দের হাত ধরে।
মানসিক চাপে ভরা আজকের জীবনে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের রিচার্জ করার জন্য খুঁজে বেড়াচ্ছে নতুন উপায়। সেই তালিকায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ট্রেন্ড হলো ‘বেড রটিং’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এই অভ্যাসকে ‘উপকারী বিশ্রাম’, কেউ আবার ‘আলসেমির গ্ল্যামারাইজেশন’ বলেও সমালোচনা করছেন। কিন্তু বেড রটিং আসলে কী?
বেড রটিং কী?
সহজ কথায়, বেড রটিং মানে হলো বিছানায় দীর্ঘ সময় ধরে থাকা, প্রয়োজনীয় কাজগুলো এড়িয়ে গিয়ে শরীর ও মনের বিশ্রাম নেওয়া। এটি সাধারণ বিশ্রাম নয়। এখানে কেউ বিছানায় শুয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অনেক সময় ফোন স্ক্রল করে, সিরিজ দেখে, বই পড়ে। আবার কেউ সম্পূর্ণ নীরব পরিবেশে শুয়ে থাকে কোনোকিছু না ভেবে।

জেন জি এই বিষয়টিকে দেখছে এক ধরনের ‘মাইক্রো-রিকভারি রিচ্যুয়াল’ হিসেবে। অর্থাৎ ছোট ছোট বিরতিতে নিজের মানসিক শক্তি ফেরত আনার উপায়।
এটি জনপ্রিয় হলো কেন?
জেন জি’দের জীবনযাত্রা, অনলাইন উপস্থিতি, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, ভবিষ্যত-দুশ্চিন্তা, একাডেমিক চাপ, সম্পর্কের জটিলতা এসব মিলিয়ে এক ধরনের ‘অবিরাম চাপ’ তৈরি করে। তারা এমন একটি সেল্ফ কেয়ার চেয়েছে যেখানে বাড়তি এনার্জি লাগে না, তাদের কেউ না বুঝে জাজ বা বিচার করে না এবং নিজের জায়গায় থেকে নিরাপদ অনুভব করা যায়। এই বিছানা তাদের কাছে হয়ে উঠছে এক ধরনের ‘ইমোশনাল সেফ স্পেস’।
বেড রটিং-এর ভালো দিক: মানসিক বিরতি নেওয়ার সুযোগ
যখন দিনভর ব্যস্ততা বা চাপ জমে যায়, তখন হঠাৎ কিছু না করে শুয়ে থাকা মস্তিষ্কের জন্য বিশাল বিরতি। এই সময়টাতে শরীর রিল্যাক্স হয়, মানসিক গতি কমে এবং কর্টিসল লেভেল স্বাভাবিক হতে পারে।
নিজেকে পুনর্গঠনের সুযোগ
অনেকেই বলেন, বিছানায় ‘রট’ করার সময় তারা চিন্তা করেন না; বরং কিছু না করেই নিজের অনুভূতিগুলো ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে যায়। ব্রেন ওভারলোড থেকে বের হয়ে আসার মতো একটি বিরতি এটি।

সহজলভ্য ও ব্যয়হীন সেল্ফ কেয়ার
কেউ জিমে যেতে বাধ্য নয়, কারো সাথে দেখা করতে হবে না, ব্যয়বহুল থেরাপি লাগবে না- শুধু নিজের ঘরে গিয়ে শান্তভাবে শুয়ে থাকা। তাই এটি অনেকের জন্য সহজ।
‘ওভার প্রডাক্টিভিটি’র চাপ ভাঙার সুযোগ
‘সবসময় ব্যস্ত থাকো’, ‘প্রডাক্টিভ হও’, এমন সামাজিক চাপের বিরুদ্ধে বেড রটিং হয়ে উঠেছে জেন জি’দের একধরনের নীরব প্রতিবাদ করছে। তারা বলছে, ‘বিশ্রামও কাজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’
বেড রটিং-এর মন্দ দিক: দীর্ঘমেয়াদে এনার্জি কমে যেতে পারে
অতিরিক্ত সময় বিছানায় থাকার ফলে শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ কমে যেতে পারে। এতে অলসতা বাড়ে, শরীর ঢিলে হয়ে যায়, এমনকি দিনের কাজে মনোযোগ কমতে পারে।
অভ্যাস হয়ে গেলে ক্লান্তি বাড়তে পারে
যারা নিয়মিত দিনের পর দিন বেড রটিং করেন, তাদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা, বিলম্ব করা বা কাজ পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ফলে নতুন চাপ তৈরি হয়।
ঘুমের রুটিন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি
বিছানা সাধারণত ঘুমের জন্য নির্ধারিত একটি জায়গা। সেখানে অকারণে অনেক সময় কাটালে মস্তিষ্ক ঘুম-সংকেত সঠিকভাবে বোঝে না। ফলে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।

মানসিক সমস্যাকে ঢেকে রাখার ঝোঁক
অনেক সময় বেড রটিং আসলে গভীর ক্লান্তি, উদ্বেগ বা মানসিক সমস্যার একটি ‘লক্ষণ’ হতে পারে। ব্যক্তি সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার বদলে বিছানায় আশ্রয় নেয়। এতে মূল সমস্যাটি থেকে যায়।
তাহলে বেড রটিং কি ভালো, না খারাপ?
যদি মাঝেমধ্যে করা হয় যেমন সপ্তাহে একদিন দুই ঘণ্টা বিছানায় শুয়ে থাকা তাহলে এটি সত্যিই প্রশান্তিদায়ক হতে পারে। কিন্তু যদি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটাতে হয়, কাজ করতে ইচ্ছা না করে, অনুভূতি ভারী লাগে- তাহলে এটি একটি বিপদ সংকেত হতে পারে।
সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভারসাম্য। বিশ্রাম নিন, কিন্তু জীবন থেকেও পালিয়ে না গিয়ে।
তথ্যসূত্র: ভাইস, থ্রেড, ওয়েব এমডি