চরচা ডেস্ক

ভূমিকম্প শব্দটি এখন অনেকের জন্যই আতঙ্কের কারণ। বাংলাদেশে মাঝেমধ্যেই অনুভূত হওয়া ভূকম্পন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর বা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা বা ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা—সব মিলিয়ে অনেক মানুষই ভূমিকম্প-ভীতি বা সিসমোফোবিয়ায় ভুগছেন। এটি এক ধরনের নির্দিষ্ট ফোবিয়া যেখানে ভূমিকম্পের আশঙ্কা, শব্দ বা সামান্য কাঁপুনির চিন্তাও অতিরঞ্জিত ভয়ের জন্ম দেয়।
ভয়টি বাস্তব মনে হলেও, সঠিক উপায়ে মোকাবিলা করলে সিসমোফোবিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
ভয়কে বোঝা প্রথম ধাপ
সিসমোফোবিয়া অযৌক্তিক মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনের আবেগ একেবারে বাস্তব।
অনেক ক্ষেত্রে এই ভয়ের উৎস হলো-
ভয়কে অস্বীকার না করে এটিকে স্বীকার করুন। ‘হ্যাঁ, আমি ভয় পাচ্ছি এবং এটা স্বাভাবিক।’ তাই ভয়কে গ্রহণ করাই তাকে মোকাবিলার প্রথম ধাপ।

সঠিক তথ্য নেওয়া
ভূমিকম্পের ব্যাপারে ভুল তথ্য মানুষকে আরও ভীত করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। বেশির ভাগ কম্পন খুবই হালকা এবং ক্ষতিকর নয়। ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হলে বড় ক্ষতির ঝুঁকি কমে। বিশ্বস্ত উৎস থেকে তথ্য নিলে আতঙ্ক কমে যায়। গুজবমুক্ত, যাচাই করা তথ্যই মনের ভয়কে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনে।
পরিকল্পনা করুন
নিরাপত্তার প্রস্তুতি মানসিক শক্তি বাড়ায়। যেমন, ভূমিকম্প হলে দরজার পাশে না দাঁড়ানো, জানালা ও কাঁচ থেকে দূরে থাকা, মাথা রক্ষা করতে টেবিল বা খাটের নিচে ঢোকা, জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখা ইত্যাদি। ‘আমি প্রস্তুত’, এমন অনুভূতি এনে ভয়কে অনেক কমিয়ে দেয়।
শরীর-মনকে শান্ত করতে সহজ ব্যায়াম
আতঙ্কের সময় শরীরে কর্টিসল বেড়ে যায়, শ্বাস দ্রুত হয়, হাত কাঁপে। সেগুলো কমাতে সাহায্য করতে পারে হলো-
ডিপ ব্রিদিং: ৪ সেকেন্ডে শ্বাস নিন, ৫–৬ সেকেন্ডে ছাড়ুন।
গ্রাউন্ডিং টেকনিক: আশপাশের ৫টি জিনিস দেখুন, ৪টি স্পর্শ করুন, ৩টি শব্দ শুনুন। এই পদ্ধতিতে মস্তিষ্ক বাস্তবে ফিরে আসে।
প্রগ্রেসিভ মাসল রিল্যাক্সেশন: শরীরের বিভিন্ন পেশি শক্ত করে আবার ঢিলা করুন।
এগুলো নিয়মিত করতে পারলে আতঙ্কের তীব্রতা কমে।
নির্দিষ্ট সময়ে খবর দেখার অভ্যাস
বারবার ভূমিকম্প-সংক্রান্ত খবর দেখা ভয়কে আরও জোরালো করে। দিনে নির্দিষ্ট সময়েই খবর দেখার অভ্যাস করুন। এলোমেলো আপডেট এড়িয়ে চললে মস্তিষ্কের অযথা ‘থ্রেট সিগন্যাল’ কমে যায়।
ভূমিকম্প সম্পর্কে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়া
এটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে কার্যকর একটি উপায়। প্রথমে ভূমিকম্প নিয়ে হালকা পড়াশোনা করা। এরপর ভিডিও দেখা। মৃদু কম্পন কেমন অনুভূত হয় জানতে শেখা এ ধরনের অভ্যাস ধীরে ধীরে ভয়কে মস্তিষ্কে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করে।
সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করুন
ভয়ের মুহূর্তে কাউকে পাশে পাওয়া দারুণ কাজ করে। বন্ধু, পরিবার বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিন। কেউ ভয় পাচ্ছে মানে তিনি দুর্বল-এই ধারণা ভুল। বরং ভয় থাকা মানে আপনি নিরাপত্তাবোধকে গুরুত্ব দেন।
ভয় আপনার জীবন ব্যাহত করলে পেশাদার সহায়তা নিন
যদি বারবার প্যানিক অ্যাটাক হয়, রাতে ঘুম ভেঙে যায়, হালকা কম্পনেও ভারী আতঙ্ক হয়, দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়, তাহলে সাইকোলজিস্টের সহায়তা নিন। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ কৌশল সিসমোফোবিয়ায় খুবই কার্যকর।
ভূমিকম্পের ভয় একেবারে প্রাকৃতিক। কিন্তু এই ভয় নিয়ে যদি আপনার স্বাভাবিক জীবনে বাজেভাবে প্রভাব ফেলে, তাহলে তা মোকাবিলা করতে হবে। তথ্য, প্রস্তুতি, শরীর-মনের যত্ন এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তার মাধ্যমে সিসমোফোবিয়া থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। ভূমিকম্পকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। কিন্তু আপনার ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: রেডউড কোস্ট সুনামি ওয়ার্কগ্রুপ

ভূমিকম্প শব্দটি এখন অনেকের জন্যই আতঙ্কের কারণ। বাংলাদেশে মাঝেমধ্যেই অনুভূত হওয়া ভূকম্পন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর বা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা বা ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা—সব মিলিয়ে অনেক মানুষই ভূমিকম্প-ভীতি বা সিসমোফোবিয়ায় ভুগছেন। এটি এক ধরনের নির্দিষ্ট ফোবিয়া যেখানে ভূমিকম্পের আশঙ্কা, শব্দ বা সামান্য কাঁপুনির চিন্তাও অতিরঞ্জিত ভয়ের জন্ম দেয়।
ভয়টি বাস্তব মনে হলেও, সঠিক উপায়ে মোকাবিলা করলে সিসমোফোবিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
ভয়কে বোঝা প্রথম ধাপ
সিসমোফোবিয়া অযৌক্তিক মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনের আবেগ একেবারে বাস্তব।
অনেক ক্ষেত্রে এই ভয়ের উৎস হলো-
ভয়কে অস্বীকার না করে এটিকে স্বীকার করুন। ‘হ্যাঁ, আমি ভয় পাচ্ছি এবং এটা স্বাভাবিক।’ তাই ভয়কে গ্রহণ করাই তাকে মোকাবিলার প্রথম ধাপ।

সঠিক তথ্য নেওয়া
ভূমিকম্পের ব্যাপারে ভুল তথ্য মানুষকে আরও ভীত করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। বেশির ভাগ কম্পন খুবই হালকা এবং ক্ষতিকর নয়। ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হলে বড় ক্ষতির ঝুঁকি কমে। বিশ্বস্ত উৎস থেকে তথ্য নিলে আতঙ্ক কমে যায়। গুজবমুক্ত, যাচাই করা তথ্যই মনের ভয়কে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনে।
পরিকল্পনা করুন
নিরাপত্তার প্রস্তুতি মানসিক শক্তি বাড়ায়। যেমন, ভূমিকম্প হলে দরজার পাশে না দাঁড়ানো, জানালা ও কাঁচ থেকে দূরে থাকা, মাথা রক্ষা করতে টেবিল বা খাটের নিচে ঢোকা, জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখা ইত্যাদি। ‘আমি প্রস্তুত’, এমন অনুভূতি এনে ভয়কে অনেক কমিয়ে দেয়।
শরীর-মনকে শান্ত করতে সহজ ব্যায়াম
আতঙ্কের সময় শরীরে কর্টিসল বেড়ে যায়, শ্বাস দ্রুত হয়, হাত কাঁপে। সেগুলো কমাতে সাহায্য করতে পারে হলো-
ডিপ ব্রিদিং: ৪ সেকেন্ডে শ্বাস নিন, ৫–৬ সেকেন্ডে ছাড়ুন।
গ্রাউন্ডিং টেকনিক: আশপাশের ৫টি জিনিস দেখুন, ৪টি স্পর্শ করুন, ৩টি শব্দ শুনুন। এই পদ্ধতিতে মস্তিষ্ক বাস্তবে ফিরে আসে।
প্রগ্রেসিভ মাসল রিল্যাক্সেশন: শরীরের বিভিন্ন পেশি শক্ত করে আবার ঢিলা করুন।
এগুলো নিয়মিত করতে পারলে আতঙ্কের তীব্রতা কমে।
নির্দিষ্ট সময়ে খবর দেখার অভ্যাস
বারবার ভূমিকম্প-সংক্রান্ত খবর দেখা ভয়কে আরও জোরালো করে। দিনে নির্দিষ্ট সময়েই খবর দেখার অভ্যাস করুন। এলোমেলো আপডেট এড়িয়ে চললে মস্তিষ্কের অযথা ‘থ্রেট সিগন্যাল’ কমে যায়।
ভূমিকম্প সম্পর্কে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়া
এটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে কার্যকর একটি উপায়। প্রথমে ভূমিকম্প নিয়ে হালকা পড়াশোনা করা। এরপর ভিডিও দেখা। মৃদু কম্পন কেমন অনুভূত হয় জানতে শেখা এ ধরনের অভ্যাস ধীরে ধীরে ভয়কে মস্তিষ্কে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করে।
সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করুন
ভয়ের মুহূর্তে কাউকে পাশে পাওয়া দারুণ কাজ করে। বন্ধু, পরিবার বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিন। কেউ ভয় পাচ্ছে মানে তিনি দুর্বল-এই ধারণা ভুল। বরং ভয় থাকা মানে আপনি নিরাপত্তাবোধকে গুরুত্ব দেন।
ভয় আপনার জীবন ব্যাহত করলে পেশাদার সহায়তা নিন
যদি বারবার প্যানিক অ্যাটাক হয়, রাতে ঘুম ভেঙে যায়, হালকা কম্পনেও ভারী আতঙ্ক হয়, দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়, তাহলে সাইকোলজিস্টের সহায়তা নিন। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ কৌশল সিসমোফোবিয়ায় খুবই কার্যকর।
ভূমিকম্পের ভয় একেবারে প্রাকৃতিক। কিন্তু এই ভয় নিয়ে যদি আপনার স্বাভাবিক জীবনে বাজেভাবে প্রভাব ফেলে, তাহলে তা মোকাবিলা করতে হবে। তথ্য, প্রস্তুতি, শরীর-মনের যত্ন এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তার মাধ্যমে সিসমোফোবিয়া থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। ভূমিকম্পকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। কিন্তু আপনার ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: রেডউড কোস্ট সুনামি ওয়ার্কগ্রুপ