ত্বকে আঁচিল থেকে হতে পারে যেসব রোগ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ত্বকে আঁচিল থেকে হতে পারে যেসব রোগ
আঁচিল

ত্বকে হঠাৎ শক্ত বা মোটা আঁচিলের মতো কিছু দেখা গেলে অনেকেই তা সাধারণ আঁচিল ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, সব আঁচিল নিরীহ নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি হতে পারে এমন এক ধরনের ত্বকের সমস্যা, যা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আঁচিল আসলে ত্বকের ওপর অতিরিক্ত শক্ত প্রোটিন (কেরাটিন) জমে তৈরি হয়। এটি দেখতে অনেকটা শক্ত বা শুষ্ক আঁচিলের মতো, কখনো ছোট আবার কখনো বড় হয়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় কিউটেনিয়াস হর্ন।

ইতিহাস

এই রোগের ইতিহাস বেশ পুরনো। প্রথম নথিভুক্ত হয় ১৫৮৮ সালে এক ওয়েলশ মহিলার শরীরে। সেই সময় এমন রোগীদের ‘শিংওয়ালা মানুষ’ বলা হতো। পরে সপ্তদশ শতকে ড্যানিশ বিজ্ঞানী থমাস বার্থোলিন প্রমাণ করেন, এটি আসলে ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, কোনো রহস্যজনক বিষয় নয়।

কারণ ও ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তি, রোদে কাজ করা মানুষ এবং যাদের ত্বক দীর্ঘসময় সূর্যের আলোয় থাকে তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। মুখ, গলা, কান, হাত কিংবা মাথার চামড়ায় এটি বেশি হয়। সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের কোষে ক্ষতি করে, যা সময়ের সঙ্গে কেরাটিন জমে শক্ত আঁচিলের মতো রূপ নেয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. প্যাট্রিক জিটো বলেন, “এই ধরনের আঁচিল দেখতে নিরীহ মনে হলেও অনেক সময় এর নিচে ক্যানসারের কোষ তৈরি হয়। তাই এমন কিছু দেখা গেলে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, ”যদি আঁচিলের নিচে ব্যথা, রক্তপাত, লালচেভাব বা হঠাৎ আকারে বড় হয়ে যাওয়া দেখা দেয়, তবে তা ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।”

চিকিৎসা ও পরামর্শ

প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা এই ধরনের আঁচিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলেন এবং ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে পরীক্ষা করেন। যদি ক্যানসার কোষ না পাওয়া যায়, তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে ক্যানসার শনাক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ”সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা পাওয়া এই রোগ প্রতিরোধের মূল উপায়। এজন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার, টুপি পরা, ছাতা ব্যবহার এবং শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।”

এছাড়া ত্বকে নতুন কোনো আঁচিল দেখা দিলে বা পুরোনো আঁচিলের রঙ, আকার বা পুরুত্ব হঠাৎ বদলে গেলে তা অবহেলা না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই ধরনের আঁচিল পুরোপুরি সেরে যায় এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে যায়। কিন্তু দেরি করলে ত্বকের গভীরে ক্ষতি হতে পারে। তাই নিজের ত্বকের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা এবং নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে।

সম্পর্কিত