
সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!
প্রায়ই শোনা যায় কথাটা। ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিন বা অন্যান্য উৎস থেকে আসা ব্লু লাইট আমাদের ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও এটি বেশ ক্ষতিকর। অবশ্য বিষয়টি সবার জন্য এক নয়। অনেকেরই ব্লু লাইটে ঘুমের বা চোখের সমস্যা হয় না।
তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, ঘুম বা চোখের দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না ঘটালেও ব্লু লাইট আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলা ডিজিটাল স্ক্রিনে চোখ যদি বেশি সময় ধরে রাখেন।
নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং স্লিপ মেডিসিন গবেষক ক্যাথরিন জে. রিড দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম আলোর সংস্পর্শ কীভাবে স্থূলতার ঝুঁকি তৈরি করে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। ২০২৫ সালের একটি স্লিপ মেডিসিন কনফারেন্সে রিড ব্যাখ্যা করেন, আলো মস্তিষ্ককে সংকেত পাঠায়— ‘এখন দিন।’ এর ফলে আপনার শরীর সবসময় একটি ‘লো-লেভেল অ্যালার্ট মোড’ বা হালকা সতর্ক অবস্থায় থাকে। রাতের বেলা আলোর সংস্পর্শে থাকায় আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ ধকল বা ‘স্ট্রেস রেসপন্স’ কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয় না। এটি আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম এলোমেলো করে দিতে পারে। সেটিই ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে।

নীল আলো ও মানসিক চাপের সংযোগ
২০২২ সালে রিড এবং তার সহকর্মীদের পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মাত্র ১০০ লাক্স আলোতে (ডিম লাইট) ঘুমিয়েছেন, তাদের হৃদস্পন্দনের হার সারারাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। গবেষকেরা এক্ষেত্রে ‘হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি’ নামক একটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। এটি মূলত হৃদস্পন্দনের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান পরিমাপ করে, যা আমাদের শরীরের ‘সিমপ্যাথেটিক’ (ফাইট অর ফ্লাইট মোড) এবং ‘প্যারাসিমপ্যাথেটিক’ (বিশ্রাম ও হজম প্রক্রিয়া) স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
যারা আলো জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিলেন, তাদের শরীরে এই ভারসাম্যটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাদের স্ট্রেস রেসপন্স সক্রিয় অবস্থায় ছিল, যা হৃদস্পন্দনের হার বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং ইনসুলিনের প্রতি পেশির স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
কৃত্রিম আলো ও শর্করা
অংশগ্রহণকারীদের রক্তে শর্করার ওপর এর প্রভাব পরীক্ষা করার জন্য গবেষকেরা ‘এইচওএমএ-আইআর’ নামক একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ঘুম থেকে ওঠার ২০ মিনিট পর খালি পেটে রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়, যা শরীরে ইনসুলিন কতটুকু কার্যকরভাবে কাজ করছে তার একটি তাৎক্ষণিক চিত্র তুলে ধরে। যারা আলো জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এই মান ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা মূলত ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’-এর লক্ষণ। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ওজন বৃদ্ধি এবং ডায়াবেটিসের একটি বড় ঝুঁকিপূর্ণ কারণ।

গবেষণায় ‘গ্লকোজ টলারেন্স টেস্ট’-এর মাধ্যমে আরও চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের একটি মিষ্টি পানীয় পান করানোর পর, গবেষকেরা দুই ঘণ্টা ধরে প্রতি ১০ থেকে ৩০ মিনিট অন্তর রক্তের নমুনা নিয়ে গ্লুকোজ এবং ইনসুলিন পরিমাপ করেন। দেখা গেছে, আলো জ্বালিয়ে বা নিভিয়ে ঘুমানো, উভয় ক্ষেত্রেই গ্লুকোজের মাত্রা প্রায় একই ছিল। কিন্তু যারা আলো জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিলেন, তাদের শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা ছিল অনেক বেশি।
এর মানে হলো,ঘুমানোর আগে ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে থাকেন এবং আলো জ্বালিয়ে ঘুমান, তাদের শরীরকে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে এবং বাড়তি ইনসুলিন নিঃসরণ করতে হয়েছে।
এই গবেষণার ফলাফলগুলো রাতের আলোর সংস্পর্শের সাথে ওজন বৃদ্ধির সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য গবেষণার সঙ্গেও মিলে যায়। ৪৩ হাজারেরও বেশি নারীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা টিভি বা আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতেন, তাদের পরবর্তী পাঁচ বছরে ১১ পাউন্ড বা তার বেশি ওজন বাড়ার সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ বেশি ছিল। এমনকি তাদের খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং ঘুমের সময়কাল বিবেচনা করার পরেও।
দিন ও রাতের আলোর প্রভাব
হার্মসেন-এর সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চালানো এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যারা ২৪ ঘণ্টা ধরে কৃত্রিম আলোর (৩০০ লাক্স) সংস্পর্শে থাকার পরিবর্তে প্রাকৃতিক দিনের আলোর চক্রের (দিনের বেলায় ২,০০০ লাক্স পর্যন্ত এবং রাতে অন্ধকার) মধ্যে ছিলেন, তাদের রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ অনেক ভালো ছিল। এছাড়া তাদের চর্বি পোড়ানোর ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছিল, বিশেষ করে দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে।

বায়োপসি এবং জিন এক্সপ্রেশন বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, প্রাকৃতিক আলো তাদের পেশীর অভ্যন্তরীণ ঘড়িগুলোকে সুসংগত করে তোলে, যা ক্ষুধা ও মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২০২৫ সালের একটি গবেষণার পর্যালোচনা অনুযায়ী, অন্যান্য গবেষণাতেও দেখা গেছে যে, সকালের প্রাকৃতিক উজ্জ্বল আলো এবং অন্ধকার রাত কার্ডিও-মেটাবলিক (হৃৎপিণ্ড ও বিপাক সংক্রান্ত) স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।
এই ফলাফলগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের হলেও, রিড ব্লু লাইটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে একটি সহজ পদ্ধতি বলে দিয়েছেন। সকালে বেশি করে প্রাকৃতিক উজ্জ্বল আলোর মাঝে থাকা এবং ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে থেকে আলোর মাত্রা ১০০ লাক্সের নিচে রাখা। পাশাপাশি ঘুমানোর ২ ঘণ্টা আগে থেকে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করা। এ ছাড়া যতটুকু সম্ভব অন্ধকার ঘরে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: এমবডি
সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন
রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি
ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!

সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, সম্রাট শাহজাহানের হেঁশেলেই আজকের মাটন বিরিয়ানির আদি রূপ রান্না হতো। আর এর প্রমাণ মেলে ওই আমলের কুকবুক ‘নুশখা-ই-শাহজাহানি’তে। ‘নি’মতনামা-ই-নাসির শাহি’, ‘আইন-ই-আকবরি’তেও অনেক খাবারের উল্লেখ থাকলেও ‘বিরিয়ানি’ পাওয়া যায় না।

শিশুর ডেঙ্গু হলে করণীয় কী?
অনেক অভিভাবক শুরুতে জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে করে বাড়িতেই চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু ডেঙ্গুতে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে প্লাটিলেট কমে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনি গরিব?
নিয়মিত বেতন পেয়ে মোটামুটি ভালোভাবে জীবনযাপন করলেও কিন্তু আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে। আপনি দৈনন্দিন বিলগুলো হয়তো পরিশোধ করতে পারছেন, কিন্তু হুট করে বড় কোনো খরচ এসে পড়লে সমস্যায় পড়ে যান। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই কাউকে গরিব বলা যায় না। এতে বোঝা যায় যে আপনি আর্থিকভাবে চাপে আছেন।