সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিরোধীদলের মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, সংসদের উচ্চকক্ষের ভূমিকা এবং উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে একাধিক প্রস্তাব এসেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”
আজ শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমন্ত্রিত প্রায় ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মৌখিক ও লিখিতভাবে তাদের মতামত তুলে ধরেন। যারা লিখিত বক্তব্য দিতে পারেননি, তাদের আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে তা জমা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “কমিটির প্রতিটি বৈঠকেই বিরোধীদলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাদের মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা বিবেচনা করা হবে।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া, কর্মপরিধি ও এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনো নির্ধারিত কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়নি। আমরা সবাইকে অনুরোধ করেছি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে তার গঠনপ্রক্রিয়া এবং এখতিয়ার সম্পর্কে যেন সবাই লিখিত বক্তব্য দেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে- সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেটি সংসদের সঙ্গে একই সময়ে বিলুপ্ত না হয়ে থেকে গেলে ওই কক্ষকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করে তাকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার একটি প্রস্তাব এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এছাড়া স্পিকার বাদে অন্যান্য উপদেষ্টাকে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্মতিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা যায় কি না, সে বিষয়েও মতামত এসেছে।”
তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদে আলোচিত প্রস্তাব অনুযায়ী চারটি বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চারটি বিষয় হলো- সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, সরকারের প্রতি আস্থা বা অনাস্থার প্রশ্ন এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের দেশে ইউনিটারি টাইপ অব রিপাবলিক এবং আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ফেডারেল টাইপ যেহেতু নয়, এখানে উচ্চকক্ষের প্রয়োজন আছে কি না, এ বিষয়ে অনেকে বক্তব্য দিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন যে উচ্চকক্ষের প্রয়োজন নেই।”