রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হলে গণতান্ত্রিক চর্চা থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হলে গণতান্ত্রিক চর্চা থাকে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারার সুস্থ চর্চা ফিরিয়ে আনতে চাই।”
আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। এখানে জয়-পরাজয় বিষয় নয়; বিষয় হচ্ছে আমরা একটি ডেমোক্রেটিক প্রসেসকে সামনে নিয়ে আসছি।’’
‘‘সংবিধানের আর্টিকেল ৫৯-এ বলা আছে, রাষ্ট্রের সর্বস্তরের পরিচালনা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হবে। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পদ। এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে গণতান্ত্রিক চর্চা থাকে না। এজন্য আমরা গণতান্ত্রিক ধারাকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনতে চাই।’’
বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দলটির যে ‘দ্বিচারিতা’ রয়েছে, তা তারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান। তিনি বলেন, “গণভোট বাস্তবায়ন করা হলে গণতন্ত্রের সঠিক প্রতিফলন ঘটত। আমরা সবাই মিলে একটি জুলাই সনদ করেছি, তার ওপর আদেশ হয়েছে, গণভোট হয়েছে। কিন্তু সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। যদি তা বাস্তবায়ন হতো, তাহলে সংবিধানের আর্টিকেল ৭০ সংস্কার হতো এবং সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন।’’
‘‘বর্তমানে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার থাকলেও তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। একদিকে ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সেই অধিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। আমরা এই নিয়ন্ত্রিত অবস্থান থেকে জাতিকে মুক্ত করতে চাই। আমরা চাই সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারুক।’’
১১ দলীয় জোট মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদের প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘‘অলি আহমদ এমন একজন মানুষ, যাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি তারা পারতেন, তাহলে আমাদের প্রার্থী—একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাব-সেক্টর কমান্ডার, ছয়বারের এমপি, চারবারের মন্ত্রী, একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ—তিনি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হতে পারতেন। তাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া এবং আর্টিকেল ৭০ বহাল থাকার কারণে সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্র একজন যোগ্য নেতার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য।’’
এর আগে দলটির ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল ইসি সচিব আখতার আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সাবেক মন্ত্রী কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। বিএনপিও এরইমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। ফলে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।