ads

বরিশালে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশালে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের আবাসন ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি কমিশনার আশিক সাঈদ।

সংবাদ সম্মেলনে আশিক সাঈদ বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে থানা পুলিশ, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, সাইবার টিমকে মৌখিকভাবে অভিযুক্তদের নজরে রাখতে বলি। এরপর ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার মামলা করার পরপরই আমরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তদের লোকেশন শনাক্ত করে অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করি।’’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সব সময় জিরো টলারেন্স থাকবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’’

এর আগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনায় বিকেলে পুলিশ কমিশনার মো. আসিক সাঈদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম দাবি করেন, ‘‘মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের কোনো স্তরের নেতা বা কর্মী নন। একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে পরিকল্পিতভাবে তাকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।’’

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ জুন সন্ধ্যায়। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নগরীর সদর রোডের অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার রাতে ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন ব্যক্তি আব্দুল আজিজের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করে দুটি চেক এবং সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিচ্ছেন। এ সময় কক্ষের বাকি সদস্যরা পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তীতে জমির মাধ্যমে তার সব হিসাব চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। এর পরও লিটু অন্যায্যভাবে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘২৭ জুন সন্ধ্যায় লিটুসহ কয়েকজন আমার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরে আমি ব্যাংকে অভিযোগ করায় তারা টাকা তুলতে পারেনি।’’ এই ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে এটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের আগে অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেছিলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। তার পাল্টা অভিযোগ—আব্দুল আজিজ নিজেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

সম্পর্কিত