প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র ফাঁসের অভিযোগে তিনজনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) অরুণাভ চক্রবর্তী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—খুলনা সদর থানার ইস্পাহানি গলির সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী রেশমা খাতুন, মুন্সিপাড়া দ্বিতীয় লেনের বেলালুজ্জামানের স্ত্রী ফেরদৌসী আফরোজ এবং শেখপাড়া মেইন রোডের মো. আবুল হাসান। অন্যদিকে খালাস পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালু মোল্লার ছেলে মাহবুবুর রহমান।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পরীক্ষার উত্তরপত্র মুঠোফোনে পরীক্ষার্থীদের পাঠোনোর কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতে একটি চক্র খুলনায় অবস্থান করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল নগরীর হোটেল রয়্যাল মোড়সহ আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ায়।
পরদিন ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় খবর আসে, চক্রটি ইস্পাহানী লেনের একটি ভবনের চারতলায় অবস্থান করছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা উত্তরপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের তৎকালীন এসআই বাহাউদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোল্লা আব্দুল বারী চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।