নওগাঁয় বোতলভর্তি পেট্রোল ছুঁড়ে মো. পাখি (৩৮) নামের এক যুবকের শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, মাদক মামলার সাক্ষী দেওয়ার কারণে পাখির শরীরে আগুন দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তুতুলকে এরইমধ্যে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আগুনে হাজেরা বেগম (৬০) নামের এক পথচারীও দগ্ধ হন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, দগ্ধ অবস্থায় পাখিকে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। পুকুরিয়া গ্রামের মৃত লাছির উদ্দিনের স্ত্রী হাজেরা বেগম নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা তুতুল পেট্রোলভর্তি একটি বোতলে আগুন ধরিয়ে পাখিকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে। এতে পাখির শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়রা তুতুলকে ধাওয়া করে আটকে পুলিশে খবর দেয়।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, হাত, পা, মুখসহ পাখির শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তুতুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রুহুল আমিন বলেন, গত ২৫ জুলাই গাঁজা ও হেরোইনসহ তুতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। তখন পাখিসহ কয়েকজন সেখানে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় ১০ দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে সাক্ষী ও স্থানীয়দের ওপর ক্ষুব্ধ থাকায় তুতুল এ হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান রুহুল আমিন। তিনি বলেন, হামলার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না এবং এতে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।