ads

সুদানে আরও গভীর খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ডব্লিউএফপির

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সুদানে আরও গভীর খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ডব্লিউএফপির
সুদানের রাজধানী খার্তুম শহরের কেন্দ্রস্থলে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ২৫ জুন ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধ, মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বিঘ্নের কারণে কৃষি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সুদান আরও গভীর ক্ষুধা সংকটের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এতে দেশটির কিছু অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা আবারও উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement

সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে পড়েছে। এই সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ছে এবং ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ রয়টার্সকে বলেন, সুদান এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ জরুরি বা বিপর্যয়কর মাত্রার ক্ষুধার মুখে রয়েছে। ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রমের ফলে দুর্ভিক্ষসদৃশ পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের সংখ্যা কমানো সম্ভব হলেও সংকট এখনো অত্যন্ত গুরুতর।

জাতিসংঘ সমর্থিত আইপিসির (ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন) তথ্য অনুযায়ী, সুদানে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি।

স্কাউ বলেন, উত্তর কর্দোফানের আল-ওবেইদ এলাকায় সাম্প্রতিক লড়াই নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শহরটি দারফুরের আল-ফাশেরের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। সেখানে সংঘাত ও অবরোধের কারণে বেসামরিক মানুষ আটকা পড়েছে এবং ত্রাণ পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ডব্লিউএফপি দারফুর অঞ্চলে গত এক সপ্তাহে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ নিয়েও উদ্বিগ্ন। এর ফলে চাদ থেকে দারফুরে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ—টাইনে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেছে।

সারা দেশে ডব্লিউএফপি গত এক বছরে সহায়তাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে কমিয়ে প্রায় ৩৫ লাখে নামিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে অনেক এলাকায় খাদ্য সহায়তার পরিমাণও কমানো হয়েছে। এর মধ্যে দারফুরের তাওয়িলা এলাকাও রয়েছে।

প্রধান দাতা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ব্রিটেনের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় ডব্লিউএফপি বর্তমানে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের অর্থ ঘাটতির মুখে রয়েছে।

স্কাউ সতর্ক করেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া ও সার সংকট সুদানের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে, বিশেষ করে বর্তমান বপন মৌসুমে।

সুদান কৃষিকাজের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করা সারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অন্যদিকে দেশটির কৃষির বড় অংশ সেচ পাম্পের ওপর নির্ভর করে, যার পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকের পক্ষে তা চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সম্পর্কিত