রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাবেক মেজর মো. সাদেকুল হককে (৩০) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে অসঙ্গতি থাকায় ভাটারা থানার পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. চাঁদ আলীকে গ্রেপ্তারের আবেদনের কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে তলব করেছেন আদালত। এ জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরবর্তীতে বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা চেয়ে তলবের আদেশ দেন আদালত।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল উদ্দীন বলেন, “গত ৭ অগাস্ট এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করলে আজ শুনানির জন্য ধার্য করা হয়।”
এ ঘটনায় গত বছরের ১৩ জুলাই ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক জ্যোতির্ময় মন্ডল বাদী হয়ে এজাহারনামীয় কয়েকজন এবং অজ্ঞাত ৩০০/৪০০ জনের নামে মামলা করেন। ওই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মেজর সাদেকুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকারটির মালিক মো. মনির হোসেন। গত বছরের ১১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাদীর পরিচিত চালক মো. মনির গাড়িটি ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা বিটুমিন গেটের সামনে পার্ক করে বাসায় যান। গভীর রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে গাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে গাড়িটির প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, তৎকালীন সময়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এ অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়। গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি মেজর মো. সাদেকুল হক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে বন্দি রয়েছেন। তদন্তে এ ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
ঘটনার আগে থেকেই আসামি জেল হাজতে বন্দি থাকা সত্ত্বেও কী কারণে বা কোন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলো সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতের হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।