খুলনায় দাদিকে হত্যার অভিযোগে নাতি মো. খলিল মোড়ল ওরফে ইরফানকে (২১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ মঙ্গলবার খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী (উচ্চমান সহকারী) মো. মাজাহারুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইরফান পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকন্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামির মা ফাতেমা খাতুন প্রায়ই দাদি নুর জাহান ওরফে খানো বিবির সম্পত্তি নাতির নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করত। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। এলাকার গণ্যমান্য লোকজন বিভিন্ন সময়ে তাদের পরিবারিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
আসামি ইরফান ছাত্র হলেও খারাপ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই দাদিকে মারধর করত। মা নেশার জন্য ছেলেকে টাকা দিতেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে দাদির ওপর চলত অমানবিক নির্যাতন। ফলে ইরফানকে পুলিশে ধরিয়ে দেয় তার বাবা। পরবর্তীতে ইরফানের মা তাকে পুলিশের কাছে থেকে ছাড়িয়ে আনে। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে নেশার টাকার জন্য বাড়িতে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর করে আসামি ইরফান। সে সময় দাদি তাকে বাধা দেন। নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য ওইদিন বেলা ১২টার দিকে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠলে ইরফানকে বাধা দেন দাদি। দুপুর দেড়টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে ঘটনাস্থলেই দাদির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেবাশীষ দাশ ইরফানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।