গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে আগামী ১৬ আগস্ট শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। স্মারকলিপির একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সুজন।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি অভিযোগ করেন, সরকারি পে-স্কেল ও আমলাতান্ত্রিক বেতন কাঠামোর কারণে শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে। যেখানে একজন সচিবের বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং অফিস সহকারীর বেতন ৪১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বোচ্চ ন্যূনতম মজুরি মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান উর্ধ্বমুখী বাজারদরে প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে শিল্পে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। উৎপাদনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে শ্রমিকদের জীবনধারণের উপযোগী জাতীয় নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালে ঘোষিত মজুরি কাঠামোর মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সরকারের হাতে এখন মাত্র চার মাস সময় রয়েছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা মো. সফিকুল ইসলাম, কামরুন নাহার, তপন সাহা, কামরুজ্জামান ফিরোজ, আবু কালাম, মিজানুর রহমান শিকদার, সাজিয়া রহমান ও মাহমুদা হোসেন মিলি।