বাংলাদেশে আদিবাসী পরিচয় নিয়ে সম্প্রতি দুই মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিছে ইন্টারন্যাশনাল পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন (সিএইচটিসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ক গ্রুপ ফর ইন্ডিজিনাস অ্যাফেয়ার্স (আইডব্লিউজিআইএ)।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘আদিবাসী পরিচয় বাংলাদেশের জন্য অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন হমেদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থা দুটি এই প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “গণমাধ্যমের সূত্রমতে, উক্ত আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন যে বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই এবং সকল নাগরিকের পরিচয় কেবল ‘বাংলাদেশি’।”
একইসঙ্গে তিনি ইউএনডিআরআইপি ও আইএলও কনভেনশন ১৬৯-কে বাংলাদেশের জন্য অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করেন। অন্যদিকে তথ্যমন্ত্রী ‘আদিবাসী’ শব্দটিকে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে আখ্যা দেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দাবি করেন, আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হবে ও ভূখণ্ডের এক-দশমাংশ ছেড়ে দিতে হবে।
যৌথ বিবৃতিতে সংস্থা দুটি এসব বক্তব্যকে ‘অসংগত, ক্ষতিকর ও ভ্রান্ত’ উল্লেখ করে একযোগে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানায়, আদিবাসী পরিচয় ও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরস্পরের বিরোধী নয়। এছাড়া আইএলও কনভেনশন ১০৭, আইসিসিপিআর ও আইসিইএসসিআর অনুস্বাক্ষরকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ বাধ্যবাধকতামূলক প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ।
অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও একাধিকবার ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংস্থা দুটি আরও উল্লেখ করে যে, আদিবাসী অধিকারের আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হলে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ভয় ও শত্রুতার পরিবেশ তৈরি হবে।
পরিস্থিতি নিরসনে সিএইচটিসি ও আইডব্লিউজিআইএ সরকারের প্রতি মন্ত্রীদের বক্তব্য প্রত্যাহার, ‘আদিবাসী’ শব্দের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া, স্ব-শনাক্তকরণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আদিবাসী প্রতিনিধিদের সাথে অর্থপূর্ণ সংলাপের দাবি জানিয়েছে।