সিরিজ শুরুর আগে যা ছিল স্বপ্ন, তিন দিন শেষে সেটাই যেন বাস্তব হওয়ার পথে। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে আরও চেপে ধরে ঐতিহাসিক এক জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে আরেকটি উজ্জ্বল দিনে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজয়ের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে নাজমুল হোসেনের দল।
২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া বোর্ডে জমা করেছে ৪ উইকেটে ১৬১ রান। বাংলাদেশকে দ্বিতীয় দফায় ব্যাট করানোর জন্য করতে হবে আরও ৬৭ রান।
অস্ট্রেলিয়ার এই শতকে দেড়শ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে থেকে ম্যাচ জেতার কীর্তি আছেই মাত্র তিনবার। শেষটি এসেছিল সেই ২০১০ সালে। তাই এখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার জেতার চেয়ে বাংলাদেশের পরাজয়ই হবে বড় অঘটন।
সাম্প্রতিক টেস্ট ফর্ম ভালো হওয়ার পরও ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে সমর্থকরাই ছিলেন চিন্তায়। কত বড় ব্যবধানে হারবে বাংলাদেশ, স্টার্ক-কামিন্সদের সামনে কত রানে অলআউট হতে হবে… এসবই তো ছিল মূল আলোচনার বিষয়।
তবে মাঠের ক্রিকেটে বাংলাদেশ সবাইকে ভুল প্রমাণ করেই চলেছে। দ্বিতীয় দিনের ১৫৩ রানের লিড টেনে নিয়ে গেছে ২২৮ রান পর্যন্ত, যার মূল কৃতিত্ব মেহেদি হাসান মিরাজের। যদিও পার্শ্বচরিত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিন বোলার হাসান, তাইজুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদও।
সপ্তম ও নবম উইকেটে দুটি পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩৮ ওভার ব্যাট করে বোর্ডে জমা পড়ে ৪২৬ রান। গত সাড়ে সাত বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওভারের হিসেবে এটাই সবচেয়ে লম্বা ইনিংস।
বাংলাদেশের এই ম্যারাথন ব্যাটিংয়ে ডারউইনের তীব্র গরমে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা ক্লান্ত হয়ে করেছেন বাজে বল। সেই সুযোগে রয়েসয়ে খেলেই রান বাড়িয়ে নিয়েছেন মিরাজ-হাসানরা।
প্রায় ১৪০ ওভার বোলিং-ফিল্ডিং করে ক্লান্তির একটা প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার ওপর না পড়লে সেটাই হতো অবাক করার মতো ব্যাপার। ইনিংসের শুরুতেই হয়েছেও তাই। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানে হাসানের বলে বোল্ড হন জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড।
সেই ধাক্কার রেশ না কাটতেই প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান চমকে দেন ট্রাভিস হেডকেও। তিনিও বোল্ড আউট হয়ে যান ১৭ রানে। এর মধ্য দিয়ে ১৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে দলটির দুই ওপেনারকেই শিকার করেছেন হাসান।
কিছুটা লড়াই এরপর উপহার দেন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ মিলে। তবে তাদের জুটি জমে যাওয়ার আগে ম্যাচে প্রথম উইকেটের দেখা পান তাইজুল ইসলাম। লাবুশেনও ৩১ রানে ফেরেন বোল্ড হয়ে।
২০০৮ সালের পর এই প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান বোল্ড আউট হয়েছেন। চাপে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে আরও একবার উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তায় স্মিথের কাঁধে। তবে এবার লম্বা হয়নি তার প্রতিরোধ।
মিরাজের বলে তাকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় স্মিথের ৪৪ রানের ইনিংসের। সেই সময়ে মনে হচ্ছিল, তিন দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ।
তবে অস্ট্রেলিয়ার আশার আলো হয়ে আর বিপদ হতে দেননি ক্যামেরন গ্রিন (৪৩) ও অ্যালেক্স কেয়ারি (১৯)। অবিচ্ছিন্ন ৩৯ রানের জুটিতে দিন শেষ করেছেন তারা।