স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপি, বিল খেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনের সংশোধন ও ইউনিয়ন পরিষদের আচরণবিধির প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচন করতে পারবেন কি পারবেন না- এই বিষয়ে কমিশন মনে করে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হয় সে বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।”
সচিব বলেন, “ঋণ খেলাপি বলে যে বিষয়টা আছে, দুটো ক্ষেত্র এখানে হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং গ্যারান্টার। তো যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা, তিনি তো আছেনই। কিন্তু গ্যারান্টার যারা, তাদেরকেও ঋণ খেলাপি হিসেবে অযোগ্য করার একটা প্রস্তাবনায় আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি।”
আখতার আহমেদ বলেন, “এর পাশাপাশি বিল খেলাপি, যেমন-ইলেকট্রিসিটি বিল, ভূমি কর, ওয়াসা, এ ধরনের যে সমস্ত সেবা প্রদানকারী সংস্থায় যদি কোনো বিল খেলাপি থাকে, সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।”
দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আবার দ্বৈত নাগরিকত্বধারী যারা আছেন, কমিশন মনে করে যে তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।”
কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কনস্টিটিউশনে এই জিনিসটা বলা আছে।
লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়েও পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, “লাভজনক পদে, অফিস অব প্রফিট, লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না। আইন সংশোধনের পাশাপাশি আচরণবিধিতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হবে।”
ইসি সচিব বলেন, “আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। এখানে আমরা প্রস্তাব পাঠাব স্থানীয় সরকার বিভাগকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি আমাদেরটা উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে তারা সেভাবে ব্যবস্থা নেবেন।”
আইন চূড়ান্ত করার বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, “আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার আমাদের নেই। আইনের কিছু প্রস্তাবনা আমরা সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগের।”