প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অবনতি না চেয়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নয়াদিল্লিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি ও স্থায়ী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গের উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, সোমবার সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বুয়েটের পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ। তাদের বুঝতে হবে, নিজেদের স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশেরও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। এক বন্ধুর উচিত অন্য বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করা। তাই আমরা চাই তারা ঢাকার স্বার্থের দিকেও সমান গুরুত্ব দেবে। আমরা কোনোভাবেই ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বিনষ্ট করতে চাই না।”
উত্তরাঞ্চলের ৫-৬টি জেলার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে তিস্তা নদী জড়িয়ে থাকার কথা উল্লেখ করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “নদীভাঙনসহ বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত এসব জেলার মানুষের প্রত্যাশা অনেক উঁচুতে। সরকার বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও বিষদ সমীক্ষার ভিত্তিতে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঙ্গীকারবদ্ধ।”
প্রকল্পের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে এর অগ্রগতি তদারকি করছেন। তিস্তা চুক্তি হোক কিংবা মাস্টারপ্ল্যান—জনগণের ভোগান্তি নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য সমন্বিত সমাধানের দিকেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সেমিনারে পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাতের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন, নীতি ও নকশা অনুযায়ী দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই তিস্তা সমস্যার টেকসই ও স্থায়ী সমাধান টানা হবে।