ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা পর্যালোচনা করছে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে এ তথ্য অবহিত করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার কমিটি লোকসভায় তাদের একটি রিপোর্ট পেশ করে। এতে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির নবম প্রতিবেদনে উল্লেখিত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তুলে ধরা হয়। এই সংসদীয় কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর।
অনুপস্থিতিতেই শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হস্তান্তরের অনুরোধের কথা জানতে পেরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারের কাছে হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দিল্লিকে অনুরোধ জানায়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে, নতুন সরকারও নতুন দিল্লির কাছে একই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করে।
বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা তার দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনা করছেন এবং তার নামে বিভিন্ন বিবৃতিও জারি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। তবে মোদি সরকারের দাবি, ভারতে অবস্থানকালে তাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারত সরকার এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে—শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার বা ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের জেরে তৈরি হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে অবস্থান পরিষ্কার করল নয়াদিল্লি।
এতে জোর দিয়ে বলা হয়, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার একটি দীর্ঘদিনের নীতি রয়েছে ভারতের। একই সঙ্গে, কমিটি সুপারিশ করেছে যে—ভারত সরকারের উচিত যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা বজায় রেখে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই নীতিগত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা।